ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কটিয়াদীতে দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও সহযোগী গ্রেপ্তার। স্ত্রী—সন্তান ও স্বজনদের নামে শত শত বিঘা জমি, শহরে বহুতল ভবন—মার্কেটসহ বিপুল সম্পদ দুদকে তদন্ত চলমান। শিক্ষাঙ্গন কি এখন অপরাধীদের নতুন টার্গেট? নিরাপত্তাহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানে অনিরাপদ ভবিষ্যৎ। শিক্ষকের প্রতি সহিংসতা: একটি ভাইরাল ছবি নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের মূল্যবোধের আয়না। মাননীয় সংসদ সদস্য ৩২-গাইবান্ধা ৪- গোবিন্দগঞ্জ ড. মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন কে সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান গাইবান্ধাবাসী। গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: ‘তথ্য সন্ত্রাস’ নাকি অনিয়মের অনুসন্ধান? নেপথ্যে কি পদ দখলের সমীকরণ ? কক্সবাজারে বিজিবির পৃথক ৪ অভিযানে ২ লাখ ৭ হাজার ৭১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৭। সিলেটে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অন্যত্র নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেফতার। কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার-৫। বীরগঞ্জে বাসাবাড়ী- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও মহিলাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন।

আশুলিয়ায় অবৈধভাবে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ।

ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন গণকবাড়ী মৌজায় জমি নিয়ে চলমান দেওয়ানি মামলার মধ্যেই বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিবাদীপক্ষ সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে দেয়াল ভেঙে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করেছে এবং নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী মুন্নি আক্তার (৩৮) লিখিত অভিযোগে জানান, গণকবাড়ী মৌজার ডিএস ১, এসএ-৩১৭, আরএস-৩৭, বিএস-৩১৮৬/৫৫৩৭/৪২৫৭, সিএস ও এসএ-৬৮১/৮৩৯, বিএস-১৩৬০৯ দাগভুক্ত ১৪ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। জমিটি নিয়ে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত, ঢাকায় দেওয়ানি মামলা নং-৫৬১/২৫ বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিবাদীপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ৫০৬ ধারায় মামলা দিয়ে মুন্নি আক্তারের স্বামী জিন্নাতুল ইসলাম রিপন ও দেবর জাকিরুল ইসলামকে আশুলিয়া থানা পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করায়। পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সম্পদ ও রাকিবসহ ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে দেয়াল ভাঙচুর ও গাছপালা কেটে দখলের চেষ্টা চালায়।

মুন্নি আক্তার বলেন, “মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তারা জোরপূর্বক আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে। বাধা দিতে গেলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক—যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।”

অন্যদিকে জমির বর্তমান মালিক জাকিরুল ইসলাম (৪৮) সারাক্ষণ বার্তাকে জানান, বিবাদীপক্ষের হামলায় বাড়ির ওয়াল ভেঙে আনুমানিক ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বিষয়টি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন করেছেন। তার দাবি, বিবাদীরা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জবরদখলের পাঁয়তারা করছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জমির সাবেক মালিক মনোয়ার হোসেন ভূঞা বলেন, “আমি কয়েক বছর আগে ধাপে ধাপে ১৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে বসতবাড়ি নির্মাণ করি। এসএ, আরএস, বিএস ও সিএস রেকর্ড অনুযায়ী নিয়মিত খাজনা-খারিজ পরিশোধ করেছি। পরে বৈধ কাগজপত্রসহ জমি ও বাড়িটি জাকিরুল ইসলাম ও জিন্নাতুল ইসলাম রিপনের কাছে বিক্রি করি। জমিটি ঝামেলামুক্ত ছিল। এখন একটি কুচক্রী মহল প্রভাব খাটিয়ে দখলের চেষ্টা করছে বলে শুনছি।”

এদিকে বাড়ির এক ভাড়াটিয়া জানান, হামলাকারীরা প্রায়ই এসে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, ফলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

পুলিশ জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধে গত বছরের ২৯ নভেম্বর একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। রুবেল হাওলাদার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), আশুলিয়া থানা বলেন, “দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে জিডি নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, চলমান মামলা নিষ্পত্তির আগেই এমন দখলচেষ্টা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কটিয়াদীতে দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও সহযোগী গ্রেপ্তার।

আশুলিয়ায় অবৈধভাবে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ।

আপডেট সময় : ১১:১৪:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন গণকবাড়ী মৌজায় জমি নিয়ে চলমান দেওয়ানি মামলার মধ্যেই বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিবাদীপক্ষ সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে দেয়াল ভেঙে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করেছে এবং নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী মুন্নি আক্তার (৩৮) লিখিত অভিযোগে জানান, গণকবাড়ী মৌজার ডিএস ১, এসএ-৩১৭, আরএস-৩৭, বিএস-৩১৮৬/৫৫৩৭/৪২৫৭, সিএস ও এসএ-৬৮১/৮৩৯, বিএস-১৩৬০৯ দাগভুক্ত ১৪ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। জমিটি নিয়ে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত, ঢাকায় দেওয়ানি মামলা নং-৫৬১/২৫ বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিবাদীপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ৫০৬ ধারায় মামলা দিয়ে মুন্নি আক্তারের স্বামী জিন্নাতুল ইসলাম রিপন ও দেবর জাকিরুল ইসলামকে আশুলিয়া থানা পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করায়। পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সম্পদ ও রাকিবসহ ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে দেয়াল ভাঙচুর ও গাছপালা কেটে দখলের চেষ্টা চালায়।

মুন্নি আক্তার বলেন, “মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তারা জোরপূর্বক আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে। বাধা দিতে গেলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক—যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।”

অন্যদিকে জমির বর্তমান মালিক জাকিরুল ইসলাম (৪৮) সারাক্ষণ বার্তাকে জানান, বিবাদীপক্ষের হামলায় বাড়ির ওয়াল ভেঙে আনুমানিক ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বিষয়টি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন করেছেন। তার দাবি, বিবাদীরা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জবরদখলের পাঁয়তারা করছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জমির সাবেক মালিক মনোয়ার হোসেন ভূঞা বলেন, “আমি কয়েক বছর আগে ধাপে ধাপে ১৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে বসতবাড়ি নির্মাণ করি। এসএ, আরএস, বিএস ও সিএস রেকর্ড অনুযায়ী নিয়মিত খাজনা-খারিজ পরিশোধ করেছি। পরে বৈধ কাগজপত্রসহ জমি ও বাড়িটি জাকিরুল ইসলাম ও জিন্নাতুল ইসলাম রিপনের কাছে বিক্রি করি। জমিটি ঝামেলামুক্ত ছিল। এখন একটি কুচক্রী মহল প্রভাব খাটিয়ে দখলের চেষ্টা করছে বলে শুনছি।”

এদিকে বাড়ির এক ভাড়াটিয়া জানান, হামলাকারীরা প্রায়ই এসে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, ফলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

পুলিশ জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধে গত বছরের ২৯ নভেম্বর একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। রুবেল হাওলাদার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), আশুলিয়া থানা বলেন, “দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে জিডি নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, চলমান মামলা নিষ্পত্তির আগেই এমন দখলচেষ্টা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।