বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্যের বিরোধে রাতভর সংঘর্ষ, নিহত ১; আহত ২৫
**জাহাঙ্গীর আলম**
**জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া**
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জুয়েল মিয়া (১৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর গ্রামের সেবু সরকার ও আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ৩০ জুনও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগের পর সেবু সরকার বাড়ির প্রায় ১৫০ জন লোক গত তিন মাস ধরে এলাকা ছেড়ে নরসিংদীতে অবস্থান করছিলেন। রোববার তারা এলাকায় ফিরে আসার পর দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার গভীর রাতে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।
সেবু সরকারের নাতি মোক্তার হোসেন সরকার অভিযোগ করে বলেন, তাদের বংশের প্রায় দেড়শ লোক দীর্ঘ তিন মাস ধরে এলাকা ছাড়া ছিলেন। এলাকায় ফেরার পর আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, গরু নিয়ে যাওয়া এবং মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আজগর আলী সরকার বাড়ির নেতা সাদেক মেম্বার। তিনি বলেন, **“পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। আমরা লুটপাট করিনি।”**
সংঘর্ষে আহতদের বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক জুয়েল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত স্বাধীন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নিহত জুয়েল মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের ছেন্টু মিয়ার ছেলে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার লিটন আব্দুল্লাহ বলেন, **“জুয়েল মিয়াকে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।”**
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, পাঁচটি তাজা ককটেল ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সারাক্ষণ ডেস্ক 




















