ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : ১জনের ফাঁসি ৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা, ৪জন খালাস সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাবেন সেই গৃহবধূ। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষক এর বিরুদ্ধে। ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা: বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। কচুয়ায় গাছ কাটতে গিয়ে ১২ বছরের শিশুর মৃত্যু, বিচার দাবি পরিবারের। নেত্রকোণায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ৭তম ‎মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা,দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত।  ঘাঘটের ভাঙনে ঝুঁকিতে শহররক্ষা বাঁধ: পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ। শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি নয়, জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হোক। হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আজ থেকে ভেঙে গেল। ইরানি বিমানকে আটকাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলা। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি।

“মানুষ মানুষের জন্য” আবারো প্রমাণিত হলো।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩৭৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

বুকের ভেতরটা কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো একটি দৃশ্য! বাবা-মায়ের সাথে পাহাড়ি ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলো ছোট্ট একটি শিশু। কে জানতো, প্রকৃতির সেই অপরূপ রূপই মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়ংকর মৃত্যু ফাঁদ হয়ে উঠবে!

হঠাৎ করেই ঝর্ণার তীব্র স্রোত অবুঝ শশুটিকে ভাসিয়ে নিয়ে আটকে ফেলে দুটি পাহাড়ের দুর্গম খাঁজে।  একপাশে উত্তাল পানির স্রোত, অন্যপাশে পাথরের কঠিন দেয়াল—মাঝখানে অসহায় শিশুটির বাঁচার জন্য আর্তচিৎকার! বাবা-মায়ের পৃথিবী যেন সেই মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল।

যখন প্রায় সমস্ত আশা শেষ, ঠিক তখনই সেখানে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। উপস্থিত পর্যটকরা আর দর্শক হয়ে থাকতে পারলেন না। জেগে উঠলো তাদের ভেতরের মানবতা!

কয়েকজন সাহসী মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একে অপরের হাত ধরে শক্ত করে দাঁড়িয়ে গেলেন পানির স্রোতের সামনে। তারা শরীর দিয়ে তৈরি করলেন এক “মানবিক দেয়াল”, যাতে ঝর্ণার ভয়ংকর স্রোত কিছুটা বাধা পায় এবং শিশুটি ভেসে না যায়। একদিকে তীব্র স্রোতের চাপ, অন্যদিকে পাথরের খাঁজে আটকে থাকা শিশুটির কান্না ,সব মিলিয়ে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি!

অনেকক্ষণ চেষ্টার পর, অসীম সাহসিকতা আর বুদ্ধিমত্তার জোরে তারা সফল হন। কৌশলে ছোট্ট শিশুটিকে সেই ভয়ংকর ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনাটি শুধু একটি উদ্ধারকাজ নয়, এটি এক চরম সংকটে মানুষের একতার নিদর্শন। প্রমাণ করে, ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে বিপদের মুহূর্তে অপরিচিত মানুষগুলোই হয়ে ওঠে একে অপরের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা রাখছি যে সকল মহৎ প্রাণ মানুষগুলো দুর্ঘটনায় নিপতিত নাবালক শিশুটিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে শুধু বাবা- মায়ের মুখে হাসি ফোটায়নি।তারা আমাদের হৃদয়ের চক্ষু ফুটিয়ে দিয়েছে। শিশুটি নিরাপদে তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে গেছে।এটাই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। আমাদের হাজার বছরের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক নিগূঢ় মেলবন্ধন।যা মানবিক দায়বদ্ধতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।স্যালুট সেই সকল প্রকৃত নায়ককে, যারা প্রমাণ করলেন—মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ।

“মানুষ মানুষের জন্য” আবারো প্রমাণিত হলো।

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বুকের ভেতরটা কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো একটি দৃশ্য! বাবা-মায়ের সাথে পাহাড়ি ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলো ছোট্ট একটি শিশু। কে জানতো, প্রকৃতির সেই অপরূপ রূপই মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়ংকর মৃত্যু ফাঁদ হয়ে উঠবে!

হঠাৎ করেই ঝর্ণার তীব্র স্রোত অবুঝ শশুটিকে ভাসিয়ে নিয়ে আটকে ফেলে দুটি পাহাড়ের দুর্গম খাঁজে।  একপাশে উত্তাল পানির স্রোত, অন্যপাশে পাথরের কঠিন দেয়াল—মাঝখানে অসহায় শিশুটির বাঁচার জন্য আর্তচিৎকার! বাবা-মায়ের পৃথিবী যেন সেই মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল।

যখন প্রায় সমস্ত আশা শেষ, ঠিক তখনই সেখানে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। উপস্থিত পর্যটকরা আর দর্শক হয়ে থাকতে পারলেন না। জেগে উঠলো তাদের ভেতরের মানবতা!

কয়েকজন সাহসী মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একে অপরের হাত ধরে শক্ত করে দাঁড়িয়ে গেলেন পানির স্রোতের সামনে। তারা শরীর দিয়ে তৈরি করলেন এক “মানবিক দেয়াল”, যাতে ঝর্ণার ভয়ংকর স্রোত কিছুটা বাধা পায় এবং শিশুটি ভেসে না যায়। একদিকে তীব্র স্রোতের চাপ, অন্যদিকে পাথরের খাঁজে আটকে থাকা শিশুটির কান্না ,সব মিলিয়ে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি!

অনেকক্ষণ চেষ্টার পর, অসীম সাহসিকতা আর বুদ্ধিমত্তার জোরে তারা সফল হন। কৌশলে ছোট্ট শিশুটিকে সেই ভয়ংকর ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনাটি শুধু একটি উদ্ধারকাজ নয়, এটি এক চরম সংকটে মানুষের একতার নিদর্শন। প্রমাণ করে, ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে বিপদের মুহূর্তে অপরিচিত মানুষগুলোই হয়ে ওঠে একে অপরের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা রাখছি যে সকল মহৎ প্রাণ মানুষগুলো দুর্ঘটনায় নিপতিত নাবালক শিশুটিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে শুধু বাবা- মায়ের মুখে হাসি ফোটায়নি।তারা আমাদের হৃদয়ের চক্ষু ফুটিয়ে দিয়েছে। শিশুটি নিরাপদে তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে গেছে।এটাই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। আমাদের হাজার বছরের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক নিগূঢ় মেলবন্ধন।যা মানবিক দায়বদ্ধতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।স্যালুট সেই সকল প্রকৃত নায়ককে, যারা প্রমাণ করলেন—মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।