ঢাকা ০৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর জাতীয়তাবাদী ব্যাটারী চালিত থ্রি-হুইলারযান শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন আবুল হাসান খান

মাকে কাঁধে করে ছেলের ভিক্ষাবৃত্তি।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫৯ জন সংবাদটি পড়েছেন

৭ আগষ্ট ২৬ ক্ষুধার জ্বালা আর মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির যুবক ওবাইদুল মাকে কাঁধে নিয়েই করছে ভিক্ষাবৃত্তি। অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মা নুরবানুকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাঁধে-কোলে-পিঠে করে পাঁচবিবি রেলস্টেশন ও বাজার এলাকায় ভিক্ষার পয়সায় চলে মা-ছেলের জীবন।

 

সারাদিন মাকে কোলে পিঠে বেঁধে নিয়ে ক্লান্ত শরীরে এখানে সেখানে ভিক্ষা শেষে মা-ছেলে স্টেশন ফিরে আসে। কারন মা নুরবানু ও ছেলে ওবাইদুলের কোনো স্থায়ী বাসাবাড়ি নেই। পেটের দায়ে সারাদিন ভিক্ষা শেষে রাত কাটে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের মেঝেতেই। ভিক্ষার টাকায় মিটে তাদের ক্ষুধার জ্বালা।

 

ওবাইদুল জানান, তার মা একসময় স্বাভাবিক ছিলেন। কয়েক বছর আগে মাথায় বড় ঘা হয়ে পোকা হলে সেখান থেকেই স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে মাকে চিকিৎসা করালে কিছুটা সুস্থ হয়। কিন্তু মা আর হাঁটা চলা করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। এমনকি দাঁড়াতে এবং বসে থাকতেও পারে না একা একা।

 

পাবনার ভেড়ামারা এলাকার জয়নাল হোসেনের সঙ্গে নুরবানুর বিয়ে হয়েছিল। আর একটি সংসার নিয়ে জয়নাল স্টেশন কুলিপট্টি তুড়িপাড়ায় বসবাস করে। ওবাইদুল ছোট থাকতেই মা-ছেলের কোনো খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেয় অভিযোগ ওবাইদুলের। অনেক বছর থেকেই মা-ছেলে স্টেশনে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন।

 

ওবাইদুল নিজেই মায়ের গোসল, খাওয়া-দাওয়া, প্রসাব-পায়খানা সবকিছু করে। তিনি বলেন, আমি কাজ করতে পারি। কিন্তু মাকে একা রেখে গেলে কোথায় চলে যাবে তার ঠিক নেই কারন মাথার সমস্যা আছে। বাধ্য হয়ে মা সহ অন্যের নিকট হাত পাততে হয়।

 

এত কষ্টের মাঝেও মাকে ছেড়ে যেতে পারিনা বলে ওবাইদুল। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে তার একটাই চাওয়া মায়ের জন্য যদি একটি হুইলচেয়ার পাওয়া যেত। তাহলে মাকে এভাবে কাঁধে করে ঘুরতে হতো না, মায়ের কষ্টও কিছুটা কম হতো।

 

পাঁচবিবির সাধারণ মানুষের চোখে এই দৃশ্য এখন নিত্যনৈমিত্তিক। কিন্তু একজন সন্তানের মায়ের প্রতি এমন মমতা ও দায়িত্ববোধ সবার নজরে আসে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মা-ছেলের কষ্টের জীবনের অবসান করুক।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

মাকে কাঁধে করে ছেলের ভিক্ষাবৃত্তি।

আপডেট সময় : ১২:৫৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

৭ আগষ্ট ২৬ ক্ষুধার জ্বালা আর মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির যুবক ওবাইদুল মাকে কাঁধে নিয়েই করছে ভিক্ষাবৃত্তি। অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মা নুরবানুকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাঁধে-কোলে-পিঠে করে পাঁচবিবি রেলস্টেশন ও বাজার এলাকায় ভিক্ষার পয়সায় চলে মা-ছেলের জীবন।

 

সারাদিন মাকে কোলে পিঠে বেঁধে নিয়ে ক্লান্ত শরীরে এখানে সেখানে ভিক্ষা শেষে মা-ছেলে স্টেশন ফিরে আসে। কারন মা নুরবানু ও ছেলে ওবাইদুলের কোনো স্থায়ী বাসাবাড়ি নেই। পেটের দায়ে সারাদিন ভিক্ষা শেষে রাত কাটে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের মেঝেতেই। ভিক্ষার টাকায় মিটে তাদের ক্ষুধার জ্বালা।

 

ওবাইদুল জানান, তার মা একসময় স্বাভাবিক ছিলেন। কয়েক বছর আগে মাথায় বড় ঘা হয়ে পোকা হলে সেখান থেকেই স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে মাকে চিকিৎসা করালে কিছুটা সুস্থ হয়। কিন্তু মা আর হাঁটা চলা করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। এমনকি দাঁড়াতে এবং বসে থাকতেও পারে না একা একা।

 

পাবনার ভেড়ামারা এলাকার জয়নাল হোসেনের সঙ্গে নুরবানুর বিয়ে হয়েছিল। আর একটি সংসার নিয়ে জয়নাল স্টেশন কুলিপট্টি তুড়িপাড়ায় বসবাস করে। ওবাইদুল ছোট থাকতেই মা-ছেলের কোনো খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেয় অভিযোগ ওবাইদুলের। অনেক বছর থেকেই মা-ছেলে স্টেশনে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন।

 

ওবাইদুল নিজেই মায়ের গোসল, খাওয়া-দাওয়া, প্রসাব-পায়খানা সবকিছু করে। তিনি বলেন, আমি কাজ করতে পারি। কিন্তু মাকে একা রেখে গেলে কোথায় চলে যাবে তার ঠিক নেই কারন মাথার সমস্যা আছে। বাধ্য হয়ে মা সহ অন্যের নিকট হাত পাততে হয়।

 

এত কষ্টের মাঝেও মাকে ছেড়ে যেতে পারিনা বলে ওবাইদুল। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে তার একটাই চাওয়া মায়ের জন্য যদি একটি হুইলচেয়ার পাওয়া যেত। তাহলে মাকে এভাবে কাঁধে করে ঘুরতে হতো না, মায়ের কষ্টও কিছুটা কম হতো।

 

পাঁচবিবির সাধারণ মানুষের চোখে এই দৃশ্য এখন নিত্যনৈমিত্তিক। কিন্তু একজন সন্তানের মায়ের প্রতি এমন মমতা ও দায়িত্ববোধ সবার নজরে আসে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মা-ছেলের কষ্টের জীবনের অবসান করুক।