ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
৭১-এর শরণার্থী ইতিহাসের বৃহত্তম মানবিক ট্র্যাজেডি, গণহত্যার মুখে ঘর ছাড়ে দেশের প্রতি সাতজন মানুষের একজন। নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ায় মাশুকুল ইসলাম রাজীবকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ‎ জাতীয় সংলাপে বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়নে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান। বিআরটিসিতে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ সিন্ডিকেটের অভিযোগ। সাবেক প্রভাবশালী বলয়ের সদস্য জামিল হোসেনের উত্থান, বদলি-বাণিজ্য ও ঠিকাদার নির্যাতনের অভিযোগে নতুন প্রশ্ন ?  ওসমানীনগরে ডিবির বিশেষ অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক। ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চিংড়ি ঘের শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু। শারজাহ আমিরাত জুড়ে ড্রোন খাত নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নতুন আইন চালু করেছে। কালীগঞ্জে নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের চেষ্টা: সাবেক মেয়র বিজুকে আটকের পর পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল পরিবারের মহিলা ও নেতাকর্মীরা। সংবাদ প্রকাশ করেছি, অপরাধ করিনি, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের প্রতিবাদ। ভারতে মসজিদ ভাঙচুর ও মুসলিম নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান: ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার দাবি ইয়ারুল ইসলামের।

দুর্নীতির গ্রাসে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান: পরিচালক মো: মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ৯দফা গুরুতর অভিযোগ!

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • ৩৫১ জন সংবাদটি পড়েছেন

প্রাণিসম্পদ গবেষণা  প্রতিষ্ঠান, মহাখালী, ঢাকা-এর পরিচালক মো: মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ৯ দফা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়াগেছে। তিনি এ প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করেই নানা অনিয়ম,দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত হয়েছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও জনস্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলেছে। নিম্নে তার কিছু গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা হলো:

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও মূল্যায়ন নিয়ন্ত্রণ:
পরিচালক মো: মোস্তফা কামাল নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৪৭ টি এবং ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৫৪ টি টেন্ডার প্যাকেজ ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন এবং এখনও দিচ্ছেন। তিনি নিজেই কাকে কাজ দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করেন এবং মূল্যায়ন কমিটিতে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের রাখেন যারা তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন। এতে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বিলীন হয়েছে।

দরপত্র প্যাকেজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও শ্রেণি ভিত্তিক মালামাল একত্র করায় অনিয়ম:
পরিচালক মোস্তফা কামাল দরপত্র প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে একই প্যাকেজে ভিন্ন শ্রেণির পণ্য যেমন: ইকুইপমেন্ট, ব্যবহার্য দ্রব্য, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, রং,ব্লক, টাইলস, ইত্যাদি জিকে আই করে দরপত্র আহ্বান করেন। এতে করে প্রকৃত ও যোগ্য সরবরাহকারী বা ঠিকাদাররা অংশগ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত হয় এবং পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বাজেট কোডের অপব্যবহার ও অর্থ জালিয়াতি:
২০২৩-২৪ অর্থ বছরে “ঔষধ ও প্রতিষেধক” কোড থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ইকুইপমেন্ট, ব্যবহার্য দ্রব্য, রং, ব্লক, ইলেকট্রিক মালামাল, ভ্যাকসিন অটোমেটেড সফ্টওয়্যারসহ আরো অন্যান্য মালামাল কিনেছেন যা স্পষ্টভাবে কোডের পরিপন্থী।এই ধরনের ব্যয় উবষবমধঃরড়হ ড়ভ ঋরহধহপরধষ চড়বিৎং ঙৎফবৎ, ২০১৫-এর স্মারকনং ৩৫১(১) তারিখ: ১৬/০৮/২০১৫ খ্রি: এর ক্রমিক নং ৫(ক) এবং জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুলস এর বিধি ৯৬ এর উপ বিধি (১)(ক) লঙ্ঘন। যেখানে বলা হয়েছে: ঘড় বীঢ়বহফরঃঁৎব ংযধষষ নব রহপঁৎৎবফ ভৎড়স ড়হব ঐবধফ ড়ভ অপপড়ঁহঃ ভড়ৎ ঢ়ঁৎঢ়ড়ংবং হড়ঃ পড়াবৎবফ ঁহফবৎ ঃযধঃ ঐবধফ.

নিজের সুবিধাথের্ উচ্চমূল্যে,অনুমোদনহীন পণ্য ক্রয় এবং স্পেসিফিকেশন ম্যানিপুলেট করা:
দেখা গেছে, অনেক সময় মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজার দর উপেক্ষা করে অতিমূল্যে কাজ দেওয়া হয়; আবার কখনো কম মূল্যে নিম্নমানের পণ্য ক্রয় করা হয়। বেশির ভাগক্ষেত্রে গধহঁভধপঃঁৎবৎ’ং অঁঃযড়ৎরুধঃরড়হ ছাড়াই সরবরাহকারীকে কাজ দেওয়া হয়, যা সরকারি ক্রয় বিধির পরিপন্থী। এছাড়া দরপত্রের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে তৈরি বা পরিবর্তন (গধহরঢ়ঁষধঃব) করাহয়,যাতে নির্দিষ্ট ঠিকাদার বা সরবরাহকারী ছাড়া আর কেউ যোগ্য না হয়। এর ফলে প্রতিযোগিতা নষ্ট হয় এবং যোগ্য সরবরাহকারীরা বঞ্চিত হন।

নিজেই অনুমোদনকারী, নিজেই ক্রয়কারী:
পরিচালক একই সঙ্গে ক্রয় প্রস্তাব প্রস্তুতকারী (ওহরঃরধঃড়ৎ), অনুমোদনকারী (অঢ়ঢ়ৎড়ারহম অঁঃযড়ৎরঃু) এবং ক্রয় কার্য সম্পাদনকারী (চৎড়পঁৎরহম ঊহঃরঃু)হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা চঁনষরপ চৎড়পঁৎবসবহঃ জঁষবং (চচজ), ২০০৮-এর বিধি ১২৭ (পেশাগত, অসদাচরন, অপরাধ বা সরাসরি লঙ্ঘন।

অডিট ব্যবস্থাকে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভাবিত করা:
২০২৩-২৪ অর্থ বছরে নিরীক্ষা বা অডিট কার্যক্রম চলাকালীন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানিপুলেট করে সঠিক প্রতিবেদন গোপন রাখা হয়। এতে প্রকৃত অনিয়ম আড়াল হয় এবং জবাবদিহিতা নষ্ট হয়।

র্যাবিস ও এফএমডি ভ্যাকসিন উৎপাদন বন্ধ করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল:
পরিচালক ভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে র্যাবিস ভ্যাকসিন উৎপাদন বন্ধ করেছেন এবং এফএমডি ভ্যাকসিন উৎপাদন যা পূর্বে ১০০% ছিল, তা কমিয়ে ২৫%-এ নামিয়ে এনেছেন। উদ্দেশ্য একটাই —সরকারি উৎপাদন বন্ধ রেখে নিজস্ব স্বার্থে নির্দিষ্ট উৎস থেকে ক্রয় করা, যাতে তিনি লাভবান হতে পারেন। এটি টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র।

বাহ্যিক চাকচিক্যের আড়ালে ভিতরের দুর্নীতি:
পরিচালক মো: মোস্তফা কামাল বাহ্যিক পরিসরে চমৎকার আচরণ, বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশ গ্রহণ ও উচ্চ মহলের সাথে যোগাযোগ রক্ষায় সচেষ্ট থাকলেও, বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে তিনি এক নায়কতন্ত্র, ভয়ভীতি, স্বজন প্রীতি এবং অর্থনৈতিক অনিয়মে লিপ্ত। তাঁর বাহ্যিক ভাবমূর্তি দেখে অনেকেই তাঁর ভিতরের কর্মকান্ডে চোখ বুঁজে থাকেন।

রাজনৈতিক সংযোগকে ব্যবহার করে পদায়ন ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা:
অভিযোগ রয়েছে, পরিচালক মো: মোস্তফা কামাল পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মতাদর্র্শের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই সংযোগ ব্যবহার করেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানে পদায়িত হন ও দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করে আসছেন । রাজনৈতিক প্রভাবকে ব্যবহার করে তিনি নিজেকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন, ফলে কেউ তার অনিয়ম বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস করেন না। দুঃখ জনক হলেও সত্য, তিনি এই রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাকে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট করেছেন এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, যা একজন সরকারি কর্মকর্তার জন্য সম্পূর্ণ অনুচিত।

এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম, জনস্বার্থ এবং জাতীয় প্রাণিস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে পরিচালকের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দেশগ্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দ। তিনি এক সময় অবসরে চলে যাবেন, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া অভ্যন্তরীণ ক্ষত ও অব্যবস্থাপনা এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে তা ভবিষ্যতের জন্য ভয়ানক উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এ সব বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিচালক মো: মোস্তফা কামা কে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। এমনকি অফিসে গিয়েও তাকে সিটে পাওয়া যায়নি।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

৭১-এর শরণার্থী ইতিহাসের বৃহত্তম মানবিক ট্র্যাজেডি, গণহত্যার মুখে ঘর ছাড়ে দেশের প্রতি সাতজন মানুষের একজন।

দুর্নীতির গ্রাসে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান: পরিচালক মো: মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ৯দফা গুরুতর অভিযোগ!

আপডেট সময় : ১২:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

প্রাণিসম্পদ গবেষণা  প্রতিষ্ঠান, মহাখালী, ঢাকা-এর পরিচালক মো: মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ৯ দফা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়াগেছে। তিনি এ প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করেই নানা অনিয়ম,দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত হয়েছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও জনস্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলেছে। নিম্নে তার কিছু গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা হলো:

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও মূল্যায়ন নিয়ন্ত্রণ:
পরিচালক মো: মোস্তফা কামাল নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৪৭ টি এবং ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৫৪ টি টেন্ডার প্যাকেজ ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন এবং এখনও দিচ্ছেন। তিনি নিজেই কাকে কাজ দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করেন এবং মূল্যায়ন কমিটিতে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের রাখেন যারা তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন। এতে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বিলীন হয়েছে।

দরপত্র প্যাকেজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও শ্রেণি ভিত্তিক মালামাল একত্র করায় অনিয়ম:
পরিচালক মোস্তফা কামাল দরপত্র প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে একই প্যাকেজে ভিন্ন শ্রেণির পণ্য যেমন: ইকুইপমেন্ট, ব্যবহার্য দ্রব্য, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, রং,ব্লক, টাইলস, ইত্যাদি জিকে আই করে দরপত্র আহ্বান করেন। এতে করে প্রকৃত ও যোগ্য সরবরাহকারী বা ঠিকাদাররা অংশগ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত হয় এবং পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বাজেট কোডের অপব্যবহার ও অর্থ জালিয়াতি:
২০২৩-২৪ অর্থ বছরে “ঔষধ ও প্রতিষেধক” কোড থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ইকুইপমেন্ট, ব্যবহার্য দ্রব্য, রং, ব্লক, ইলেকট্রিক মালামাল, ভ্যাকসিন অটোমেটেড সফ্টওয়্যারসহ আরো অন্যান্য মালামাল কিনেছেন যা স্পষ্টভাবে কোডের পরিপন্থী।এই ধরনের ব্যয় উবষবমধঃরড়হ ড়ভ ঋরহধহপরধষ চড়বিৎং ঙৎফবৎ, ২০১৫-এর স্মারকনং ৩৫১(১) তারিখ: ১৬/০৮/২০১৫ খ্রি: এর ক্রমিক নং ৫(ক) এবং জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুলস এর বিধি ৯৬ এর উপ বিধি (১)(ক) লঙ্ঘন। যেখানে বলা হয়েছে: ঘড় বীঢ়বহফরঃঁৎব ংযধষষ নব রহপঁৎৎবফ ভৎড়স ড়হব ঐবধফ ড়ভ অপপড়ঁহঃ ভড়ৎ ঢ়ঁৎঢ়ড়ংবং হড়ঃ পড়াবৎবফ ঁহফবৎ ঃযধঃ ঐবধফ.

নিজের সুবিধাথের্ উচ্চমূল্যে,অনুমোদনহীন পণ্য ক্রয় এবং স্পেসিফিকেশন ম্যানিপুলেট করা:
দেখা গেছে, অনেক সময় মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজার দর উপেক্ষা করে অতিমূল্যে কাজ দেওয়া হয়; আবার কখনো কম মূল্যে নিম্নমানের পণ্য ক্রয় করা হয়। বেশির ভাগক্ষেত্রে গধহঁভধপঃঁৎবৎ’ং অঁঃযড়ৎরুধঃরড়হ ছাড়াই সরবরাহকারীকে কাজ দেওয়া হয়, যা সরকারি ক্রয় বিধির পরিপন্থী। এছাড়া দরপত্রের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে তৈরি বা পরিবর্তন (গধহরঢ়ঁষধঃব) করাহয়,যাতে নির্দিষ্ট ঠিকাদার বা সরবরাহকারী ছাড়া আর কেউ যোগ্য না হয়। এর ফলে প্রতিযোগিতা নষ্ট হয় এবং যোগ্য সরবরাহকারীরা বঞ্চিত হন।

নিজেই অনুমোদনকারী, নিজেই ক্রয়কারী:
পরিচালক একই সঙ্গে ক্রয় প্রস্তাব প্রস্তুতকারী (ওহরঃরধঃড়ৎ), অনুমোদনকারী (অঢ়ঢ়ৎড়ারহম অঁঃযড়ৎরঃু) এবং ক্রয় কার্য সম্পাদনকারী (চৎড়পঁৎরহম ঊহঃরঃু)হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা চঁনষরপ চৎড়পঁৎবসবহঃ জঁষবং (চচজ), ২০০৮-এর বিধি ১২৭ (পেশাগত, অসদাচরন, অপরাধ বা সরাসরি লঙ্ঘন।

অডিট ব্যবস্থাকে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভাবিত করা:
২০২৩-২৪ অর্থ বছরে নিরীক্ষা বা অডিট কার্যক্রম চলাকালীন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানিপুলেট করে সঠিক প্রতিবেদন গোপন রাখা হয়। এতে প্রকৃত অনিয়ম আড়াল হয় এবং জবাবদিহিতা নষ্ট হয়।

র্যাবিস ও এফএমডি ভ্যাকসিন উৎপাদন বন্ধ করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল:
পরিচালক ভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে র্যাবিস ভ্যাকসিন উৎপাদন বন্ধ করেছেন এবং এফএমডি ভ্যাকসিন উৎপাদন যা পূর্বে ১০০% ছিল, তা কমিয়ে ২৫%-এ নামিয়ে এনেছেন। উদ্দেশ্য একটাই —সরকারি উৎপাদন বন্ধ রেখে নিজস্ব স্বার্থে নির্দিষ্ট উৎস থেকে ক্রয় করা, যাতে তিনি লাভবান হতে পারেন। এটি টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র।

বাহ্যিক চাকচিক্যের আড়ালে ভিতরের দুর্নীতি:
পরিচালক মো: মোস্তফা কামাল বাহ্যিক পরিসরে চমৎকার আচরণ, বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশ গ্রহণ ও উচ্চ মহলের সাথে যোগাযোগ রক্ষায় সচেষ্ট থাকলেও, বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে তিনি এক নায়কতন্ত্র, ভয়ভীতি, স্বজন প্রীতি এবং অর্থনৈতিক অনিয়মে লিপ্ত। তাঁর বাহ্যিক ভাবমূর্তি দেখে অনেকেই তাঁর ভিতরের কর্মকান্ডে চোখ বুঁজে থাকেন।

রাজনৈতিক সংযোগকে ব্যবহার করে পদায়ন ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা:
অভিযোগ রয়েছে, পরিচালক মো: মোস্তফা কামাল পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মতাদর্র্শের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই সংযোগ ব্যবহার করেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানে পদায়িত হন ও দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করে আসছেন । রাজনৈতিক প্রভাবকে ব্যবহার করে তিনি নিজেকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন, ফলে কেউ তার অনিয়ম বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস করেন না। দুঃখ জনক হলেও সত্য, তিনি এই রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাকে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট করেছেন এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, যা একজন সরকারি কর্মকর্তার জন্য সম্পূর্ণ অনুচিত।

এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম, জনস্বার্থ এবং জাতীয় প্রাণিস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে পরিচালকের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দেশগ্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দ। তিনি এক সময় অবসরে চলে যাবেন, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া অভ্যন্তরীণ ক্ষত ও অব্যবস্থাপনা এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে তা ভবিষ্যতের জন্য ভয়ানক উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এ সব বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিচালক মো: মোস্তফা কামা কে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। এমনকি অফিসে গিয়েও তাকে সিটে পাওয়া যায়নি।