ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বাড়তি ভাড়া আদায় করেও কচ্ছপগতি: ‘কর্ণফুলী-১১’ লঞ্চে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ও ক্ষোপ অনৈতিক শিক্ষা কখনো একটা ভাল জাতি উপহার দিতে পারেনা-অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান এমপি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ: ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে হয়রানী ও বৈষম্যের প্রতিবাদে চার মৌজাবাসীর মানববন্ধন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ: ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে হয়রানী ও বৈষম্যের লিংক রোডে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক তেরখাদায় দলীয় সুবিধা বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ, ক্ষোভে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা পীরগঞ্জে ইয়াবা-ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার নির্বাহী প্রকৌশলী তানজিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন? ‎ মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে কিশোর অপহরণ, উখিয়ায় গ্রেপ্তার ২ উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন
গৃহপরিচারিকার বেতন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির খরচ—সভা-মিটিং, ইন্টারভিউ ও বিশেষ সুবিধায় অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ”

নগদে প্রশাসকের ক্ষমতার অপব্যবহার!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ১২৮ জন সংবাদটি পড়েছেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস “নগদ”-এর প্রশাসকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসক মো. মুতাসেম বিল্লাহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যয়কে “অফিসিয়াল খরচ” হিসেবে দেখিয়ে নিয়মিতভাবে “নগদ” থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি অফিসিয়াল নথি ঘিরে এ বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একটি চিঠিতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের মে মাসের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সেখানে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে গাড়ি ব্যবহার করতে হওয়ার যুক্তি তুলে ধরা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—একজন প্রশাসকের ব্যক্তিগত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কীভাবে প্রতিষ্ঠানের অর্থ থেকে পরিশোধ করা হয়?

অন্যদিকে আরেকটি নথিতে “দৈনিক মজুরি ভিত্তিক গৃহকর্মী” বাবদ অর্থ পরিশোধের আবেদন দেখা গেছে। সেখানে প্রশাসকের ব্যক্তিগত বাসায় কর্মরত গৃহপরিচারিকার বেতন “নগদ”-এর কো-অপারেটিভ অ্যাকাউন্ট থেকে পরিশোধের অনুরোধ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি প্রতিষ্ঠানের অর্থের সরাসরি অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অনৈতিক ব্যবহার।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভা, মিটিং ও অফিসিয়াল ইন্টারভিউ গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রশাসক অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বিশেষ অফিসিয়াল ব্যয় দেখিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে।

সূত্র আরও দাবি করছে, প্রশাসক হিসেবে তিনি প্রতি মাসে একটি বড় অঙ্কের বেতন গ্রহণের পাশাপাশি বোনাস, ইনসেনটিভ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও নিচ্ছেন। একই সঙ্গে “নগদ”-এর খরচে সার্বক্ষণিক গানম্যান বা দেহরক্ষী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। অথচ তিনি মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক (এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের পদে কর্মরত কর্মকর্তাদের জন্য সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত গানম্যান ব্যবহারের সুযোগ বা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

সমালোচকদের ভাষ্য, প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন খাতে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ অপচয় ও অপব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত ব্যয়কে অফিসিয়াল খরচ হিসেবে দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের ঘটনা যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা আর্থিক অনিয়ম ও সুশাসনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।

অর্থনীতি বিশ্লেষক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত ব্যয় প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নৈতিকতা, সুশাসন ও আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে এবং প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে।

তবে এ বিষয়ে প্রশাসক মো. মুতাসেম বিল্লাহর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়তি ভাড়া আদায় করেও কচ্ছপগতি: ‘কর্ণফুলী-১১’ লঞ্চে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ও ক্ষোপ

গৃহপরিচারিকার বেতন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির খরচ—সভা-মিটিং, ইন্টারভিউ ও বিশেষ সুবিধায় অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ”

নগদে প্রশাসকের ক্ষমতার অপব্যবহার!

আপডেট সময় : ১২:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস “নগদ”-এর প্রশাসকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসক মো. মুতাসেম বিল্লাহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যয়কে “অফিসিয়াল খরচ” হিসেবে দেখিয়ে নিয়মিতভাবে “নগদ” থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি অফিসিয়াল নথি ঘিরে এ বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একটি চিঠিতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের মে মাসের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সেখানে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে গাড়ি ব্যবহার করতে হওয়ার যুক্তি তুলে ধরা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—একজন প্রশাসকের ব্যক্তিগত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কীভাবে প্রতিষ্ঠানের অর্থ থেকে পরিশোধ করা হয়?

অন্যদিকে আরেকটি নথিতে “দৈনিক মজুরি ভিত্তিক গৃহকর্মী” বাবদ অর্থ পরিশোধের আবেদন দেখা গেছে। সেখানে প্রশাসকের ব্যক্তিগত বাসায় কর্মরত গৃহপরিচারিকার বেতন “নগদ”-এর কো-অপারেটিভ অ্যাকাউন্ট থেকে পরিশোধের অনুরোধ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি প্রতিষ্ঠানের অর্থের সরাসরি অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অনৈতিক ব্যবহার।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভা, মিটিং ও অফিসিয়াল ইন্টারভিউ গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রশাসক অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বিশেষ অফিসিয়াল ব্যয় দেখিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে।

সূত্র আরও দাবি করছে, প্রশাসক হিসেবে তিনি প্রতি মাসে একটি বড় অঙ্কের বেতন গ্রহণের পাশাপাশি বোনাস, ইনসেনটিভ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও নিচ্ছেন। একই সঙ্গে “নগদ”-এর খরচে সার্বক্ষণিক গানম্যান বা দেহরক্ষী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। অথচ তিনি মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক (এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের পদে কর্মরত কর্মকর্তাদের জন্য সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত গানম্যান ব্যবহারের সুযোগ বা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

সমালোচকদের ভাষ্য, প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন খাতে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ অপচয় ও অপব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত ব্যয়কে অফিসিয়াল খরচ হিসেবে দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের ঘটনা যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা আর্থিক অনিয়ম ও সুশাসনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।

অর্থনীতি বিশ্লেষক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত ব্যয় প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নৈতিকতা, সুশাসন ও আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে এবং প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে।

তবে এ বিষয়ে প্রশাসক মো. মুতাসেম বিল্লাহর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।