দীর্ঘদিন ধরে সেবাগ্রহীতাদের পদে পদে হয়রানি ও নানা অনিয়মের অভিযোগের মুখে অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. শাহজাহান কবিরকে বদলি করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে যশোরের ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টারের (ডিআরসি) উপ-পরিচালক হালিমা খাতুনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নতুন উপ-পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট (রোববার) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই প্রশাসনিক রদবদলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। বদলিকৃত উভয় কর্মকর্তাকে গত ৩১ আগস্টের মধ্যে নিজ নিজ বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যথায় ৩১ আগস্ট অপরাহ্নে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ বা স্ট্যান্ড রিলিজ (Stand Release) বলে গণ্য হবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যোগদানের পর থেকেই উপ-পরিচালক শাহজাহান কবিরের বিরুদ্ধে ফাইল আটকে রাখা, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং সেবাগ্রহীতাদের নানাভাবে হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। পাসপোর্ট অফিসের দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য ও তার খামখেয়ালি আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ মানুষ।
তার এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্থানীয়দের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল।
এই বদলির আদেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে সচেতন নাগরিকদের জোরালো দাবি, শুধুমাত্র প্রশাসনিক বদলিই শেষ কথা হতে পারে না; বরং সাবেক ডিডি শাহজাহান কবিরের মেয়াদে সংঘটিত যাবতীয় অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
নতুন কর্মকর্তা যোগদানের মাধ্যমে পাসপোর্ট অফিসের সেবার মান উন্নত হবে এবং দালালমুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















