ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা প্রতি বছর বিলম্বে পাঠ্যবই ছাপার নেপথ্যে  ৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বাণিজ্য ! নিরপরাধ আ. লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা হারুনের। মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ঘোর বিরোধী দাপুটে তিন বুদ্ধিজীবী। ইয়াবাসহ সুমন নামে এক মাদক কারবারি ডিবির হাতে গ্রেফতার। সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। খুলনা গণপূর্তে দুর্নীতির অদৃশ্য সাম্রাজ্য : উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুরের সাত বছরের অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট ! তিনিই স্বঘোষিত সম্রাট! শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশ ফাউন্ডেশনের শিক্ষা প্রণোদনা বিতরণ। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ১৫টি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সবার শীর্ষে শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ। মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রম কমিটির আগামীদিনের কর্ম পরিকল্পনা ঘোষণা।

‘এনআইডি’ কান্ডে ভয়ংকর প্রতারণা! ভোগান্তির শেষ কোথায়?

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৮৫ জন সংবাদটি পড়েছেন
9

 

 

জুবায়ের ও সামিনা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী, থাকেন কক্সবাজার শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লীতে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যমতে তারা আপন ভাইবোন। মৃত আহমদ আলী ও নাছিমা খাতুনের ছেলে জুবায়ের শ্বশুর মোহাম্মদ আলীকে বাবা ও শাশুড়ি মনিকরা বেগমকে মা সাজিয়ে পরিচয়পত্র হাতিয়ে নিয়েছেন (এনআইডি নাম্বার-১৯২৬৬৫৫২৬৫)।

 

জুবায়ের এনআইডি দিয়ে নানা প্রতারণার কাজ করছেন। একই কাজ করা হচ্ছে বাদল চন্দ্র সরকারের নামের এনআইডি (৮২৭৯০৬৩৩৯) দিয়েও। রাজধানীর ডেমরায় প্রায় ১৬ কোটি টাকার জমি রেজিস্ট্রেশন করার সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এমন ঘটনা ঢাকাসহ সারা দেশেই ঘটছে; ভয়ংকর প্রতারণার ঘটনা।

সংশ্লিষ্টরা সারাক্ষণ বার্তাকে জানায়, একজনের এনআইডি দিয়ে আরেকজন এনআইডি তৈরি করে ফেলছে। স্বামী-স্ত্রী হয়ে যাচ্ছে ভাইবোন। এসবের সঙ্গে একাধিক চক্র সংশ্লিষ্ট। এ অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের; মোটা অঙ্কের টাকা হলেই মিলছে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র। কেউ বয়স পরিবর্তন করছে, কেউ হচ্ছে দ্বৈত ভোটার; জীবন্ত ব্যক্তিকে দেখানো হচ্ছে মৃত। বিদেশে থাকলেও বলা হচ্ছে দেশেই আছে। আবার কেউ নিজের ছবি দিয়ে ব্যবহার করছে অন্যের তথ্য। কেউ ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, খোদ নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত। একাধিক প্রতারক ধরা পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। তারা জানতে পেরেছে, প্রতারকরা রোহিঙ্গাদেরই বেশি ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ সদস্য, নির্বাচন কমিশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মাঠপর্যায়ের দালালচক্র জড়িত। প্রতি এনআইডিতে নেওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম সারাক্ষণ বার্তাকে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির সঙ্গে একাধিক গ্রুপ জড়িত। তারা জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে অপকর্ম করছে। চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযান চলবে। এনআইডি জালিয়াতি বন্ধ করতে আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।’

বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী সেজে ভোটার : বাবা-মা ও স্বামী-স্ত্রী সেজে ভোটার হচ্ছেন অনেকেই। সম্প্রতি কক্সবাজার, ঢাকাসহ কয়েকটি স্থানে এ ধরনের ঘটনা ধরা পড়েছে। কক্সবাজারের দক্ষিণ রুমালিয়ার ছড়ার গরুর হালদা গ্রামের দম্পতি বান্টু ও ছেনুয়ারার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ মুন্না সর্বকনিষ্ঠ। মুন্না তার চাচাশ্বশুর মৃত মোহাম্মদ আলীকে বাবা ও চাচি শাশুড়ি রাশেদা বেগমকে মা সাজিয়ে এনআইডি বানিয়েছে। সে দক্ষিণ সাহিত্যিক পল্লীর বাসিন্দা হোসেন আজাদ ও হোসনে আরা ওরফে অস্ট্রেলিয়ান বুড়িকে চিনে আপন ভাইবোন হিসেবে। কিন্তু হোসনে আরা তার ভাই হোসেন আজাদ ও ভাবি ছায়রা খাতুনকে বাবা-মা সাজিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন। অভিযুক্ত হোসনে আরা বলেন, ‘হোসেন আজাদ ও ছায়রা খাতুন আমার ভাই-ভাবি।’ আইডি কার্ডে তারা বাবা-মা কেন জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন।

২০০২ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আবুল কালাম ও তার স্ত্রী মুছানা খাতুন চার ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লীর গোলুর মার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তারা এলাকাবাসীর কাছে বার্মাইয়া আবুর পরিবার বলে পরিচিত। তারা কখনো ওই এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও যাননি। এই স্বামী-স্ত্রী এখন রাজধানীর ঢাকার বাড্ডার হোল্ডিং নং-১৪৫৯-এর ভোটার। তাদের আলাদা এনআইডি নম্বর আছে। তাদের ছোট ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্টে কর্মরত এবং কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ফুড বিভাগের শিক্ষার্থী। আর তাদের দুই ছেলে মোহাম্মদ ইসমাঈল ও আইয়ূব মালয়েশিয়া থাকে।

একই এলাকার জোবায়েরের আপন ছোট ভাই মো. আমান তার স্ত্রী খতিজা বেগমের বাবা মো. হোছন ও মা রহিমা খাতুনকে নিজের বাবা-মা সাজিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন। এ বিষয়ে জোবায়ের বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমার জন্মদাতা বাবা-মায়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি যাদের কাছে মানুষ হয়েছি তাদের বাবা-মা সাজিয়ে ভোটার হয়েছি। তাদের মেয়েকে আমি বিয়ে করেছি। আমরা চার ভাই ও দুই বোন। আমান ভোটার হয়েছে, বাকিরা এখনো হয়নি।’

ঢাকার খিলগাঁও, উত্তরা, পুরান ঢাকাসহ আরও কিছু এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। আমজাদ হোসেন ও ছেনুয়ারা বেগমও সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তারা আপন ভাইবোন। ছেনুয়ারা বেগম তার শ্বশুর মনির উজ জামানকে বাবা ও শাশুড়ি দিলবাহারকে মা সাজিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েছেন। ২০০৮ সালে এনআইডি নেওয়ার সময় ছেনুয়ারা অবিবাহিত থাকলেও ২০২২ সালে তাদের ছেলে আশরাফুল ইসলাম এনআইডি সংগ্রহ করেছেন। এ বিষয়ে ছেনুয়ারার স্বামী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীর বাবা-মা ছোটবেলায় মারা গেছেন। আমার বাড়িতেই সে বড় হয়। তাই আমার বাবা-মায়ের নাম দিয়ে আমার স্ত্রীর আইডি কার্ড সংগ্রহ করা হয়েছে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছেনুয়ারার প্রকৃত মা এখনো জীবিত। তিনি ওই এলাকায়ই বসবাস করেন।

দুটি সংস্থার গোপন প্রতিবেদন : এনআইডির জালিয়াতির তথ্য পেয়ে মাসখানেক আগে সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে নামে। তারাও জালিয়াতির বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সরকারের শীর্ষ মহলে ও পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ভুয়া এনআইডি তৈরি করে জমি দখল, বিদেশযাত্রাসহ নানা অপকর্ম চালানো হচ্ছে। কয়েক মাস আগে ভুয়া এনআইডি তৈরির চক্রের ২৩ সদস্যকে ধরা হয়েছে। এসব করে তারা কোটি টাকার মালিক হয়েছে। আইয়ুব আলী, মোস্তাকিম, জামসেদুল ইসলাম, রায়হান, রাজু শেখ, শাওন হোসেন নিলয়, ফিরোজ হোসেনের গ্রুপ ভুয়া এনআইডি তৈরি করছে। ঢাকার আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, উত্তরায় কম্পিউটারের দোকান খুলে এসব কাজ করছে তারা। ছয় ঘণ্টার মধ্যে জন্মসনদ তৈরির জন্য ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। তিন দিনে এনআইডি তৈরি করে দিচ্ছে।

নানা উপায়ে এনআইডি ও অপকর্ম : গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছে, রিনা আকতার নামের এক নারী ১০ লাখ টাকা খরচ করে কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করেছেন। ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রোকেয়া আক্তার কেয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাহিত্যিকা পল্লীর এনামুল হক ও জোহরা খাতুনের মেয়ে সাদিয়া আক্তার ওরফে হরই বুড়ির মেয়ে, হোসেন আজাদ ও ছায়রা খাতুনের দুই ছেলে সাদ্দাম হোসাইন ও মোবারক হোসেন; সরাফত আলী ও মাবিয়া খাতুনের চার ছেলে ইউসুফ আরমান, কামাল আরমান, আবদুল আজিজ আরমান, ইউনুস আরমান এবং রহিম সিকদার ও ফরিজা খাতুনের মেয়ে ছেনুয়ারা বেগম; মফিজুর রহমান ও সবুরা খাতুনের তিন ছেলে মো. আলী, আনোয়ার হোসেন ও মো. হোসাইন আলী; মো. ইব্রাাহিম ও মোছা. কাজলীর ছেলে মো. রুবেল; মোহাম্মদ আলম ও জান্নাত আরার দুুই ছেলে আবদুল্লাহ আল নোমান ও মিনহাজুল ইসলাম; মৃত হাবিব উল্লাহ ও হাফেজা খাতুনের ছেলে আরিফুল ইসলাম ও আবদুল হাবিব এবং জরিনা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুছ; শাহ আলম ও সালমা বেগমের ছেলে মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন; পল্ল্যানিয়া কাটা গ্রামের লাল মিয়া ও ফাতেমা খাতুনের তিন ছেলে ও এক মেয়ে আবুল হাশেম, আবুল কাশেম, ছৈয়দ কাশেম এবং ইয়াছমিন আক্তার; আবুল হাশেম ও আনজুমান আরার দুই ছেলে মিজানুর রহমান সিফাত ও আনিসুর রহমান; মোজাহের আহমদ ও গোলজার বেগমের ছেলে কামাল হোসেন ও মো. হোছাইন এবং গোল মেহেরের ছেলে হাবিবুর রহমান ও তার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে জাগির হোছেন, ইমাম হোছেন, ফিরোজা বেগম, নুর বেগম ও আমিনা খাতুন; ফজল আহমদ ও ফিরোজা বেগমের মেয়ে নাছিমা আকতার; সোনা আলী ও ধয়া বিবির মেয়ে জুহুরা বেগম; আলতাফ হোসেন ও ছমুদা খাতুনের দুই মেয়ে রহিমা বেগম ও মাহাবু বেগম; আবুল হোসেন ও মেহেরুর মেয়ে ইসমত আরা; নুরুল ইসলাম ও তৈয়বার এক ছেলে ও এক মেয়ে মাহবুবুর রহমান ও সানজিদা আকতার সাথী; মোহাম্মদ সুলতান ও আছিয়া খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ আজিজুর রহমান; আবুল হোছন ও আনোয়ারা বেগমের মেয়ে মিনা আকতার; হাবিব উল্লাহ ও খালেদা বেগমের ছেলে দেলুয়ার হোছন এবং সিকদারপাড়ার মো. ইদ্রিসের স্ত্রী মমতাজ বেগম দুই শতাধিক ভুয়া এনআইডি তৈরি করেছেন।

আলোর মুখ দেখছে না প্রতিবেদন : নানা ফন্দি-ফিকিরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় জোগাড় করা হয়েছে পরিচয়পত্র। পরিচয়পত্রধারী ৮০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে ২০২৪ সালের জুনে তদন্তে নামে নির্বাচন কমিশন ও দুদক। এখনো তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। সচেতন নাগরিক পরিচয়ে তদন্তপূর্বক পরিচয়পত্র বাতিলের দাবিতে ২০২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ও ১ অক্টোবর রোহিঙ্গারা কৌশলে বাংলাদেশি ভোটার হয়েছে মর্মে দুটি চিঠি আসে নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ না দেখায় হতাশা দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য : কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল আলম বলেন, ‘গত এক বছরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৪৭ ও ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে আমাদের কাছে দুটি তালিকা পাঠানো হয়। ৪৭ জনের নাম থাকা প্রথম তালিকাটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শেষভাগে আমাদের হাতে আসে। ওই তালিকায় থাকা লোকজনের ভোটার হওয়ার সব তথ্য সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আমরা সবার জন্য চিঠি ইস্যু করি। যদিও অনেককেই আমরা খুঁজে পাইনি। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর গঠিত তদন্ত কমিটি আমাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি। কিছু ডকুমেন্ট এখনো আমাদের কাছে রয়েছে। ৪৭ জনের তালিকা বিষয়ক কমিটি ঢাকায় কাজ করছে।

দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী জনকল্যাণ সোসাইটির সভাপতি হোসাইন আলী সারাক্ষণ বার্তাকে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছে অনেকেই। এর জন্য দায়ী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ব্যক্তিকে শনাক্ত করা, প্রত্যয়নপত্র দেওয়া ও যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য তারা। এখানে সমাজ কমিটির কোনো কাজ নেই।’ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ওমর ছিদ্দিক লালু বলেন, ‘আপনি যাদের নাম বলেছেন তাদের হয়তো সামনে দেখলে চিনতে পারব। এভাবে চিনতে পারছি না। তারা ভোটার হয়েছে কি না, আমার জানা নেই।’ ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর ইয়াসমিন আকতার বলেন, ‘তালিকাটির কথা কথা শুনেছি। তাদের চিঠি দিয়ে জেলা নির্বাচন কমিশনে ডাকা হয়েছিল। তবে পটপরিবর্তনের কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের শুনানি হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘তালিকার দুুই-তৃতীয়াংশ লোক রোহিঙ্গা এটা সত্য। তারা কীভাবে ভোটার হয়েছে আমার জানা নেই।’

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা

‘এনআইডি’ কান্ডে ভয়ংকর প্রতারণা! ভোগান্তির শেষ কোথায়?

আপডেট সময় : ০৪:২২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
9

 

 

জুবায়ের ও সামিনা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী, থাকেন কক্সবাজার শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লীতে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যমতে তারা আপন ভাইবোন। মৃত আহমদ আলী ও নাছিমা খাতুনের ছেলে জুবায়ের শ্বশুর মোহাম্মদ আলীকে বাবা ও শাশুড়ি মনিকরা বেগমকে মা সাজিয়ে পরিচয়পত্র হাতিয়ে নিয়েছেন (এনআইডি নাম্বার-১৯২৬৬৫৫২৬৫)।

 

জুবায়ের এনআইডি দিয়ে নানা প্রতারণার কাজ করছেন। একই কাজ করা হচ্ছে বাদল চন্দ্র সরকারের নামের এনআইডি (৮২৭৯০৬৩৩৯) দিয়েও। রাজধানীর ডেমরায় প্রায় ১৬ কোটি টাকার জমি রেজিস্ট্রেশন করার সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এমন ঘটনা ঢাকাসহ সারা দেশেই ঘটছে; ভয়ংকর প্রতারণার ঘটনা।

সংশ্লিষ্টরা সারাক্ষণ বার্তাকে জানায়, একজনের এনআইডি দিয়ে আরেকজন এনআইডি তৈরি করে ফেলছে। স্বামী-স্ত্রী হয়ে যাচ্ছে ভাইবোন। এসবের সঙ্গে একাধিক চক্র সংশ্লিষ্ট। এ অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের; মোটা অঙ্কের টাকা হলেই মিলছে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র। কেউ বয়স পরিবর্তন করছে, কেউ হচ্ছে দ্বৈত ভোটার; জীবন্ত ব্যক্তিকে দেখানো হচ্ছে মৃত। বিদেশে থাকলেও বলা হচ্ছে দেশেই আছে। আবার কেউ নিজের ছবি দিয়ে ব্যবহার করছে অন্যের তথ্য। কেউ ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, খোদ নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত। একাধিক প্রতারক ধরা পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। তারা জানতে পেরেছে, প্রতারকরা রোহিঙ্গাদেরই বেশি ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ সদস্য, নির্বাচন কমিশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মাঠপর্যায়ের দালালচক্র জড়িত। প্রতি এনআইডিতে নেওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম সারাক্ষণ বার্তাকে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির সঙ্গে একাধিক গ্রুপ জড়িত। তারা জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে অপকর্ম করছে। চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযান চলবে। এনআইডি জালিয়াতি বন্ধ করতে আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।’

বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী সেজে ভোটার : বাবা-মা ও স্বামী-স্ত্রী সেজে ভোটার হচ্ছেন অনেকেই। সম্প্রতি কক্সবাজার, ঢাকাসহ কয়েকটি স্থানে এ ধরনের ঘটনা ধরা পড়েছে। কক্সবাজারের দক্ষিণ রুমালিয়ার ছড়ার গরুর হালদা গ্রামের দম্পতি বান্টু ও ছেনুয়ারার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ মুন্না সর্বকনিষ্ঠ। মুন্না তার চাচাশ্বশুর মৃত মোহাম্মদ আলীকে বাবা ও চাচি শাশুড়ি রাশেদা বেগমকে মা সাজিয়ে এনআইডি বানিয়েছে। সে দক্ষিণ সাহিত্যিক পল্লীর বাসিন্দা হোসেন আজাদ ও হোসনে আরা ওরফে অস্ট্রেলিয়ান বুড়িকে চিনে আপন ভাইবোন হিসেবে। কিন্তু হোসনে আরা তার ভাই হোসেন আজাদ ও ভাবি ছায়রা খাতুনকে বাবা-মা সাজিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন। অভিযুক্ত হোসনে আরা বলেন, ‘হোসেন আজাদ ও ছায়রা খাতুন আমার ভাই-ভাবি।’ আইডি কার্ডে তারা বাবা-মা কেন জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন।

২০০২ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আবুল কালাম ও তার স্ত্রী মুছানা খাতুন চার ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লীর গোলুর মার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তারা এলাকাবাসীর কাছে বার্মাইয়া আবুর পরিবার বলে পরিচিত। তারা কখনো ওই এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও যাননি। এই স্বামী-স্ত্রী এখন রাজধানীর ঢাকার বাড্ডার হোল্ডিং নং-১৪৫৯-এর ভোটার। তাদের আলাদা এনআইডি নম্বর আছে। তাদের ছোট ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্টে কর্মরত এবং কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ফুড বিভাগের শিক্ষার্থী। আর তাদের দুই ছেলে মোহাম্মদ ইসমাঈল ও আইয়ূব মালয়েশিয়া থাকে।

একই এলাকার জোবায়েরের আপন ছোট ভাই মো. আমান তার স্ত্রী খতিজা বেগমের বাবা মো. হোছন ও মা রহিমা খাতুনকে নিজের বাবা-মা সাজিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন। এ বিষয়ে জোবায়ের বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমার জন্মদাতা বাবা-মায়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি যাদের কাছে মানুষ হয়েছি তাদের বাবা-মা সাজিয়ে ভোটার হয়েছি। তাদের মেয়েকে আমি বিয়ে করেছি। আমরা চার ভাই ও দুই বোন। আমান ভোটার হয়েছে, বাকিরা এখনো হয়নি।’

ঢাকার খিলগাঁও, উত্তরা, পুরান ঢাকাসহ আরও কিছু এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। আমজাদ হোসেন ও ছেনুয়ারা বেগমও সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তারা আপন ভাইবোন। ছেনুয়ারা বেগম তার শ্বশুর মনির উজ জামানকে বাবা ও শাশুড়ি দিলবাহারকে মা সাজিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েছেন। ২০০৮ সালে এনআইডি নেওয়ার সময় ছেনুয়ারা অবিবাহিত থাকলেও ২০২২ সালে তাদের ছেলে আশরাফুল ইসলাম এনআইডি সংগ্রহ করেছেন। এ বিষয়ে ছেনুয়ারার স্বামী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীর বাবা-মা ছোটবেলায় মারা গেছেন। আমার বাড়িতেই সে বড় হয়। তাই আমার বাবা-মায়ের নাম দিয়ে আমার স্ত্রীর আইডি কার্ড সংগ্রহ করা হয়েছে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছেনুয়ারার প্রকৃত মা এখনো জীবিত। তিনি ওই এলাকায়ই বসবাস করেন।

দুটি সংস্থার গোপন প্রতিবেদন : এনআইডির জালিয়াতির তথ্য পেয়ে মাসখানেক আগে সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে নামে। তারাও জালিয়াতির বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সরকারের শীর্ষ মহলে ও পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ভুয়া এনআইডি তৈরি করে জমি দখল, বিদেশযাত্রাসহ নানা অপকর্ম চালানো হচ্ছে। কয়েক মাস আগে ভুয়া এনআইডি তৈরির চক্রের ২৩ সদস্যকে ধরা হয়েছে। এসব করে তারা কোটি টাকার মালিক হয়েছে। আইয়ুব আলী, মোস্তাকিম, জামসেদুল ইসলাম, রায়হান, রাজু শেখ, শাওন হোসেন নিলয়, ফিরোজ হোসেনের গ্রুপ ভুয়া এনআইডি তৈরি করছে। ঢাকার আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, উত্তরায় কম্পিউটারের দোকান খুলে এসব কাজ করছে তারা। ছয় ঘণ্টার মধ্যে জন্মসনদ তৈরির জন্য ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। তিন দিনে এনআইডি তৈরি করে দিচ্ছে।

নানা উপায়ে এনআইডি ও অপকর্ম : গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছে, রিনা আকতার নামের এক নারী ১০ লাখ টাকা খরচ করে কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করেছেন। ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রোকেয়া আক্তার কেয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাহিত্যিকা পল্লীর এনামুল হক ও জোহরা খাতুনের মেয়ে সাদিয়া আক্তার ওরফে হরই বুড়ির মেয়ে, হোসেন আজাদ ও ছায়রা খাতুনের দুই ছেলে সাদ্দাম হোসাইন ও মোবারক হোসেন; সরাফত আলী ও মাবিয়া খাতুনের চার ছেলে ইউসুফ আরমান, কামাল আরমান, আবদুল আজিজ আরমান, ইউনুস আরমান এবং রহিম সিকদার ও ফরিজা খাতুনের মেয়ে ছেনুয়ারা বেগম; মফিজুর রহমান ও সবুরা খাতুনের তিন ছেলে মো. আলী, আনোয়ার হোসেন ও মো. হোসাইন আলী; মো. ইব্রাাহিম ও মোছা. কাজলীর ছেলে মো. রুবেল; মোহাম্মদ আলম ও জান্নাত আরার দুুই ছেলে আবদুল্লাহ আল নোমান ও মিনহাজুল ইসলাম; মৃত হাবিব উল্লাহ ও হাফেজা খাতুনের ছেলে আরিফুল ইসলাম ও আবদুল হাবিব এবং জরিনা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুছ; শাহ আলম ও সালমা বেগমের ছেলে মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন; পল্ল্যানিয়া কাটা গ্রামের লাল মিয়া ও ফাতেমা খাতুনের তিন ছেলে ও এক মেয়ে আবুল হাশেম, আবুল কাশেম, ছৈয়দ কাশেম এবং ইয়াছমিন আক্তার; আবুল হাশেম ও আনজুমান আরার দুই ছেলে মিজানুর রহমান সিফাত ও আনিসুর রহমান; মোজাহের আহমদ ও গোলজার বেগমের ছেলে কামাল হোসেন ও মো. হোছাইন এবং গোল মেহেরের ছেলে হাবিবুর রহমান ও তার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে জাগির হোছেন, ইমাম হোছেন, ফিরোজা বেগম, নুর বেগম ও আমিনা খাতুন; ফজল আহমদ ও ফিরোজা বেগমের মেয়ে নাছিমা আকতার; সোনা আলী ও ধয়া বিবির মেয়ে জুহুরা বেগম; আলতাফ হোসেন ও ছমুদা খাতুনের দুই মেয়ে রহিমা বেগম ও মাহাবু বেগম; আবুল হোসেন ও মেহেরুর মেয়ে ইসমত আরা; নুরুল ইসলাম ও তৈয়বার এক ছেলে ও এক মেয়ে মাহবুবুর রহমান ও সানজিদা আকতার সাথী; মোহাম্মদ সুলতান ও আছিয়া খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ আজিজুর রহমান; আবুল হোছন ও আনোয়ারা বেগমের মেয়ে মিনা আকতার; হাবিব উল্লাহ ও খালেদা বেগমের ছেলে দেলুয়ার হোছন এবং সিকদারপাড়ার মো. ইদ্রিসের স্ত্রী মমতাজ বেগম দুই শতাধিক ভুয়া এনআইডি তৈরি করেছেন।

আলোর মুখ দেখছে না প্রতিবেদন : নানা ফন্দি-ফিকিরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় জোগাড় করা হয়েছে পরিচয়পত্র। পরিচয়পত্রধারী ৮০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে ২০২৪ সালের জুনে তদন্তে নামে নির্বাচন কমিশন ও দুদক। এখনো তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। সচেতন নাগরিক পরিচয়ে তদন্তপূর্বক পরিচয়পত্র বাতিলের দাবিতে ২০২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ও ১ অক্টোবর রোহিঙ্গারা কৌশলে বাংলাদেশি ভোটার হয়েছে মর্মে দুটি চিঠি আসে নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ না দেখায় হতাশা দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য : কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল আলম বলেন, ‘গত এক বছরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৪৭ ও ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে আমাদের কাছে দুটি তালিকা পাঠানো হয়। ৪৭ জনের নাম থাকা প্রথম তালিকাটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শেষভাগে আমাদের হাতে আসে। ওই তালিকায় থাকা লোকজনের ভোটার হওয়ার সব তথ্য সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আমরা সবার জন্য চিঠি ইস্যু করি। যদিও অনেককেই আমরা খুঁজে পাইনি। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর গঠিত তদন্ত কমিটি আমাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি। কিছু ডকুমেন্ট এখনো আমাদের কাছে রয়েছে। ৪৭ জনের তালিকা বিষয়ক কমিটি ঢাকায় কাজ করছে।

দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী জনকল্যাণ সোসাইটির সভাপতি হোসাইন আলী সারাক্ষণ বার্তাকে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছে অনেকেই। এর জন্য দায়ী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ব্যক্তিকে শনাক্ত করা, প্রত্যয়নপত্র দেওয়া ও যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য তারা। এখানে সমাজ কমিটির কোনো কাজ নেই।’ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ওমর ছিদ্দিক লালু বলেন, ‘আপনি যাদের নাম বলেছেন তাদের হয়তো সামনে দেখলে চিনতে পারব। এভাবে চিনতে পারছি না। তারা ভোটার হয়েছে কি না, আমার জানা নেই।’ ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর ইয়াসমিন আকতার বলেন, ‘তালিকাটির কথা কথা শুনেছি। তাদের চিঠি দিয়ে জেলা নির্বাচন কমিশনে ডাকা হয়েছিল। তবে পটপরিবর্তনের কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের শুনানি হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘তালিকার দুুই-তৃতীয়াংশ লোক রোহিঙ্গা এটা সত্য। তারা কীভাবে ভোটার হয়েছে আমার জানা নেই।’