ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর

নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ! তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

 

সুনামগঞ্জে এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন-এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, ঘুষ লেনদেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) করা অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় এক ব্যক্তিকে সুরমা নদীতে ফেলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শহরের পূর্ব তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো: মোছাদ্দেক আলী গত ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সুনামগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ)-এর নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যার অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিলেট বিভাগসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে মোছাদ্দেক আলী উল্লেখ করেন যে, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন যোগদানের পর থেকেই ঘুষ, দুর্নীতি ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অর্থ উপার্জন করছেন এবং তাঁর ও তাঁর অধীনস্থ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

মোছাদ্দেক আলী জানান, দুর্নীতির বিষয়ে তিনি পূর্বে দুদকে অভিযোগ করেছিলেন। সেই সূত্রে গত ৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁকে অফিসে ডেকে পাঠান। সেখানে অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে তাঁকে পিটিয়ে পুলিশে দেওয়া হবে এবং সরাসরি সুরমা নদীতে ফেলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

মো: মোছাদ্দেক আলী স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি বিজ্ঞ আদালতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের নিকট এই অভিযোগ দায়ের করেন।

তবে, মামলার আদেশের (স্মারক নং- ৩৫২/২০২৫) সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী মো: মোছাদ্দেক আলী-কে তাঁর অভিযোগের বিপরীতে একটি নতুন মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিয়ে নথির কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

১৬/০৯/২০২৫ তারিখের আদেশে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) উল্লেখ করেন, “উপস্থিত অভিযোগকারীর সাথে আলোচনা হয়। অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন-এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতীয়মান হয় যে তিনি মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধীয় বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে সম্মত নন।”

অতএব, “এমতাবস্থায়, দরখাস্তকারীকে বিরোধী বিষয়ে মামলা দায়েরের পরামর্শ প্রদানে নথির কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হলো।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সারাক্ষণ বার্তাকে জানান “সে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে বলে আমি ডেকে জিজ্ঞেস করেছি কেন অভিযোগ করেছে। আমি শুধু ধমক দিয়েছি, ভয়ভীতি বা অন্য কিছু করিনি।”

অন্যদিকে, অভিযোগকারী মোছাদ্দেক আলী জানান, “ইঞ্জিনিয়ার স্যার আমাকে বলেন, দেশে এত মানুষ থাকতে তুমি কেনো দুর্নীতি দমন করতে আসছো? তোমার এত বড় সাহস কে দিয়েছে? এই বলে স্যার আমাকে হুমকি-ধমকি দেন।”

বাদী মোছাদ্দেক আলী নির্বাহী প্রকৌশলী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন, যাতে এলজিইডি অফিসে চলমান দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হয়।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ

নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ! তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা।

আপডেট সময় : ০৮:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

 

 

সুনামগঞ্জে এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন-এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, ঘুষ লেনদেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) করা অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় এক ব্যক্তিকে সুরমা নদীতে ফেলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শহরের পূর্ব তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো: মোছাদ্দেক আলী গত ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সুনামগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ)-এর নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যার অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিলেট বিভাগসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে মোছাদ্দেক আলী উল্লেখ করেন যে, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন যোগদানের পর থেকেই ঘুষ, দুর্নীতি ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অর্থ উপার্জন করছেন এবং তাঁর ও তাঁর অধীনস্থ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

মোছাদ্দেক আলী জানান, দুর্নীতির বিষয়ে তিনি পূর্বে দুদকে অভিযোগ করেছিলেন। সেই সূত্রে গত ৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁকে অফিসে ডেকে পাঠান। সেখানে অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে তাঁকে পিটিয়ে পুলিশে দেওয়া হবে এবং সরাসরি সুরমা নদীতে ফেলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

মো: মোছাদ্দেক আলী স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি বিজ্ঞ আদালতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের নিকট এই অভিযোগ দায়ের করেন।

তবে, মামলার আদেশের (স্মারক নং- ৩৫২/২০২৫) সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী মো: মোছাদ্দেক আলী-কে তাঁর অভিযোগের বিপরীতে একটি নতুন মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিয়ে নথির কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

১৬/০৯/২০২৫ তারিখের আদেশে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) উল্লেখ করেন, “উপস্থিত অভিযোগকারীর সাথে আলোচনা হয়। অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন-এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতীয়মান হয় যে তিনি মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধীয় বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে সম্মত নন।”

অতএব, “এমতাবস্থায়, দরখাস্তকারীকে বিরোধী বিষয়ে মামলা দায়েরের পরামর্শ প্রদানে নথির কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হলো।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সারাক্ষণ বার্তাকে জানান “সে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে বলে আমি ডেকে জিজ্ঞেস করেছি কেন অভিযোগ করেছে। আমি শুধু ধমক দিয়েছি, ভয়ভীতি বা অন্য কিছু করিনি।”

অন্যদিকে, অভিযোগকারী মোছাদ্দেক আলী জানান, “ইঞ্জিনিয়ার স্যার আমাকে বলেন, দেশে এত মানুষ থাকতে তুমি কেনো দুর্নীতি দমন করতে আসছো? তোমার এত বড় সাহস কে দিয়েছে? এই বলে স্যার আমাকে হুমকি-ধমকি দেন।”

বাদী মোছাদ্দেক আলী নির্বাহী প্রকৌশলী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন, যাতে এলজিইডি অফিসে চলমান দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হয়।