ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ধামরাইয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৩। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার পুনর্বহাল নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন। বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবী কারাদণ্ডে দণ্ডিত।  বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাতে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ: বাইরে থেকে তালা মেরে বসতঘরে আগুন, প্রাণনাশের চেষ্টা। ভোলাহাট সীমান্তে ডিএনসি’র অভিযানে হেরোইনসহ আটক ১। আমার রক্তে বাঁচুক প্রাণ ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। মাদারীপুরের রাজৈরে ঐতিহ্যবাহী হোলি উৎসব ২০২৬, অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মাত্রায়, নতুন কলেবরে কদমবাড়ী দিঘীর পাড়।  মাদারীপুরের রাজৈরে স্বচ্ছ সাংবাদিকতা,পেশাগত দায়িত্ববোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ও সামাজিক অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সারাক্ষণ বার্তা পরিবারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর, প্রাণবন্ত, ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল। মহাসড়কের সংরক্ষিত জায়গা দখল: নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ঢাকা–রংপুর ফোর লেন।! ইলিশ ধরায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা, চরম ভোগান্তিতে ভোলার লক্ষাধিক জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ।

“মানুষ মানুষের জন্য” আবারো প্রমাণিত হলো।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৫৯ জন সংবাদটি পড়েছেন

বুকের ভেতরটা কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো একটি দৃশ্য! বাবা-মায়ের সাথে পাহাড়ি ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলো ছোট্ট একটি শিশু। কে জানতো, প্রকৃতির সেই অপরূপ রূপই মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়ংকর মৃত্যু ফাঁদ হয়ে উঠবে!

হঠাৎ করেই ঝর্ণার তীব্র স্রোত অবুঝ শশুটিকে ভাসিয়ে নিয়ে আটকে ফেলে দুটি পাহাড়ের দুর্গম খাঁজে।  একপাশে উত্তাল পানির স্রোত, অন্যপাশে পাথরের কঠিন দেয়াল—মাঝখানে অসহায় শিশুটির বাঁচার জন্য আর্তচিৎকার! বাবা-মায়ের পৃথিবী যেন সেই মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল।

যখন প্রায় সমস্ত আশা শেষ, ঠিক তখনই সেখানে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। উপস্থিত পর্যটকরা আর দর্শক হয়ে থাকতে পারলেন না। জেগে উঠলো তাদের ভেতরের মানবতা!

কয়েকজন সাহসী মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একে অপরের হাত ধরে শক্ত করে দাঁড়িয়ে গেলেন পানির স্রোতের সামনে। তারা শরীর দিয়ে তৈরি করলেন এক “মানবিক দেয়াল”, যাতে ঝর্ণার ভয়ংকর স্রোত কিছুটা বাধা পায় এবং শিশুটি ভেসে না যায়। একদিকে তীব্র স্রোতের চাপ, অন্যদিকে পাথরের খাঁজে আটকে থাকা শিশুটির কান্না ,সব মিলিয়ে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি!

অনেকক্ষণ চেষ্টার পর, অসীম সাহসিকতা আর বুদ্ধিমত্তার জোরে তারা সফল হন। কৌশলে ছোট্ট শিশুটিকে সেই ভয়ংকর ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনাটি শুধু একটি উদ্ধারকাজ নয়, এটি এক চরম সংকটে মানুষের একতার নিদর্শন। প্রমাণ করে, ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে বিপদের মুহূর্তে অপরিচিত মানুষগুলোই হয়ে ওঠে একে অপরের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা রাখছি যে সকল মহৎ প্রাণ মানুষগুলো দুর্ঘটনায় নিপতিত নাবালক শিশুটিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে শুধু বাবা- মায়ের মুখে হাসি ফোটায়নি।তারা আমাদের হৃদয়ের চক্ষু ফুটিয়ে দিয়েছে। শিশুটি নিরাপদে তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে গেছে।এটাই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। আমাদের হাজার বছরের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক নিগূঢ় মেলবন্ধন।যা মানবিক দায়বদ্ধতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।স্যালুট সেই সকল প্রকৃত নায়ককে, যারা প্রমাণ করলেন—মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৩।

“মানুষ মানুষের জন্য” আবারো প্রমাণিত হলো।

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বুকের ভেতরটা কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো একটি দৃশ্য! বাবা-মায়ের সাথে পাহাড়ি ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলো ছোট্ট একটি শিশু। কে জানতো, প্রকৃতির সেই অপরূপ রূপই মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়ংকর মৃত্যু ফাঁদ হয়ে উঠবে!

হঠাৎ করেই ঝর্ণার তীব্র স্রোত অবুঝ শশুটিকে ভাসিয়ে নিয়ে আটকে ফেলে দুটি পাহাড়ের দুর্গম খাঁজে।  একপাশে উত্তাল পানির স্রোত, অন্যপাশে পাথরের কঠিন দেয়াল—মাঝখানে অসহায় শিশুটির বাঁচার জন্য আর্তচিৎকার! বাবা-মায়ের পৃথিবী যেন সেই মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল।

যখন প্রায় সমস্ত আশা শেষ, ঠিক তখনই সেখানে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। উপস্থিত পর্যটকরা আর দর্শক হয়ে থাকতে পারলেন না। জেগে উঠলো তাদের ভেতরের মানবতা!

কয়েকজন সাহসী মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একে অপরের হাত ধরে শক্ত করে দাঁড়িয়ে গেলেন পানির স্রোতের সামনে। তারা শরীর দিয়ে তৈরি করলেন এক “মানবিক দেয়াল”, যাতে ঝর্ণার ভয়ংকর স্রোত কিছুটা বাধা পায় এবং শিশুটি ভেসে না যায়। একদিকে তীব্র স্রোতের চাপ, অন্যদিকে পাথরের খাঁজে আটকে থাকা শিশুটির কান্না ,সব মিলিয়ে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি!

অনেকক্ষণ চেষ্টার পর, অসীম সাহসিকতা আর বুদ্ধিমত্তার জোরে তারা সফল হন। কৌশলে ছোট্ট শিশুটিকে সেই ভয়ংকর ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনাটি শুধু একটি উদ্ধারকাজ নয়, এটি এক চরম সংকটে মানুষের একতার নিদর্শন। প্রমাণ করে, ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে বিপদের মুহূর্তে অপরিচিত মানুষগুলোই হয়ে ওঠে একে অপরের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা রাখছি যে সকল মহৎ প্রাণ মানুষগুলো দুর্ঘটনায় নিপতিত নাবালক শিশুটিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে শুধু বাবা- মায়ের মুখে হাসি ফোটায়নি।তারা আমাদের হৃদয়ের চক্ষু ফুটিয়ে দিয়েছে। শিশুটি নিরাপদে তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে গেছে।এটাই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। আমাদের হাজার বছরের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক নিগূঢ় মেলবন্ধন।যা মানবিক দায়বদ্ধতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।স্যালুট সেই সকল প্রকৃত নায়ককে, যারা প্রমাণ করলেন—মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।