ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‎ লটারির নামে জালিয়াতি মন্ত্রী সচিব কে ভুল বুঝিয়ে তাদের লক্ষ্য পূরণ করিয়েছে রক্ষক যেখানে ভক্ষক গণপূর্ত অধিদপ্তরে ই/এম প্রকৌশলী পদে পদায়নের লটারি নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন যুবলীগ নিখিলের পার্টনার রাশেদ আহসান: এবার বাগিয়ে নিচ্ছেন চারশত কোটির আজিমপুর প্রকল্প কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় ১৬ দিনেও ব্যবস্থা নেই আর কত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাবে, কোথায় আছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির বন্ধন: মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমে নতুন কমিটি, নতুন প্রত্যাশা। ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের

নেটওয়ার্কের খোঁজে আমগাছের ডালে প্রধান শিক্ষক, অনলাইন হাজিরা দিতে জীবনের ঝুঁকি।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনলাইন হাজিরা নিশ্চিত করতে গিয়ে এক প্রধান শিক্ষককে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমগাছের ডালে উঠতে হয়েছে। সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের অনলাইনে উপস্থিতি পাঠানোর প্রথম দিনেই এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হন পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের।

গতকাল সোমবার (১৫ জুন,২৬) থেকে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালু হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯:০০টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।

তবে বাঘাইছড়ির রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের। বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাদেও কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি।

প্রধান শিক্ষক জানান, অনলাইন হাজিরা পাঠাতে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ের আশপাশে বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা করেন। পরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে উঠে সংযোগ পান। সেখানে বসেই হাজিরা খাতার ছবি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে সক্ষম হন।

তিনি বলেন, “অনেক কষ্টে গাছের ডালে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়েছি। হাজিরা পাঠাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় আমাকে ধমকও শুনতে হয়েছে।”

চাকরি রক্ষার তাগিদেই এমন ঝুঁকি নিতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পেটের দায়ে চাকরি করি। চাকরি বাঁচাতে হলে ঝুঁকি নিতেই হবে। চাকরি না থাকলে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”

এদিকে প্রধান শিক্ষকের আমগাছে উঠে মোবাইল নেটওয়ার্ক খোঁজার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই দুর্গম এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থার কার্যকর বিকল্প বা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেসব বিদ্যালয় থেকে অনলাইনে হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার শিক্ষকরা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে হাজিরার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।”

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সংকটের বাস্তবতা নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে এ ঘটনা। ডিজিটাল ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‎

নেটওয়ার্কের খোঁজে আমগাছের ডালে প্রধান শিক্ষক, অনলাইন হাজিরা দিতে জীবনের ঝুঁকি।

আপডেট সময় : ০৩:০০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনলাইন হাজিরা নিশ্চিত করতে গিয়ে এক প্রধান শিক্ষককে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমগাছের ডালে উঠতে হয়েছে। সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের অনলাইনে উপস্থিতি পাঠানোর প্রথম দিনেই এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হন পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের।

গতকাল সোমবার (১৫ জুন,২৬) থেকে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালু হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯:০০টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।

তবে বাঘাইছড়ির রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের। বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাদেও কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি।

প্রধান শিক্ষক জানান, অনলাইন হাজিরা পাঠাতে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ের আশপাশে বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা করেন। পরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে উঠে সংযোগ পান। সেখানে বসেই হাজিরা খাতার ছবি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে সক্ষম হন।

তিনি বলেন, “অনেক কষ্টে গাছের ডালে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়েছি। হাজিরা পাঠাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় আমাকে ধমকও শুনতে হয়েছে।”

চাকরি রক্ষার তাগিদেই এমন ঝুঁকি নিতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পেটের দায়ে চাকরি করি। চাকরি বাঁচাতে হলে ঝুঁকি নিতেই হবে। চাকরি না থাকলে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”

এদিকে প্রধান শিক্ষকের আমগাছে উঠে মোবাইল নেটওয়ার্ক খোঁজার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই দুর্গম এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থার কার্যকর বিকল্প বা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেসব বিদ্যালয় থেকে অনলাইনে হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার শিক্ষকরা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে হাজিরার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।”

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সংকটের বাস্তবতা নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে এ ঘটনা। ডিজিটাল ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা।