ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ফকিরহাটে কৃষক দল নেতা খুনের মামলায় গ্রেপ্তার-২। সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ দাবিতে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন। প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে নবীনগরে যুবক, এলাকায় কৌতূহল ও সতর্কবার্তা। কয়রায় জামায়াত কর্মীকে ‘এমপির এপিএস’ বলে অপপ্রচার, ভিত্তিহীন তথ্যে এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ সাব রেজিস্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর অবৈধ সম্পদের পাহাড় ! প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুপুরের খাবারের মেনুতে নেই কোন রাজকীয়তার ভাব। রাষ্ট্রীয় সততার অনন্য নজির। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বিআইএমে আউটসোর্সিংয়ের নোয়া প্রদান। প্রাণিসম্পদের প্রকল্প পরিচালক ডা.আব্দুর রহিমের হাতে কর্মকর্তারা জিম্মি ! আওয়ামী ঠিকাদারের নিকট থেকে ৩ কোটি টাকার উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের শোকজ। ফুলবাড়ী ২৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমানে নেশাজাতীয় ট্যাবলেড ও যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার। নেটওয়ার্কের খোঁজে আমগাছের ডালে প্রধান শিক্ষক, অনলাইন হাজিরা দিতে জীবনের ঝুঁকি।

নেটওয়ার্কের খোঁজে আমগাছের ডালে প্রধান শিক্ষক, অনলাইন হাজিরা দিতে জীবনের ঝুঁকি।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনলাইন হাজিরা নিশ্চিত করতে গিয়ে এক প্রধান শিক্ষককে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমগাছের ডালে উঠতে হয়েছে। সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের অনলাইনে উপস্থিতি পাঠানোর প্রথম দিনেই এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হন পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের।

গতকাল সোমবার (১৫ জুন,২৬) থেকে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালু হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯:০০টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।

তবে বাঘাইছড়ির রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের। বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাদেও কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি।

প্রধান শিক্ষক জানান, অনলাইন হাজিরা পাঠাতে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ের আশপাশে বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা করেন। পরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে উঠে সংযোগ পান। সেখানে বসেই হাজিরা খাতার ছবি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে সক্ষম হন।

তিনি বলেন, “অনেক কষ্টে গাছের ডালে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়েছি। হাজিরা পাঠাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় আমাকে ধমকও শুনতে হয়েছে।”

চাকরি রক্ষার তাগিদেই এমন ঝুঁকি নিতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পেটের দায়ে চাকরি করি। চাকরি বাঁচাতে হলে ঝুঁকি নিতেই হবে। চাকরি না থাকলে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”

এদিকে প্রধান শিক্ষকের আমগাছে উঠে মোবাইল নেটওয়ার্ক খোঁজার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই দুর্গম এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থার কার্যকর বিকল্প বা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেসব বিদ্যালয় থেকে অনলাইনে হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার শিক্ষকরা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে হাজিরার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।”

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সংকটের বাস্তবতা নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে এ ঘটনা। ডিজিটাল ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ফকিরহাটে কৃষক দল নেতা খুনের মামলায় গ্রেপ্তার-২।

নেটওয়ার্কের খোঁজে আমগাছের ডালে প্রধান শিক্ষক, অনলাইন হাজিরা দিতে জীবনের ঝুঁকি।

আপডেট সময় : ০৩:০০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনলাইন হাজিরা নিশ্চিত করতে গিয়ে এক প্রধান শিক্ষককে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমগাছের ডালে উঠতে হয়েছে। সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের অনলাইনে উপস্থিতি পাঠানোর প্রথম দিনেই এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হন পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের।

গতকাল সোমবার (১৫ জুন,২৬) থেকে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালু হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯:০০টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।

তবে বাঘাইছড়ির রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের। বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাদেও কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি।

প্রধান শিক্ষক জানান, অনলাইন হাজিরা পাঠাতে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ের আশপাশে বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা করেন। পরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে উঠে সংযোগ পান। সেখানে বসেই হাজিরা খাতার ছবি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে সক্ষম হন।

তিনি বলেন, “অনেক কষ্টে গাছের ডালে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়েছি। হাজিরা পাঠাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় আমাকে ধমকও শুনতে হয়েছে।”

চাকরি রক্ষার তাগিদেই এমন ঝুঁকি নিতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পেটের দায়ে চাকরি করি। চাকরি বাঁচাতে হলে ঝুঁকি নিতেই হবে। চাকরি না থাকলে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”

এদিকে প্রধান শিক্ষকের আমগাছে উঠে মোবাইল নেটওয়ার্ক খোঁজার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই দুর্গম এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থার কার্যকর বিকল্প বা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেসব বিদ্যালয় থেকে অনলাইনে হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার শিক্ষকরা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে হাজিরার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।”

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সংকটের বাস্তবতা নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে এ ঘটনা। ডিজিটাল ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা।