ঢাকা ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
তথ্য না জেনে লাইভ, যাচাই ছাড়া অভিযোগ: অপসাংবাদিকতার বিস্তার এবং সমাজের জন্য এক নীরব বিপদ। সালাহ উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে টেকনাফে বিক্ষোভ মিছিল, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি!  ফেক ফেসবুক আইডি হতে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করায়  বদলগাছীতে যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন। জলঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও পেশাগত ঐক্য জোরদারের আহ্বান। যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা: স্বামী নূর আলম রূপার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু! উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জিতু। রাজশাহীতে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিক সম্রাট, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইতিহাসের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়তে পারবে বিএনপি? উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে আরসা কমান্ডার নিহত, সন্দেহ আরএসওর সশস্ত্র সদস্যদের।

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা: স্বামী নূর আলম রূপার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

 

 

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুমি আক্তারকে গলা টিপে ও পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান এ রায় ঘোষণা করেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত নূর আলম রূপা নরসিংদীর পলাশ উপজেলার উত্তর মিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আবদুল রহিম মিয়ার ছেলে।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল উপজেলার তালজাঙ্গা গ্রামের মোহাম্মদ ফজলু মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের সঙ্গে নূর আলম রূপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতে থাকেন রূপা।

 

একপর্যায়ে সুমি বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে দিলেও কিছুদিন পর আবারও অতিরিক্ত টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

 

সুমির পরিবার দরিদ্র হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় টাকা দিতে না পারলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে। সংসার টিকিয়ে রাখা এবং সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সুমি বিদেশে পাড়ি জমান। প্রবাসে উপার্জিত অর্থের প্রায় সবটাই তিনি স্বামীর কাছে পাঠাতেন। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি দেশে ফেরেন।

 

দেশে ফিরে স্বামী মোটরসাইকেল কেনার জন্য আবারও টাকার দাবি করেন। এ সময় সুমি বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থের হিসাব চাইলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে নূর আলম রূপা স্ত্রী সুমিকে নির্মমভাবে মারধর ও গলা টিপে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

 

পরদিন ১৯ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে পলাশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ২০ নভেম্বর নিহতের বাবা মোহাম্মদ ফজলু মিয়া বাদী হয়ে পলাশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত আসামি নূর আলম রূপাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

রায়ের মাধ্যমে যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মন্তব্য করেছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

তথ্য না জেনে লাইভ, যাচাই ছাড়া অভিযোগ: অপসাংবাদিকতার বিস্তার এবং সমাজের জন্য এক নীরব বিপদ।

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা: স্বামী নূর আলম রূপার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

আপডেট সময় : ০২:৫৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

 

 

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুমি আক্তারকে গলা টিপে ও পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান এ রায় ঘোষণা করেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত নূর আলম রূপা নরসিংদীর পলাশ উপজেলার উত্তর মিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আবদুল রহিম মিয়ার ছেলে।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল উপজেলার তালজাঙ্গা গ্রামের মোহাম্মদ ফজলু মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের সঙ্গে নূর আলম রূপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতে থাকেন রূপা।

 

একপর্যায়ে সুমি বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে দিলেও কিছুদিন পর আবারও অতিরিক্ত টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

 

সুমির পরিবার দরিদ্র হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় টাকা দিতে না পারলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে। সংসার টিকিয়ে রাখা এবং সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সুমি বিদেশে পাড়ি জমান। প্রবাসে উপার্জিত অর্থের প্রায় সবটাই তিনি স্বামীর কাছে পাঠাতেন। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি দেশে ফেরেন।

 

দেশে ফিরে স্বামী মোটরসাইকেল কেনার জন্য আবারও টাকার দাবি করেন। এ সময় সুমি বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থের হিসাব চাইলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে নূর আলম রূপা স্ত্রী সুমিকে নির্মমভাবে মারধর ও গলা টিপে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

 

পরদিন ১৯ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে পলাশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ২০ নভেম্বর নিহতের বাবা মোহাম্মদ ফজলু মিয়া বাদী হয়ে পলাশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত আসামি নূর আলম রূপাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

রায়ের মাধ্যমে যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মন্তব্য করেছেন।