ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকবে না- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দর্শনার বারাদি সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ ভারতীয় নারী- পুরুষ ও শিশু আটক। চট্টগ্রামে বসতঘরে মিললো ১২ ফুট লম্বা অজগর, উদ্ধার করে অবমুক্ত। নৌ-প্রতিমন্ত্রী হয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লুটেছেন খালেদ মাহমুদ চৌধুরী!  বাড়তি ভাড়া ঠেকাতে হোসেনপুরে প্রশাসনের অভিযান, সিএনজি জব্দ। মহাদেবপুরে পারিবারিক বিরোধে দুইভাইকে মারপিটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন। কিশোরগঞ্জে পরকীয়ার জেরে হত্যা, ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার,পুলিশের বড় সাফল্য। অসংতিপূর্ণ টেন্ডার কার্যক্রমে বিসিকের বেহালদশা , প্রকল্প পরিচালক হাফিজুর রহমান এর বুদ্ধিভিত্তিক অনাচার।জনমনে ক্ষোভ। চিলমারীতে “আবাসিক হোটেলে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ” হোটেল মালিক আটক। দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত জন্মবার্ষিকী পালিত।

পঞ্চগড়ে নদ-নদীতে যত্রতত্র বেড়েছে বোরোর আবাদ, কিটনাশকে ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • ১২৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

উত্তরের সীমান্ত জেলা হিমালয়ান সমতল অঞ্চল খ্যাত পঞ্চগড়ের নদ-নদীগুলোতে যত্রতত্র বেড়েছে বোরো ধানের আবাদ। আবাদী জমিহীন কৃষকেরা হাটু পানির এই নদীগুলোতে বাঁধ দিয়ে নদীর দুই ধারে বোরোর আবাদ করছেন। সেচ খরচ নেই বলে উৎপাদন খরচ কম, অন্যদিকে পলি মিশ্রিত উর্বর জমি হওয়ার কারণে ফলনও হচ্ছে ভালো। ফলে কৃষকের লাভ বেশি।

কিন্তু সার কিটনাশকের ব্যবহার, স্রোত আটকে চাষাবাদের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

স্থানীয়দের দাবি, চাষিদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীগুলো খনন করে পুরোনো পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

পঞ্চগড় জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ছোট বড় ৫০টি নদী। এই নদীগুলোর উৎপত্তি হিমালয় পাহাড়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং পঞ্চগড়ের বিভিন্ন খাল-বিল থেকে।

নদীগুলো সুপ্রাচীন কাল থেকে এই জেলার কৃষি অর্থনীতি, পর্যটন এবং পরিবেশগত উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে নদীগুলো ভরাট হয়ে বিলীন হওয়ার পথে। দখল এবং অপরিকল্পিত ভাবে পাথর-বালি উত্তোলনের ফলেও বেশ কয়েকটি নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই নদীগুলোতে বর্তমানে বোরোর আবাদ বাড়ছে।

গত কয়েক বছর ধরেই নদীর চর এবং স্রোতে বাঁধ দিয়ে স্থানীয় কৃষকরা বোরো ধান রোপন করছেন। চাষাবাদের জমি নেই এমন কৃষকেরা এই আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। তারা বলছেন বর্ষাকালে নদীতে প্রচুর পানি থাকে। তখন কোন আবাদ হয় না। আর শুকনো মৌসুমে নদী শুকিয়ে যায়।

তাই এই সময়ে তারা নদীতে আল বেঁধে, জমি চাষাবাদের উপযোগী করে বোরো ধানের আবাদ করছেন। এই আবাদে তাদেরকে সেচ দিতে হয় না। ফলনও ভালো হয়। এক বিঘা জমিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মণ ধান পান তারা।

মাঝিপাড়া এলাকার মশিউর রহমান জানান, ডাহুক নদীর পাড়েই আমার বাড়ি। কৃষি আবাদ করার মতো জমি নেই। নদীতে চর পড়েছে। এই জমি বোরো ধানের আবাদের জন্য তৈরী করছি। প্রতিবছর ৫০ শতক জমিতে বোরো ধান লাগাই। ২৫ থেকে ৩০ মণ ধান পাই। তা দিয়ে বছরে ঘরের ধানের ভাত হয়ে যায়।

শুধু বোরো নয় কিছু এলাকায় অন্যান্য ফসলও আবাদ হচ্ছে। পেয়াজ, ভূট্টা, বাদাম সহ নানা ধরনের শাক সবজিও আবাদ হচ্ছে। কৃষকেরা অগ্রহায়ন মাস থেকে নদী কেটে জমি প্রস্তুত করে। মাঘ থেকে ফাল্গুন মাসে বোরোর চারা রোপন করে। জৈষ্ঠ্য মাসে বোরোধান কেটে ঘরে তোলেন।

তবে বোরো আবাদের ফলে কৃষকেরা লাভবান হলেও হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, সার কিটনাশকের ব্যবহার ও নদীতে বাঁধ দিয়ে আবাদের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী মাছসহ জলজ কিটপতঙ্গ । দেখা মিলছে না নদী কেন্দ্রীক জীবন যাপন করা পাখিদের। স্থানীয়রা চায় নদীগুলো খনন করা হোক। তারা বলছেন নদীগুলো প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মী কাজী মখছেদুর রহমান জানান, নদীগুলোর সীমানা নির্ধারণ করে দ্রুত খনন করা দরকার। যে যার মতো আবাদ করছে। চরগুলোতে আবাদ হলে সমস্যা নেই । কিন্তু নদীর স্বাভাবিক গতিপথ আটকে আবাদ করার ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন জানান, আমরা লাভজনক কৃষি করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। এবার এই জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। নদীতে বোরো চাষিদেরকে জীববৈচিত্র্য ঠিক রেখে আবাদ করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকবে না- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পঞ্চগড়ে নদ-নদীতে যত্রতত্র বেড়েছে বোরোর আবাদ, কিটনাশকে ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

আপডেট সময় : ০৯:২০:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

উত্তরের সীমান্ত জেলা হিমালয়ান সমতল অঞ্চল খ্যাত পঞ্চগড়ের নদ-নদীগুলোতে যত্রতত্র বেড়েছে বোরো ধানের আবাদ। আবাদী জমিহীন কৃষকেরা হাটু পানির এই নদীগুলোতে বাঁধ দিয়ে নদীর দুই ধারে বোরোর আবাদ করছেন। সেচ খরচ নেই বলে উৎপাদন খরচ কম, অন্যদিকে পলি মিশ্রিত উর্বর জমি হওয়ার কারণে ফলনও হচ্ছে ভালো। ফলে কৃষকের লাভ বেশি।

কিন্তু সার কিটনাশকের ব্যবহার, স্রোত আটকে চাষাবাদের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

স্থানীয়দের দাবি, চাষিদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীগুলো খনন করে পুরোনো পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

পঞ্চগড় জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ছোট বড় ৫০টি নদী। এই নদীগুলোর উৎপত্তি হিমালয় পাহাড়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং পঞ্চগড়ের বিভিন্ন খাল-বিল থেকে।

নদীগুলো সুপ্রাচীন কাল থেকে এই জেলার কৃষি অর্থনীতি, পর্যটন এবং পরিবেশগত উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে নদীগুলো ভরাট হয়ে বিলীন হওয়ার পথে। দখল এবং অপরিকল্পিত ভাবে পাথর-বালি উত্তোলনের ফলেও বেশ কয়েকটি নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই নদীগুলোতে বর্তমানে বোরোর আবাদ বাড়ছে।

গত কয়েক বছর ধরেই নদীর চর এবং স্রোতে বাঁধ দিয়ে স্থানীয় কৃষকরা বোরো ধান রোপন করছেন। চাষাবাদের জমি নেই এমন কৃষকেরা এই আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। তারা বলছেন বর্ষাকালে নদীতে প্রচুর পানি থাকে। তখন কোন আবাদ হয় না। আর শুকনো মৌসুমে নদী শুকিয়ে যায়।

তাই এই সময়ে তারা নদীতে আল বেঁধে, জমি চাষাবাদের উপযোগী করে বোরো ধানের আবাদ করছেন। এই আবাদে তাদেরকে সেচ দিতে হয় না। ফলনও ভালো হয়। এক বিঘা জমিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মণ ধান পান তারা।

মাঝিপাড়া এলাকার মশিউর রহমান জানান, ডাহুক নদীর পাড়েই আমার বাড়ি। কৃষি আবাদ করার মতো জমি নেই। নদীতে চর পড়েছে। এই জমি বোরো ধানের আবাদের জন্য তৈরী করছি। প্রতিবছর ৫০ শতক জমিতে বোরো ধান লাগাই। ২৫ থেকে ৩০ মণ ধান পাই। তা দিয়ে বছরে ঘরের ধানের ভাত হয়ে যায়।

শুধু বোরো নয় কিছু এলাকায় অন্যান্য ফসলও আবাদ হচ্ছে। পেয়াজ, ভূট্টা, বাদাম সহ নানা ধরনের শাক সবজিও আবাদ হচ্ছে। কৃষকেরা অগ্রহায়ন মাস থেকে নদী কেটে জমি প্রস্তুত করে। মাঘ থেকে ফাল্গুন মাসে বোরোর চারা রোপন করে। জৈষ্ঠ্য মাসে বোরোধান কেটে ঘরে তোলেন।

তবে বোরো আবাদের ফলে কৃষকেরা লাভবান হলেও হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, সার কিটনাশকের ব্যবহার ও নদীতে বাঁধ দিয়ে আবাদের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী মাছসহ জলজ কিটপতঙ্গ । দেখা মিলছে না নদী কেন্দ্রীক জীবন যাপন করা পাখিদের। স্থানীয়রা চায় নদীগুলো খনন করা হোক। তারা বলছেন নদীগুলো প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মী কাজী মখছেদুর রহমান জানান, নদীগুলোর সীমানা নির্ধারণ করে দ্রুত খনন করা দরকার। যে যার মতো আবাদ করছে। চরগুলোতে আবাদ হলে সমস্যা নেই । কিন্তু নদীর স্বাভাবিক গতিপথ আটকে আবাদ করার ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন জানান, আমরা লাভজনক কৃষি করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। এবার এই জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। নদীতে বোরো চাষিদেরকে জীববৈচিত্র্য ঠিক রেখে আবাদ করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।