ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা প্রতি বছর বিলম্বে পাঠ্যবই ছাপার নেপথ্যে  ৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বাণিজ্য ! নিরপরাধ আ. লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা হারুনের। মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ঘোর বিরোধী দাপুটে তিন বুদ্ধিজীবী। ইয়াবাসহ সুমন নামে এক মাদক কারবারি ডিবির হাতে গ্রেফতার। সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। খুলনা গণপূর্তে দুর্নীতির অদৃশ্য সাম্রাজ্য : উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুরের সাত বছরের অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট ! তিনিই স্বঘোষিত সম্রাট! শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশ ফাউন্ডেশনের শিক্ষা প্রণোদনা বিতরণ। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ১৫টি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সবার শীর্ষে শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ। মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রম কমিটির আগামীদিনের কর্ম পরিকল্পনা ঘোষণা।

ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা নারীর আত্ম মর্যাদা ও সম্মানের মূর্ত প্রতীক।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৪ জন সংবাদটি পড়েছেন
57

 

মাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোরী ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা যে ইতালির আইন পাল্টে দিয়েছিলো চিরতরে।সালটি ছিল ১৯৬৫ ।তাকে বলা হয়েছিলো তার ধ’র্ষককে বিয়ে করতে, সে বলেছিলো “না।”

সিসিলি ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা নামের কিশোরী দাঁড়িয়ে ছিল লাল-চোখা সমাজের মাঝখানে, যে-সমাজ তাকে আদেশ দিলো মানসম্মান ফিরে পেতে চাইলে লোকটাকে বিয়ে করো। নষ্টা হয়ে গেছ তুমি। পুরুষ একটুআধটু এসব করেই। সে তোমাকে ধ’র্ষণ করেছে তো কী হয়েছে, বিয়ে করতে চাইছে সে তোমাকে। এ তোমার সাত-জনমের সৌভাগ্য। বিয়ের জন্য প্রস্তুত হও। ফ্রাঙ্কা রাজি হলো না। এভাবে নিঃশব্দে দুনিয়া থেকে নাই হয়ে যেতে সে রাজি হলো না। ফিলিপ্পো মেলোডিয়া নামের এক মাফিয়া-সদস্যের সাথে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার পর, ফ্রাঙ্কাকে অপহরণ করে অমানুষিক নির্যাতন করা হলো, এবং দীর্ঘ আট-দিন আট-রাত আটকে রেখে অকথ্য যৌ’ন নিপীড়ন করলো ফিলিপ্পো, একটিই দাবিতে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার বেয়াদবি মাফ করে দেবো, যদি আমাকে বিয়ে করো।

রাজি হলো না ফ্রাঙ্কা। অতএব, তাকে উদ্ধারের পরে এবার চাপ দিলো সমাজ ও নিজের পরিবার বিয়ে করো তাকে, মানসম্মান বাঁচাও।

ওসময়, ইতালির আইনের ধারা-৫৪৪ অনুযায়ী ধ’র্ষক যদি ধর্ষিতাকে বিয়ে করে, তাহলে শাস্তি মওকুফ হয়ে যেতো ধ’র্ষকের। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিলো এতে করে নারীর সামাজিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা যাবে।

কী বিকৃত মানসিকতার বিধি! সম্মান পুনরুদ্ধার করছে ন্যায়বিচার না-করে!

তো, সমাজের ও পরিবারের চাপের মুখেও মাত্র ১৭ বছরের কিশোরী স্পষ্ট বলে দিলো: “না।”

ফ্রাঙ্কা সেই কাজটি করলো, ইতালির ইতিহাসে এর আগে কেউ করতে সাহস করেনি! “না।”…

“না।”

জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়াকে ‘না’। হাস্যকর সম্মান পুনরুদ্ধারকে ‘না’। লজ্জা? ‘না।’ ধ’র্ষককে বাঁচিয়ে দেওয়াকে “না।”

তার জেদ আগুন জ্বালিয়ে দিলো ইতালি-জুড়ে! সমাজ তাকে একঘরে করলো। তাদের শস্যক্ষেত পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হলো। কিন্তু পিছিয়ে এলো না ফ্রাঙ্কা।

১৯৬৬ সালে, আদালতে মামলা করলো ফ্রাঙ্কা। মামলায় জিতে গেলো। ধ’র্ষক ফিলিপ্পোর ১১ বছরের কারাদণ্ড হলো। এবং ফ্রাঙ্কা হয়ে গেলো ইতালির প্রথম নারী, যে প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলো ‘সম্মান-রক্ষার বিবাহ’-এর মতো জংলী প্রথাটিকে।

ঐ মামলার বিচার-প্রক্রিয়াটি বিশ্বজুড়ে হইচই তুলেছিলো। তৎকালীন পোপ ৬ষ্ঠ পল এবং ইতালির তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়োসেপ্পে সারাগাত, দু’বিশ্বনেতাই, প্রশংসা করেছিলেন ফ্রাঙ্কার সাহসের। যদিও ফ্রাঙ্কা এইসব খ্যাতি-শিরোনাম-শংসা’র কিছুই চায়নি, সে শুধু চেয়েছিলো ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আত্মমর্যাদা। যা আদায় করে নিয়েছিলো সে।

অমর্যাদাপূর্ণ আইনটি পুরোপুরি বাতিল হতে লেগেছিলো আরও ১৫ বছর। অবশেষে, ১৯৮১ সালে বিলুপ্ত হলো নির্যাতিতাকে অসম্মান করে নির্যাতনকারীকে রক্ষা করার উদ্ভট আইনটি। ১৯৬৮ সালে, ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা বিয়ে করলো তার বাল্যবন্ধু জিউসেপ্পে-কে। যে-জিউসেপ্পে তার বন্ধু ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা’র এই লড়াইয়ের সময় একবারের জন্যও বলেনি ‘তুমি ধ’র্ষিতা’, বারেবার বলেছিলো “তুমি যোদ্ধা।”

পুরুষ! ফিলিপ্পোও পুরুষ, জিউসেপ্পেও পুরুষ। সত্যিকার পুরুষ আছে জগতে। সত্যিকার নারীর জন্য।

আজ, ‘ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা’ নামটি মানবেতিহাসে অমর, যে-নাম আমাদের মনে করিয়ে দেয়: মেনে নেওয়ায় আত্মসম্মান নেই, আত্মসম্মান প্রতিবাদে। সে ছিল ১৭ বছর বয়সী। কিশোরী। সমাজ তাকে বলেছিলো নত হতে। সে বলেছিলো “না”।

এবং ইতালি পাল্টে গেলো চিরতরে। ঘোষিত হলো নারীর আত্ম মর্যাদা ও আত্ম সম্মানের জয় ডঙ্কা।ফ্রাঙ্কা হয়ে উঠলো নারী জাগরণের অগ্রদূত।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা

ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা নারীর আত্ম মর্যাদা ও সম্মানের মূর্ত প্রতীক।

আপডেট সময় : ০৩:৪১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
57

 

মাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোরী ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা যে ইতালির আইন পাল্টে দিয়েছিলো চিরতরে।সালটি ছিল ১৯৬৫ ।তাকে বলা হয়েছিলো তার ধ’র্ষককে বিয়ে করতে, সে বলেছিলো “না।”

সিসিলি ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা নামের কিশোরী দাঁড়িয়ে ছিল লাল-চোখা সমাজের মাঝখানে, যে-সমাজ তাকে আদেশ দিলো মানসম্মান ফিরে পেতে চাইলে লোকটাকে বিয়ে করো। নষ্টা হয়ে গেছ তুমি। পুরুষ একটুআধটু এসব করেই। সে তোমাকে ধ’র্ষণ করেছে তো কী হয়েছে, বিয়ে করতে চাইছে সে তোমাকে। এ তোমার সাত-জনমের সৌভাগ্য। বিয়ের জন্য প্রস্তুত হও। ফ্রাঙ্কা রাজি হলো না। এভাবে নিঃশব্দে দুনিয়া থেকে নাই হয়ে যেতে সে রাজি হলো না। ফিলিপ্পো মেলোডিয়া নামের এক মাফিয়া-সদস্যের সাথে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার পর, ফ্রাঙ্কাকে অপহরণ করে অমানুষিক নির্যাতন করা হলো, এবং দীর্ঘ আট-দিন আট-রাত আটকে রেখে অকথ্য যৌ’ন নিপীড়ন করলো ফিলিপ্পো, একটিই দাবিতে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার বেয়াদবি মাফ করে দেবো, যদি আমাকে বিয়ে করো।

রাজি হলো না ফ্রাঙ্কা। অতএব, তাকে উদ্ধারের পরে এবার চাপ দিলো সমাজ ও নিজের পরিবার বিয়ে করো তাকে, মানসম্মান বাঁচাও।

ওসময়, ইতালির আইনের ধারা-৫৪৪ অনুযায়ী ধ’র্ষক যদি ধর্ষিতাকে বিয়ে করে, তাহলে শাস্তি মওকুফ হয়ে যেতো ধ’র্ষকের। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিলো এতে করে নারীর সামাজিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা যাবে।

কী বিকৃত মানসিকতার বিধি! সম্মান পুনরুদ্ধার করছে ন্যায়বিচার না-করে!

তো, সমাজের ও পরিবারের চাপের মুখেও মাত্র ১৭ বছরের কিশোরী স্পষ্ট বলে দিলো: “না।”

ফ্রাঙ্কা সেই কাজটি করলো, ইতালির ইতিহাসে এর আগে কেউ করতে সাহস করেনি! “না।”…

“না।”

জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়াকে ‘না’। হাস্যকর সম্মান পুনরুদ্ধারকে ‘না’। লজ্জা? ‘না।’ ধ’র্ষককে বাঁচিয়ে দেওয়াকে “না।”

তার জেদ আগুন জ্বালিয়ে দিলো ইতালি-জুড়ে! সমাজ তাকে একঘরে করলো। তাদের শস্যক্ষেত পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হলো। কিন্তু পিছিয়ে এলো না ফ্রাঙ্কা।

১৯৬৬ সালে, আদালতে মামলা করলো ফ্রাঙ্কা। মামলায় জিতে গেলো। ধ’র্ষক ফিলিপ্পোর ১১ বছরের কারাদণ্ড হলো। এবং ফ্রাঙ্কা হয়ে গেলো ইতালির প্রথম নারী, যে প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলো ‘সম্মান-রক্ষার বিবাহ’-এর মতো জংলী প্রথাটিকে।

ঐ মামলার বিচার-প্রক্রিয়াটি বিশ্বজুড়ে হইচই তুলেছিলো। তৎকালীন পোপ ৬ষ্ঠ পল এবং ইতালির তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়োসেপ্পে সারাগাত, দু’বিশ্বনেতাই, প্রশংসা করেছিলেন ফ্রাঙ্কার সাহসের। যদিও ফ্রাঙ্কা এইসব খ্যাতি-শিরোনাম-শংসা’র কিছুই চায়নি, সে শুধু চেয়েছিলো ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আত্মমর্যাদা। যা আদায় করে নিয়েছিলো সে।

অমর্যাদাপূর্ণ আইনটি পুরোপুরি বাতিল হতে লেগেছিলো আরও ১৫ বছর। অবশেষে, ১৯৮১ সালে বিলুপ্ত হলো নির্যাতিতাকে অসম্মান করে নির্যাতনকারীকে রক্ষা করার উদ্ভট আইনটি। ১৯৬৮ সালে, ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা বিয়ে করলো তার বাল্যবন্ধু জিউসেপ্পে-কে। যে-জিউসেপ্পে তার বন্ধু ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা’র এই লড়াইয়ের সময় একবারের জন্যও বলেনি ‘তুমি ধ’র্ষিতা’, বারেবার বলেছিলো “তুমি যোদ্ধা।”

পুরুষ! ফিলিপ্পোও পুরুষ, জিউসেপ্পেও পুরুষ। সত্যিকার পুরুষ আছে জগতে। সত্যিকার নারীর জন্য।

আজ, ‘ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা’ নামটি মানবেতিহাসে অমর, যে-নাম আমাদের মনে করিয়ে দেয়: মেনে নেওয়ায় আত্মসম্মান নেই, আত্মসম্মান প্রতিবাদে। সে ছিল ১৭ বছর বয়সী। কিশোরী। সমাজ তাকে বলেছিলো নত হতে। সে বলেছিলো “না”।

এবং ইতালি পাল্টে গেলো চিরতরে। ঘোষিত হলো নারীর আত্ম মর্যাদা ও আত্ম সম্মানের জয় ডঙ্কা।ফ্রাঙ্কা হয়ে উঠলো নারী জাগরণের অগ্রদূত।