ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকবে না- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দর্শনার বারাদি সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ ভারতীয় নারী- পুরুষ ও শিশু আটক। চট্টগ্রামে বসতঘরে মিললো ১২ ফুট লম্বা অজগর, উদ্ধার করে অবমুক্ত। নৌ-প্রতিমন্ত্রী হয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লুটেছেন খালেদ মাহমুদ চৌধুরী!  বাড়তি ভাড়া ঠেকাতে হোসেনপুরে প্রশাসনের অভিযান, সিএনজি জব্দ। মহাদেবপুরে পারিবারিক বিরোধে দুইভাইকে মারপিটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন। কিশোরগঞ্জে পরকীয়ার জেরে হত্যা, ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার,পুলিশের বড় সাফল্য। অসংতিপূর্ণ টেন্ডার কার্যক্রমে বিসিকের বেহালদশা , প্রকল্প পরিচালক হাফিজুর রহমান এর বুদ্ধিভিত্তিক অনাচার।জনমনে ক্ষোভ। চিলমারীতে “আবাসিক হোটেলে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ” হোটেল মালিক আটক। দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত জন্মবার্ষিকী পালিত।

জীবন্ত অসাম্প্রদায়িকতার ইতিকথন: চুকনগর জেনোসাইড।যেন গল্পকেও হার মানায়।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০৮ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

 

মানবিক পিতার , মানবিকতা গল্প নহে সত্য!

ধর্ম মানুষ কে মানবতা শিখায়, হিংসা নহে কভু।

এক মহান মানুষ এরশাদ আলী মোড়লের পিতৃস্নেহ এবং ১৯৭১ সালে খুলনার চুকনগর গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া দুগ্ধপোষ্য সুন্দরীবালার জীবনালেখ্য যেন মানবিকতা এক অনন্য উদাহরণ।যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে যায় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন।

এক মহান পিতা ১৯৭১ সালের ২১ মে চুকনগরের লাশের স্তূপ থেকে বুকে তুলে নেন পাকিস্তানী বর্বরতায় সদ্য অনাথ এক ৫/৬ মাসের দুগ্ধপোষ্য কন্যাশিশুকে! তাকে নিয়ে রচিত হয়েছে মানবতার এক অমর গাথা আজ খুলনাবাসীর মুখে মুখে।

নিজের বাড়িতে আজান,নামাজ কোরান পড়ার পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারে জন্ম নেয়া শিশুটিকে পূজা অর্চনার মাধ্যমে তার পারিবারিক রীতিতে বড়ো করলেন, বিয়ে ও দিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী পাত্রের সাথে।

একাত্তরের ২০ মে বাড়িতে নিয়ে আদর, যত্ন, ভালোবাসায় পিতৃস্নেহে বড়ো করে বিয়ে দিলেন অচেনা সেই অনাথ শিশুকে।

সনাতন ধর্মের সাথে মিল রেখে নাম রেখেছিলেন রাজকুমারী সুন্দরীবালা।

বাড়ির কোণে ঠাকুরঘর তৈরি করে উঠোনে তুলসী গাছ রেখে পূজো আর্চা,গীতা পাঠ শিখিয়ে বড়ো করেছেন। একই ঘরে আযান এবং উলু ধ্বনি একাকার হয়ে যায় মানবতার জয়গানে।

রাজকুমারী সুন্দরীবালা বেড়ে উঠবার পর সনাতন সম্প্রদায়ের পাত্রের কাছে তাঁর বিয়ে দেন কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল।

১৯৭১ সালের ২০ মে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে একসাথে ১০ হাজার নর-নারী এবং শিশুকে হত্যা করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামস বাহিনী।

একাত্তরের বর্বরতম এ গণহত্যা সংঘটিত হয় খুলনা জেলার চুকনগর গ্রামে ভদ্রা নদীর পাড়ে।

চুকনগরের প্রতিটি নারী-পুরুষকে একটি মন্দিরের সামনে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাযজ্ঞের একদিন পর লাশের পাহাড়ে পিতাকে খুঁজতে আসেন কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল।

২১ মে ১০ হাজার নারী-পুরুষের রক্তাক্ত লাশের স্তুপ ঘেঁটে নিহত পিতার লাশ না পেয়ে শোকস্তব্ধ এরশাদ আলী চলে আসবার উদ্যোগ নিতেই শিশুর কান্না শুনে থমকে যান। তাকিয়ে দেখলেন, নিহত এক মহিলার বুকের উপর হামাগুড়ি দিয়ে একটি ক্ষুধার্ত শিশু আকুল হয়ে দুধ খুঁজছে!

পিতৃস্নেহে আর্দ্র হৃদয়ে শিশুটিকে কোলে তুলে নিহত মহিলার দিকে তাকিয়ে দেখলেন মহিলাটির হাতে সাদা শাঁখা মাথায় রক্তরাঙা সিঁদুর। সনাতন ধর্মের নিরীহ কন্যাশিশুটির বয়স ছিল তখন আনুমানিক ৬ মাস।

মহান এই বাবার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো। কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল আমাদের মতো কোট- টাই পড়া বাবুদের শিখিয়ে দিয়ে গেলেন সত্যিকারের মানবতা।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকবে না- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জীবন্ত অসাম্প্রদায়িকতার ইতিকথন: চুকনগর জেনোসাইড।যেন গল্পকেও হার মানায়।

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

 

 

মানবিক পিতার , মানবিকতা গল্প নহে সত্য!

ধর্ম মানুষ কে মানবতা শিখায়, হিংসা নহে কভু।

এক মহান মানুষ এরশাদ আলী মোড়লের পিতৃস্নেহ এবং ১৯৭১ সালে খুলনার চুকনগর গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া দুগ্ধপোষ্য সুন্দরীবালার জীবনালেখ্য যেন মানবিকতা এক অনন্য উদাহরণ।যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে যায় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন।

এক মহান পিতা ১৯৭১ সালের ২১ মে চুকনগরের লাশের স্তূপ থেকে বুকে তুলে নেন পাকিস্তানী বর্বরতায় সদ্য অনাথ এক ৫/৬ মাসের দুগ্ধপোষ্য কন্যাশিশুকে! তাকে নিয়ে রচিত হয়েছে মানবতার এক অমর গাথা আজ খুলনাবাসীর মুখে মুখে।

নিজের বাড়িতে আজান,নামাজ কোরান পড়ার পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারে জন্ম নেয়া শিশুটিকে পূজা অর্চনার মাধ্যমে তার পারিবারিক রীতিতে বড়ো করলেন, বিয়ে ও দিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী পাত্রের সাথে।

একাত্তরের ২০ মে বাড়িতে নিয়ে আদর, যত্ন, ভালোবাসায় পিতৃস্নেহে বড়ো করে বিয়ে দিলেন অচেনা সেই অনাথ শিশুকে।

সনাতন ধর্মের সাথে মিল রেখে নাম রেখেছিলেন রাজকুমারী সুন্দরীবালা।

বাড়ির কোণে ঠাকুরঘর তৈরি করে উঠোনে তুলসী গাছ রেখে পূজো আর্চা,গীতা পাঠ শিখিয়ে বড়ো করেছেন। একই ঘরে আযান এবং উলু ধ্বনি একাকার হয়ে যায় মানবতার জয়গানে।

রাজকুমারী সুন্দরীবালা বেড়ে উঠবার পর সনাতন সম্প্রদায়ের পাত্রের কাছে তাঁর বিয়ে দেন কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল।

১৯৭১ সালের ২০ মে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে একসাথে ১০ হাজার নর-নারী এবং শিশুকে হত্যা করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামস বাহিনী।

একাত্তরের বর্বরতম এ গণহত্যা সংঘটিত হয় খুলনা জেলার চুকনগর গ্রামে ভদ্রা নদীর পাড়ে।

চুকনগরের প্রতিটি নারী-পুরুষকে একটি মন্দিরের সামনে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাযজ্ঞের একদিন পর লাশের পাহাড়ে পিতাকে খুঁজতে আসেন কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল।

২১ মে ১০ হাজার নারী-পুরুষের রক্তাক্ত লাশের স্তুপ ঘেঁটে নিহত পিতার লাশ না পেয়ে শোকস্তব্ধ এরশাদ আলী চলে আসবার উদ্যোগ নিতেই শিশুর কান্না শুনে থমকে যান। তাকিয়ে দেখলেন, নিহত এক মহিলার বুকের উপর হামাগুড়ি দিয়ে একটি ক্ষুধার্ত শিশু আকুল হয়ে দুধ খুঁজছে!

পিতৃস্নেহে আর্দ্র হৃদয়ে শিশুটিকে কোলে তুলে নিহত মহিলার দিকে তাকিয়ে দেখলেন মহিলাটির হাতে সাদা শাঁখা মাথায় রক্তরাঙা সিঁদুর। সনাতন ধর্মের নিরীহ কন্যাশিশুটির বয়স ছিল তখন আনুমানিক ৬ মাস।

মহান এই বাবার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো। কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল আমাদের মতো কোট- টাই পড়া বাবুদের শিখিয়ে দিয়ে গেলেন সত্যিকারের মানবতা।