আজ ১৭ জুন ২০২৬ বুধবার সকাল ১১:০০ টায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ৮ দফার প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উপজেল যখন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সংগ্রামী সভাপতি অপর্না রায় দাস, ফ্রন্টের সিনিয়র সহ-সভাপতি গৌতম মিত্র, সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসু, এডভোকেট তন্ময় সাহা, সীমান্ত দাস প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অপর্ণা রায় দাস বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান হারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে অব্যাহতভাবে ধর্মীয় নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে একটি কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী। যে গোষ্ঠী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম কে অস্বীকার করেছিল এমনকি এখনো সেই গোষ্ঠী বাংলাদেশের অস্তিত্বকে ম্লান করে দেওয়ার অপতপ্রতায় লিপ্ত রয়েছে। এই কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী গোষ্ঠী তারা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে কলুষিত করার লক্ষ্যে এ দেশকে অস্থিতিশীল তৈরি করতে তারা উঠে পড়ে লেগেছে। এই উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ক্রমান্বয়ে এদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর হামলা এবং অবমাননা কর বিভিন্ন কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডকে বিতর্কিত করার জন্য একের পর এক সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে যা রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়। তাই আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনবান্ধব সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিনীত অনুরোধ অবিলম্বে এদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক বেষ্টনী তৈরি করে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, সংখ্যালঘু কমিশন এবং দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অবিলম্বে এ দেশের নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে আপনার সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।
বাংলাদেশ পূজা জীবন পুরাণ কেন্দ্রীয় কমিটির সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসু বলেন, বাংলাদেশ সকল মানুষের নিরাপদ বসবাসের জায়গা এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী ও উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ধর্মীয় অবমাননা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করে শান্তিপূর্ণ সহনশীল রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা তৈরীর অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এই উগ্র গোষ্ঠীর অবৈধ কর্মকান্ড রোধ করতে না পারলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব নয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ অবিলম্বে বাংলাদেশ নিপীড়িত ধর্মীয় গোষ্ঠী সহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অপর জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা ,ধর্মীয় সুরক্ষা ও তাদের জানমালের হেফাজতকল্পে অবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও সংখ্যালঘু কমিশন, দেবত্র সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ এবং এদেশে হাজার বছর ধরে প্রচলিত সংস্কৃতি ও কৃষ্টি কে ধরে রাখতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের স্বনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কৃষ্টি কালচার উদযাপনের একটি অনন্য সংগঠন । আমরা বিশ্বাস করি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী এদেশের আপামর জনসাধারণ। আমরা চাই অতীতে যে ঘটনাই ঘটেছে আর যেন কোনো ভিন্ন মতাবলম্বী গোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাসের অবমাননাকরের পুনরাবৃত্তি না ঘটে আপনার সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশে এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করি।
একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূলস্তম্ভ হলো তার প্রতিটি নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাই ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ বিনির্মাণ, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশে অনেক সনাতনীকে নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে কিছু কুচক্রী মহল। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত এক মাসে (মে ২০২৬ থেকে জুন ২০২৬) বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিক সহিংসতা সেই চেতনাকে তীব্রভাবে আঘাত করেছে।”
বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৩১ দফার ‘রেইনবো নেশন’ (রংধনু জাতি) চিন্তাধারাকে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট প্রথম থেকেই একটি যুগান্তকারী ও প্রগতিশীল পদক্ষেপ হিসেবে সাধুবাদ জানিয়ে আসছে। একটি বৈচিত্র্যময় ও সহনশীল সমাজ গঠনে এই রেইনবো নেশনের দর্শন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সরকারের এই ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাবমূর্তিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ধূলিসাৎ করার জন্য একটি কুচক্রী মহল এবং উগ্রপন্থী গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে মাঠে নেমেছে। তারা হিন্দু সম্প্রদায়কে সফট টার্গেট (Soft Target) হিসেবে ব্যবহার করে দেশে একটি কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়, যার মূল উদ্দেশ্য বর্তমান সরকারকে নাজেহাল ও ব্যর্থ প্রমাণ করা। এই কৌশলগত ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের বাস্তব চিত্রটি তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য।
সারাক্ষণ ডেস্ক 


















