ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
যেভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা , সংকটের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অভিযাত্রা। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে সমন্বিত অভিযানে: অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার মান্দার ২ কিশোর গ্যাং লিডার। ঠাকুরগাঁওয়ে সমতলের চা বাগান দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত। গোপালগঞ্জ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিক্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা উদ্ধোধন। লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে বাংলাদেশ: বিদ্যুৎ সংকট নয়, এটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পরীক্ষা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরও ফের শোন-অ্যারেস্ট শাহেদ। গোপালগঞ্জ শহরের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুতের তার চুরি, রাতে আতঙ্ক। মান্দায় ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে, ৪ মাস পর তরুণীকে নিয়ে উধাও যুবক: আতঙ্কে পরিবার। গোপালগঞ্জে পুলিশ সুপারের কার্যালয় পরিদর্শন করেন অ্যাডিশনাল ডিআইজির। মাগুরার আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটলুর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। 

ভারতীয় পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ডিমলায় বিক্ষোভ মিছিল।

 

নীলফামারীর ডিমলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কথিত পুশইন প্রচেষ্টা ও সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

 

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন,২৬) বিকেলে উপজেলার কলোনী বাজারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলটি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

 

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ভারতের একতরফা আগ্রাসী নীতি এবং সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। এ সময় তারা ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধ করো’, ‘পুশইনের ষড়যন্ত্র রুখে দাও’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন মেনে নেব না’ এবং ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

ডিমলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রুকনুজ্জামান বকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীলফামারী জেলা মজলিসে শূরা সদস্য ও ডিমলা উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমান।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, ভারত সরকার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে গেলে সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশিদের হত্যা করা হচ্ছে, যা সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির একটি ঘৃণ্য কৌশল বলে তারা দাবি করেন। তারা বলেন, সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন ও পুশইনের মতো ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী।

 

বক্তারা আরও বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

 

সমাবেশে বক্তারা সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি যে সাহস, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে, তার জন্য আমরা তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সীমান্তে অন্যায় গুলি ও পুশইনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে দেশের ১৮ কোটি মানুষ এবং ১১ দলীয় জোট বিজিবির পাশে থাকবে।”

 

তারা বলেন, সীমান্ত রক্ষায় শুধু বিজিবি নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিককেও সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। জাতীয় স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

 

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের নীলফামারী জেলা সভাপতি মাওলানা সাদ্দাম হোসেন, ডিমলা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা কাজী হাবীবুর রহমান, এনসিপি নেতা রাশেদুজ্জামান রাশেদ, শাহ আজিজসহ ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক নীলফামারী জেলা শিবির সভাপতি মাওলানা ওয়াহেদুজ্জামান বাবুল, এনসিপি নেতা আবু ইউসুফ শাকিল, এনসিপি নেতা জাফর হোসেন জাকির, জাতীয় ছাত্র শক্তির ডিমলা উপজেলা সেক্রেটারি মো. উমর ফারুকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

সমাবেশ থেকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, পুশইন প্রচেষ্টা প্রতিহত এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

যেভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা , সংকটের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অভিযাত্রা।

ভারতীয় পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ডিমলায় বিক্ষোভ মিছিল।

আপডেট সময় : ০১:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 

নীলফামারীর ডিমলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কথিত পুশইন প্রচেষ্টা ও সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

 

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন,২৬) বিকেলে উপজেলার কলোনী বাজারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলটি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

 

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ভারতের একতরফা আগ্রাসী নীতি এবং সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। এ সময় তারা ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধ করো’, ‘পুশইনের ষড়যন্ত্র রুখে দাও’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন মেনে নেব না’ এবং ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

ডিমলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রুকনুজ্জামান বকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীলফামারী জেলা মজলিসে শূরা সদস্য ও ডিমলা উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমান।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, ভারত সরকার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে গেলে সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশিদের হত্যা করা হচ্ছে, যা সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির একটি ঘৃণ্য কৌশল বলে তারা দাবি করেন। তারা বলেন, সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন ও পুশইনের মতো ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী।

 

বক্তারা আরও বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

 

সমাবেশে বক্তারা সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি যে সাহস, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে, তার জন্য আমরা তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সীমান্তে অন্যায় গুলি ও পুশইনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে দেশের ১৮ কোটি মানুষ এবং ১১ দলীয় জোট বিজিবির পাশে থাকবে।”

 

তারা বলেন, সীমান্ত রক্ষায় শুধু বিজিবি নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিককেও সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। জাতীয় স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

 

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের নীলফামারী জেলা সভাপতি মাওলানা সাদ্দাম হোসেন, ডিমলা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা কাজী হাবীবুর রহমান, এনসিপি নেতা রাশেদুজ্জামান রাশেদ, শাহ আজিজসহ ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক নীলফামারী জেলা শিবির সভাপতি মাওলানা ওয়াহেদুজ্জামান বাবুল, এনসিপি নেতা আবু ইউসুফ শাকিল, এনসিপি নেতা জাফর হোসেন জাকির, জাতীয় ছাত্র শক্তির ডিমলা উপজেলা সেক্রেটারি মো. উমর ফারুকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

সমাবেশ থেকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, পুশইন প্রচেষ্টা প্রতিহত এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।