ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর জাতীয়তাবাদী ব্যাটারী চালিত থ্রি-হুইলারযান শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন আবুল হাসান খান

“মানুষ মানুষের জন্য” আবারো প্রমাণিত হলো।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪৪৩ জন সংবাদটি পড়েছেন

বুকের ভেতরটা কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো একটি দৃশ্য! বাবা-মায়ের সাথে পাহাড়ি ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলো ছোট্ট একটি শিশু। কে জানতো, প্রকৃতির সেই অপরূপ রূপই মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়ংকর মৃত্যু ফাঁদ হয়ে উঠবে!

হঠাৎ করেই ঝর্ণার তীব্র স্রোত অবুঝ শশুটিকে ভাসিয়ে নিয়ে আটকে ফেলে দুটি পাহাড়ের দুর্গম খাঁজে।  একপাশে উত্তাল পানির স্রোত, অন্যপাশে পাথরের কঠিন দেয়াল—মাঝখানে অসহায় শিশুটির বাঁচার জন্য আর্তচিৎকার! বাবা-মায়ের পৃথিবী যেন সেই মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল।

যখন প্রায় সমস্ত আশা শেষ, ঠিক তখনই সেখানে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। উপস্থিত পর্যটকরা আর দর্শক হয়ে থাকতে পারলেন না। জেগে উঠলো তাদের ভেতরের মানবতা!

কয়েকজন সাহসী মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একে অপরের হাত ধরে শক্ত করে দাঁড়িয়ে গেলেন পানির স্রোতের সামনে। তারা শরীর দিয়ে তৈরি করলেন এক “মানবিক দেয়াল”, যাতে ঝর্ণার ভয়ংকর স্রোত কিছুটা বাধা পায় এবং শিশুটি ভেসে না যায়। একদিকে তীব্র স্রোতের চাপ, অন্যদিকে পাথরের খাঁজে আটকে থাকা শিশুটির কান্না ,সব মিলিয়ে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি!

অনেকক্ষণ চেষ্টার পর, অসীম সাহসিকতা আর বুদ্ধিমত্তার জোরে তারা সফল হন। কৌশলে ছোট্ট শিশুটিকে সেই ভয়ংকর ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনাটি শুধু একটি উদ্ধারকাজ নয়, এটি এক চরম সংকটে মানুষের একতার নিদর্শন। প্রমাণ করে, ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে বিপদের মুহূর্তে অপরিচিত মানুষগুলোই হয়ে ওঠে একে অপরের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা রাখছি যে সকল মহৎ প্রাণ মানুষগুলো দুর্ঘটনায় নিপতিত নাবালক শিশুটিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে শুধু বাবা- মায়ের মুখে হাসি ফোটায়নি।তারা আমাদের হৃদয়ের চক্ষু ফুটিয়ে দিয়েছে। শিশুটি নিরাপদে তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে গেছে।এটাই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। আমাদের হাজার বছরের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক নিগূঢ় মেলবন্ধন।যা মানবিক দায়বদ্ধতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।স্যালুট সেই সকল প্রকৃত নায়ককে, যারা প্রমাণ করলেন—মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

“মানুষ মানুষের জন্য” আবারো প্রমাণিত হলো।

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বুকের ভেতরটা কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো একটি দৃশ্য! বাবা-মায়ের সাথে পাহাড়ি ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলো ছোট্ট একটি শিশু। কে জানতো, প্রকৃতির সেই অপরূপ রূপই মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়ংকর মৃত্যু ফাঁদ হয়ে উঠবে!

হঠাৎ করেই ঝর্ণার তীব্র স্রোত অবুঝ শশুটিকে ভাসিয়ে নিয়ে আটকে ফেলে দুটি পাহাড়ের দুর্গম খাঁজে।  একপাশে উত্তাল পানির স্রোত, অন্যপাশে পাথরের কঠিন দেয়াল—মাঝখানে অসহায় শিশুটির বাঁচার জন্য আর্তচিৎকার! বাবা-মায়ের পৃথিবী যেন সেই মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল।

যখন প্রায় সমস্ত আশা শেষ, ঠিক তখনই সেখানে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। উপস্থিত পর্যটকরা আর দর্শক হয়ে থাকতে পারলেন না। জেগে উঠলো তাদের ভেতরের মানবতা!

কয়েকজন সাহসী মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একে অপরের হাত ধরে শক্ত করে দাঁড়িয়ে গেলেন পানির স্রোতের সামনে। তারা শরীর দিয়ে তৈরি করলেন এক “মানবিক দেয়াল”, যাতে ঝর্ণার ভয়ংকর স্রোত কিছুটা বাধা পায় এবং শিশুটি ভেসে না যায়। একদিকে তীব্র স্রোতের চাপ, অন্যদিকে পাথরের খাঁজে আটকে থাকা শিশুটির কান্না ,সব মিলিয়ে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি!

অনেকক্ষণ চেষ্টার পর, অসীম সাহসিকতা আর বুদ্ধিমত্তার জোরে তারা সফল হন। কৌশলে ছোট্ট শিশুটিকে সেই ভয়ংকর ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনাটি শুধু একটি উদ্ধারকাজ নয়, এটি এক চরম সংকটে মানুষের একতার নিদর্শন। প্রমাণ করে, ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে বিপদের মুহূর্তে অপরিচিত মানুষগুলোই হয়ে ওঠে একে অপরের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা রাখছি যে সকল মহৎ প্রাণ মানুষগুলো দুর্ঘটনায় নিপতিত নাবালক শিশুটিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে শুধু বাবা- মায়ের মুখে হাসি ফোটায়নি।তারা আমাদের হৃদয়ের চক্ষু ফুটিয়ে দিয়েছে। শিশুটি নিরাপদে তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে গেছে।এটাই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। আমাদের হাজার বছরের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক নিগূঢ় মেলবন্ধন।যা মানবিক দায়বদ্ধতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।স্যালুট সেই সকল প্রকৃত নায়ককে, যারা প্রমাণ করলেন—মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।