ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর

ঘাঘটের ভাঙনে ঝুঁকিতে শহররক্ষা বাঁধ: পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ১১৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

ঘাঘট নদীর অব্যাহত ভাঙনে গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়া সংলগ্ন শহররক্ষা বাঁধের একটি অংশ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। নদীর ভাঙনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরে এলে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে যান গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ.কে.এম. হেদায়েতুল ইসলাম, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. মুশফিকুর রহমান, গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ, জেলা প্রশাসনের নাজির মো. আশরাফুজ্জামান নাহিদ, গাইবান্ধা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমান, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নদীভাঙনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে নদীর সঙ্গে শহররক্ষা বাঁধের দূরত্ব মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুটে নেমে এসেছে। ফলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনের সময় শহররক্ষা বাঁধের ওপর একটি বালুবাহী বাল্কহেড থেকে নামানো বালু স্তুপ করে রাখা দেখতে পান জেলা প্রশাসক। বিষয়টি বাঁধের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শহররক্ষা বাঁধে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ঘাঘট নদীর ভাঙনে শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ে। স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা থেকেই যাবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহররক্ষা বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানানো হয়।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ

ঘাঘটের ভাঙনে ঝুঁকিতে শহররক্ষা বাঁধ: পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ।

আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ঘাঘট নদীর অব্যাহত ভাঙনে গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়া সংলগ্ন শহররক্ষা বাঁধের একটি অংশ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। নদীর ভাঙনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরে এলে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে যান গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ.কে.এম. হেদায়েতুল ইসলাম, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. মুশফিকুর রহমান, গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ, জেলা প্রশাসনের নাজির মো. আশরাফুজ্জামান নাহিদ, গাইবান্ধা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমান, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নদীভাঙনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে নদীর সঙ্গে শহররক্ষা বাঁধের দূরত্ব মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুটে নেমে এসেছে। ফলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনের সময় শহররক্ষা বাঁধের ওপর একটি বালুবাহী বাল্কহেড থেকে নামানো বালু স্তুপ করে রাখা দেখতে পান জেলা প্রশাসক। বিষয়টি বাঁধের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শহররক্ষা বাঁধে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ঘাঘট নদীর ভাঙনে শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ে। স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা থেকেই যাবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহররক্ষা বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানানো হয়।