ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এক মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও এমপিও তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ, পদ অনুযায়ী বেতন না নেওয়া এবং এমপিও নথিতে অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৩ মার্চ ১৯৯৪ সালে মোঃ মহিউদ্দিন নামে একজন জুনিয়র শিক্ষক মাদ্রাসাটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তার এমপিও ইনডেক্স নম্বর ছিল ৩৬৪৭৭৬ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মোঃ মহিউদ্দিন (পিতা: আছমত আলী মহাজন), যার এমপিও ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২ এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৫৭৭, তিনি ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পরও বিধি অনুসরণ না করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নামের মিলকে কাজে লাগিয়ে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পেলেও জুনিয়র শিক্ষক পদের বিপরীতে বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রকাশিত এমপিও শিটে ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২-এর বিপরীতে মৃত শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিনের ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬-ই উল্লেখ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এটি গুরুতর প্রশাসনিক অনিয়ম, যা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, “ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬ থাকলেও ওই হিসাব থেকে আমি কোনো বেতন উত্তোলন করিনি। নিয়োগের সময় কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।” তিনি আরও জানান, রুপালী ব্যাংক, তজুমদ্দিন শাখায় তার নিজ নামে পৃথক ব্যাংক হিসাব রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, “বর্তমানে এমপিও শিটে ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২-এর বিপরীতে ৪৬০৬ নম্বর হিসাবেই সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিনের নাম রয়েছে। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর হিসাব সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।”
তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
ভোলা জেলা প্রতিনিধি 











