বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে পুলিশকে আরও জনবান্ধব, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার বাহিনীতে পরিণত করতে হবে। তিনি বলেন, থানায় সেবা নিতে গিয়ে এখনো অনেক সাধারণ মানুষের মনে অতিরিক্ত অর্থ বা তথাকথিত ‘চা-খরচ’ দেওয়ার ধারণা কাজ করে। এই ধারণা দূর করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে কোনো নাগরিকের অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে—এমন ধারণাও গ্রহণযোগ্য নয়। এতে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয় এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো অনেক মানুষ থানায় না গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাঁর অভিযোগ, কিছু অসাধু নেতা স্থানীয় বিরোধকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। দুই পক্ষের কাছ থেকেই অর্থ গ্রহণ, পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন এবং বিরোধ দীর্ঘায়িত করার অভিযোগও রয়েছে। ফলে ভুক্তভোগীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং বিরোধ মীমাংসার পরিবর্তে আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ইয়ারুল ইসলাম বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে যানবাহন, জ্বালানি, তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যয়ের কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে সরকারকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনানুষ্ঠানিক অর্থ গ্রহণ বা দাবি বন্ধে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি মামলার তদন্তে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে একক তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তে তিন সদস্যের তদন্ত দল গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, ওই দলে একজন পুলিশ কর্মকর্তার পাশাপাশি একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং একজন সমাজে গ্রহণযোগ্য ধর্মীয় ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, যাতে তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা ও জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব আরও বলেন, পুলিশের কার্যক্রম নিয়মিত মূল্যায়ন, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং চালু করা গেলে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে। থানাকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ কোনো ভয়, সুপারিশ বা অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই ন্যায়সংগত সেবা পাবেন।
তিনি বলেন, “পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলাই প্রকৃত পুলিশ সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানসিকতার সমন্বয় ঘটাতে পারলেই একটি আধুনিক, মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















