ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে কিশোর অপহরণ, উখিয়ায় গ্রেপ্তার ২ উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন কাশিয়ানীতে এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ৫ হাজার কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা ‘ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদী মব সন্ত্রাসীদের উৎখাতেই সব মানুষের নিরাপদ রাষ্ট্র সম্ভব’ পাহাড়তলী গ্রীনভিউ ঈদে আজম মাহফিলে আল্লামা রেজাউল কাউসার নবীনগরে তিতাস পাড়ের অবৈধ বালু অপসারণ শুরু: শেষ পর্যন্ত কি রক্ষা পাবে নদী? অলি আহমদের বক্তব্য ঘিরে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ, রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফে আসন্ন মহা পবিত্র উরস শরীফ ২০২৭ দাওয়াতী জলসা ভোটারের কাছে যার গ্রহণযোগ্যতা বেশি দল তাকেই মনোনয়ন দেবে : আইনমন্ত্রী ধামইরহাটে ট্যাপন্ডাডল সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার  টেকনাফে নাফ নদীতে বস্তা ফেলে পালাল পাচারকারীরা, মিলল ১৪ হাজার ইয়াবা

কাশিয়ানীতে এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ৫ হাজার কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২১ জন সংবাদটি পড়েছেন

কাশিয়ানীতে এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ৫ হাজার কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা

 

মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

 

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খাগড়াবাড়িয়া গ্রামে গড়ে উঠছে এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। পুরোনো ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে কাঁচামাল উৎপাদনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাটারি উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ধাপে ধাপে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের সঙ্গে পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গ্রীন ডাইনেস্টি লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনিরা খাতুন বলেন, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ছাড়া কারখানাটি গড়ে তোলা সম্ভব হতো না। তাঁদের সহযোগিতা ও দোয়ায় একদিন এখানে ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা করেন।

তাঁর ভাষ্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে খাগড়াবাড়িয়া ও আশপাশের এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে খাগড়াবাড়িয়া একটি শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কার্যক্রম

এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও গ্রীন ডাইনেস্টি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাডভোকেট সরিফুল ইসলাম দুর্জয় বলেন, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “দক্ষ কর্মী কখনো বেকার থাকে না।”

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ নাজমুল হক সৈকত বলেন, বর্তমানে পুরোনো ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে নতুন ব্যাটারি তৈরির কাঁচামাল উৎপাদন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাটারি উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তাঁর দাবি, চীনের বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন এবং চীনের প্রকৌশলীরা সেখানে কাজ করছেন। ভারত ও নেপালের ব্যবসায়ীরাও যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি জানান।

পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমএস মেটাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কারখানা স্থাপনের সময় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, পুরোনো ব্যাটারির অংশ গলানোর প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় করা হয়। গলিত বর্জ্য যাতে কারখানার বাইরে যেতে না পারে, সে জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানায় এয়ার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এটিপি) এবং ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন করা হয়েছে। তাদের দাবি, ব্যবহৃত পানি পরিশোধন করে পুনরায় ব্যবহার করা হয় এবং ‘জিরো ডিসচার্জ’ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হচ্ছে।

ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে স্ক্রাবার ও ফিউম এক্সট্রাকশন ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিশোধন প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত ডাস্ট নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয় বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।

এ ছাড়া স্ক্র্যাপ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেফটি ট্যাংক ও সোকওয়েল এবং শ্রমিকদের জন্য আলাদা টয়লেট ও বাথরুমের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

কর্মসংস্থান নিয়ে প্রত্যাশা

প্রতিষ্ঠানটির ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় শ্রমবাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবহন, খাবার, আবাসনসহ বিভিন্ন সেবা খাতেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে কত সময়ের মধ্যে এই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পরিকল্পনাটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ওপর।

এমএস মেটাল কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে খাগড়াবাড়িয়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি শিল্পকারখানার সম্প্রসারণের সঙ্গে পরিবেশগত নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Tag :
About Author Information

Ahad Staff

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে কিশোর অপহরণ, উখিয়ায় গ্রেপ্তার ২

কাশিয়ানীতে এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ৫ হাজার কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ০৭:৫১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাশিয়ানীতে এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ৫ হাজার কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা

 

মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

 

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খাগড়াবাড়িয়া গ্রামে গড়ে উঠছে এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। পুরোনো ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে কাঁচামাল উৎপাদনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাটারি উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ধাপে ধাপে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের সঙ্গে পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গ্রীন ডাইনেস্টি লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনিরা খাতুন বলেন, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ছাড়া কারখানাটি গড়ে তোলা সম্ভব হতো না। তাঁদের সহযোগিতা ও দোয়ায় একদিন এখানে ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা করেন।

তাঁর ভাষ্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে খাগড়াবাড়িয়া ও আশপাশের এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে খাগড়াবাড়িয়া একটি শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কার্যক্রম

এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও গ্রীন ডাইনেস্টি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাডভোকেট সরিফুল ইসলাম দুর্জয় বলেন, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “দক্ষ কর্মী কখনো বেকার থাকে না।”

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ নাজমুল হক সৈকত বলেন, বর্তমানে পুরোনো ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে নতুন ব্যাটারি তৈরির কাঁচামাল উৎপাদন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাটারি উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তাঁর দাবি, চীনের বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন এবং চীনের প্রকৌশলীরা সেখানে কাজ করছেন। ভারত ও নেপালের ব্যবসায়ীরাও যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি জানান।

পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমএস মেটাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কারখানা স্থাপনের সময় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, পুরোনো ব্যাটারির অংশ গলানোর প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় করা হয়। গলিত বর্জ্য যাতে কারখানার বাইরে যেতে না পারে, সে জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানায় এয়ার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এটিপি) এবং ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন করা হয়েছে। তাদের দাবি, ব্যবহৃত পানি পরিশোধন করে পুনরায় ব্যবহার করা হয় এবং ‘জিরো ডিসচার্জ’ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হচ্ছে।

ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে স্ক্রাবার ও ফিউম এক্সট্রাকশন ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিশোধন প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত ডাস্ট নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয় বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।

এ ছাড়া স্ক্র্যাপ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেফটি ট্যাংক ও সোকওয়েল এবং শ্রমিকদের জন্য আলাদা টয়লেট ও বাথরুমের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

কর্মসংস্থান নিয়ে প্রত্যাশা

প্রতিষ্ঠানটির ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় শ্রমবাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবহন, খাবার, আবাসনসহ বিভিন্ন সেবা খাতেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে কত সময়ের মধ্যে এই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পরিকল্পনাটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ওপর।

এমএস মেটাল কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে খাগড়াবাড়িয়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি শিল্পকারখানার সম্প্রসারণের সঙ্গে পরিবেশগত নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।