শেখ হাসিনা সরকারের ১৬ বছরের দীর্ঘস্থায়ী আমলা জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ। ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কও ছিলেন।
এরপর ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জামালপুর-৫ আসন থেকে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে সংসদ সদস্য হয়ে যান।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জামালপুর-৩ (মেলান্দহ- মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আজমের হাত ধরে হঠাৎ করেই জামালপুরের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন আবুল কালাম আজাদ। সে সময়ে দীর্ঘদিনের আওয়ামী রাজনীতিতে যেন আকাশ ভেঙে বজ্রপাত পড়ে। কিন্তু কেউ কিছু বলার সাহস করেননি। নির্বাচনে এক মাস আগে জামালপুর পৌরসভার সামনে মির্জা আজম অডিটরিয়ামে পরিচিত সভা আহ্বান করে দলীয় আবুল কালাম আজাদকে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেন মির্জা আজম (সাবেক এমপি)।
ওই সভায় মির্জা আজম নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে আবুল কালাম আজাদ স্থান পাবেন মন্ত্রিপরিষদে। এই সভায় বক্তব্য রাখতে চাইলে মির্জা আজমের কাছে লাঞ্চিত হন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য মারুফা আক্তার পপি।
এ সময় ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ চৌধুরীকে শেখ হাসিনার ভয় দেখিয়ে বসিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু মির্জা আজমকে তোয়াক্কা না করে প্রার্থী হন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক রেজাউল করিম রেজনু।
রেজাউল করিম রেজনু ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে মির্জা আজমের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ নৌকা প্রতীক নিয়ে বেকায়দায় পড়ে যান। হামলা মামলা দিয়ে রেজনুর কর্মী সমর্থকদের হয়রানিসহ নির্বাচনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় নির্বাচনের একদিন আগে চলে ভোট ডাকাতির পরিকল্পনা। আবুল কালাম আজাদের নির্বাচনে ৫শ কোটি টাকা বাজেট করা হয়েছে। এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে পুরো আসনটিতে। নেতাকর্মীদের মাঝে জেলা আওয়ামী লীগের অফিসে থেকে নির্বাচনের আগের দিন টাকা বিতরণ করা হয়। নির্বাচনের দিন সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বয়কট করে পুনরায় নির্বাচন দাবি করেন রেজাউল করিম রেজনু। সেই ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য হন আবুল কালাম আজাদ।
আবুল কালাম আজাদ কোটাবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন ঠেকাতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। তিনি ৩ আগস্ট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে শহর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আন্দোলন প্রতিহত করার এক সভায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান।তার নির্দেশে গত ৪ আগস্ট জামালপুর নতুন হাইস্কুল মোড়ে ছাত্রদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার (৫ অক্টোবর) ডিবি পুলিশের একটি দল রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। রোববার (৬ অক্টোবর) রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সারাক্ষণ ডেস্ক 



















