ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বিএসএফের গুলিতে রক্তাক্ত হলো সীমান্ত। রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যেতে হয় নৌকায়। গাজীপুরে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ঠাকুরগাঁওয়ে কলাবাগান থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার। সাতকানিয়ায় জোরপূর্বক কৃষিজমি কর্তন, থানায় অভিযোগ। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর। ভুয়া “প্রাচীন পিলার-কয়েন” বাণিজ্যে শত কোটি টাকার প্রতারণা : কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ–সোহেল সিন্ডিকেটের ভয়ঙ্কর জাল-জালিয়াতি!  গীতার আলোয় আলোকিত মাদারীপুর গড়তে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাদারীপুর -২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব জাহান্দার আলী মিয়া। টেকেরহাটে নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ইউসিবি ব্যাংকের জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন, সভাপতি রফিক-সম্পাদক রেজা।

কেয়ারটেকার থেকে কোটিপতি!!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৫৩ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

আব্দুর রশিদ গোলন্দাজ। শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর গ্রামের পবন আলী গোলন্দাজের ছেলে। ছিলেন প্রয়াত পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির কেয়ারটেকার। এরপর প্রয়াত মন্ত্রীর ছেলে নাহিম রাজ্জাকের এপিএস হিসাবে কাজ করতেন। পরে তিনি ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যন নির্বাচিত হন। এরপর চলতি বছর ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরু করেন টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও মনোনয়ন বাণিজ্য। এভাবেই কোটিপতি বনে গেছেন।

ব্যবহার করেন বিলাসবহুল গাড়ি। নামে-বেনামে রয়েছে তার অঢেল সম্পদ। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি এলাকা থেকে পলাতক রয়েছেন। জানা যায়, আব্দুর রশিদ গোলন্দাজের বাবা ছিলেন একজন কৃষক। ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী নিজেকে এসএসসি পাশ দাবি করলেও এলাকার লোকজন বলছেন আব্দুর রশিদ অষ্টম শ্রেণি পাশ। তিনি ১৯৯৫ সালে প্রয়াত পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসাবে কাজ শুরু করেন।

 

১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আশার পর শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুর রাজ্জাক পানিসম্পদমন্ত্রী হন। তিনি আব্দুর রশিদকে ব্যক্তিগত এপিএস হিসাবে নিয়োগ করেন। সেই থেকে আর আব্দুর রশিদ গোলন্দাজকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ।

২০১১ সালে আব্দুর রাজ্জাক মারা যাওয়ায় ২০১২ সালে ছেলে নাহিম রাজ্জাক ওই আসনে উপনির্বাচনে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাবার নিয়োগ করা আব্দুর রশিদ গোলন্দাজকে ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) হিসাবে রেখে দেন। নাহিম রাজ্জাকের এপিএস হওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরু করেন টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, মনোনয়ন বাণিজ্য এবং কোণঠাসা করতে শুরু করেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদেরও।

২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ডামুড্যা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে এমপি নাহিম রাজ্জাকের প্রভাবে দলীয়ভাবে মনোনয়ন নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার ইশারায় মনোনয়ন দেওয়া হতো বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থীদের। এভাবে কামিয়েছেন শতকোটি টাকা। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই নাহিম রাজ্জাকের বদলৌতে বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করেন

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএসএফের গুলিতে রক্তাক্ত হলো সীমান্ত।

কেয়ারটেকার থেকে কোটিপতি!!

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

আব্দুর রশিদ গোলন্দাজ। শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর গ্রামের পবন আলী গোলন্দাজের ছেলে। ছিলেন প্রয়াত পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির কেয়ারটেকার। এরপর প্রয়াত মন্ত্রীর ছেলে নাহিম রাজ্জাকের এপিএস হিসাবে কাজ করতেন। পরে তিনি ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যন নির্বাচিত হন। এরপর চলতি বছর ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরু করেন টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও মনোনয়ন বাণিজ্য। এভাবেই কোটিপতি বনে গেছেন।

ব্যবহার করেন বিলাসবহুল গাড়ি। নামে-বেনামে রয়েছে তার অঢেল সম্পদ। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি এলাকা থেকে পলাতক রয়েছেন। জানা যায়, আব্দুর রশিদ গোলন্দাজের বাবা ছিলেন একজন কৃষক। ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী নিজেকে এসএসসি পাশ দাবি করলেও এলাকার লোকজন বলছেন আব্দুর রশিদ অষ্টম শ্রেণি পাশ। তিনি ১৯৯৫ সালে প্রয়াত পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসাবে কাজ শুরু করেন।

 

১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আশার পর শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুর রাজ্জাক পানিসম্পদমন্ত্রী হন। তিনি আব্দুর রশিদকে ব্যক্তিগত এপিএস হিসাবে নিয়োগ করেন। সেই থেকে আর আব্দুর রশিদ গোলন্দাজকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ।

২০১১ সালে আব্দুর রাজ্জাক মারা যাওয়ায় ২০১২ সালে ছেলে নাহিম রাজ্জাক ওই আসনে উপনির্বাচনে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাবার নিয়োগ করা আব্দুর রশিদ গোলন্দাজকে ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) হিসাবে রেখে দেন। নাহিম রাজ্জাকের এপিএস হওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরু করেন টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, মনোনয়ন বাণিজ্য এবং কোণঠাসা করতে শুরু করেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদেরও।

২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ডামুড্যা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে এমপি নাহিম রাজ্জাকের প্রভাবে দলীয়ভাবে মনোনয়ন নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার ইশারায় মনোনয়ন দেওয়া হতো বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থীদের। এভাবে কামিয়েছেন শতকোটি টাকা। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই নাহিম রাজ্জাকের বদলৌতে বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করেন