কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে মো. ফয়সাল নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে হত্যার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম।
১৫ সেপ্টেম্বর সকালে বড়মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজন যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় কয়েকজনকে মারধর করতে দেখা যায়। পরে ফয়সালকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং ঘটনায় একজনকে আটক করার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, “কেউ অপরাধ করেছে—এমন অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কোনো ব্যক্তি বা জনতার হাতে বিচার তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি বলেন, “ফয়সাল সত্যিই কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন কি না, সেটি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়ার বিষয়। কিন্তু একজন মানুষকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যা করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু একজন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা নয়; এটি আইনের শাসন ও মানবিক মর্যাদার ওপরও আঘাত।”
তিনি আরও বলেন, “চুরি বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। থানা আছে, তদন্ত আছে, আদালত আছে এবং বিচারব্যবস্থা আছে। কোনো অভিযোগের বিচার রাস্তার পাশে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে করা যায় না।”
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব ফয়সালের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ এবং নিহতের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, “অপরাধ দমন করতে গিয়ে আরেকটি অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো—অভিযোগ তদন্ত হবে, অপরাধ প্রমাণ হবে এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার হবে। জনতার হাতে বিচার কোনো সভ্য ও আইনের শাসনভিত্তিক সমাজের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।”
সারাক্ষণ ডেস্ক 









