আজ ২৬ জুন ২০২৬ শুক্রবার দুধ কাণ্ডে ভাইরাল এনামুল বাঘা গ্রেফতার। মাদারীপুর জেলার রাজর উপজেলার বন্দর নগরী টেকের হাটে ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট সেজে দুধ বিক্রেতাদের দুধে ভেজাল আছে এই মর্মে প্রকাশ্য দিবালোকে গরিব অসহায় দুধ বিক্রেতাদের সাথে চরম অবমাননাকর ও অপমানজনক কাজ করেন পূর্ব স্বরম মঙ্গল নিবাসী এনামুল বাঘা।
গরিব অসহায় দুধ বিক্রেতাদের দুধে ভেজাল আছে এই বলে সবার সামনে তাদের মাথায় দুধ ঢেলে দেয়। যা সম্প্রতি একটি ভিডিওতে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল ভিডিও দেখে সাধারণ জনগণ নানা ধরনের। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। অনেকেই বলেন এনামুল বাঘার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? কোন অধিকারে তিনি দুধ বিক্রেতাদের দুধে ল্যাক্টোমিটার প্রয়োগ করেন? এটি প্রয়োগ করার অধিকার তার আছে কিনা? সে কোন সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করেন কিনা? সে যে কাজ করেছে তা একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও করতে পারেন না। তাহলে কোন বলে সে কাজটি করেছে? এমনি বিভিন্ন প্রশ্ন ফেসবুক খুললেই মানুষের চোখে পড়বে।
আসলে এনামুল বাঘা যে কাজটি করেছে তা একটি ফৌজদারি অপরাধ। নিজেকে সে দন্ডমুন্ডের কর্তা মনে করেছেন। গরিব অসহায় কৃষকদের পেটে লাথি মেরেছেন। যদি কোন গরিব কৃষক বা দুধ বিক্রেতা দুধের পানি মেশান তাহলে তিনি তাকে সতর্ক করতে পারতেন। যদি তাতেও কাজ না হতো, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারতেন।
হায় সেলুকাস! এনামুল বাঘ হাজী কাজটি করেছেন। তা দেখে মনে হয় রাষ্ট্রযন্ত্রের কোন অভিভাবক নেই। তবে আশার কথা হল, অবশেষে প্রশাসনের নজরে এলো ভাইরাল এনামুল বাঘার কর্মকাণ্ড। রাজৈর থানা পুলিশ উক্ত অপরাধ আমলে নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করল। আমজনতার মাঝে স্বস্তি ফিরে এলো। রাজৈর থানার ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম এনামুল বাঘার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে অনেকেরই প্রশ্ন? তিনি কি সরকারকে বিতর্কিত করার জন্যই এমন কাজটি করেছেন? জানা যায় তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি। একটি সংগঠনের সভাপতি হতে হলে কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন আছে কিনা? এটাও এখন ভেবে দেখার বিষয়।
আশা করি গরিব দুধ বিক্রেতা ন্যায় বিচার পাবে। এবং তাদের হারানো সম্মান ও মর্যাদা তারা ফিরে পাবে। অবশেষে মানবিকতা ও ন্যায়ের জয় হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ভাইরাল এনামুল বাঘা যে কান্ড ঘটিয়েছে তা ফৌজদারি অপরাধের সামিল। কোনো ব্যক্তি যদি নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে অন্যকে প্রতারণা করেন, তাহলে ঘটনার ধরন অনুযায়ী বাংলাদেশের আইনে একাধিক অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। যেমন—
প্রতারণা (Cheating) — যদি মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কারও কাছ থেকে টাকা, সম্পদ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায় করা হয়, তবে তা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪১৫ (প্রতারণা) এবং পরিস্থিতিভেদে ধারা ৪২০ (প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি বা মূল্যবান নিরাপত্তা আদায়) অনুযায়ী অপরাধ হতে পারে।
সরকারি কর্মচারী সেজে প্রতারণা (Personating a Public Servant) — যদি কেউ নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন, তবে তা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১৭০-এর আওতায় অপরাধ।
মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা — যদি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে বিভ্রান্ত করা হয়, তাহলে ধারা ৪১৬ (Cheating by Personation) প্রযোজ্য হতে পারে।
জাল পরিচয়পত্র বা নথি ব্যবহার — যদি ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়পত্র, সিল, স্বাক্ষর বা অন্য কোনো জাল নথি ব্যবহার করা হয়, তাহলে জালিয়াতি-সংক্রান্ত ধারাগুলো (যেমন পরিস্থিতিভেদে ধারা ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১) প্রযোজ্য হতে পারে।
অর্থাৎ, নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করলে সাধারণত একসঙ্গে ধারা ১৭০, ৪১৬, ৪১৫/৪২০ এবং প্রয়োজন হলে জালিয়াতির ধারাগুলো প্রযোজ্য হতে পারে। সুনির্দিষ্টভাবে কোন ধারা প্রযোজ্য হবে, তা ঘটনার প্রকৃতি, ব্যবহৃত কৌশল এবং প্রমাণের ওপর নির্ভর করে।
এখন দেখা যাক, আইনের কোন ধারায় ভাইরাল এনামুল বাঘার বিচারকার্য সম্পন্ন হয়।
মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি: 



















