ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার-৫। বীরগঞ্জে বাসাবাড়ী- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও মহিলাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন। হাওরে ব্যবহৃত চায়না দুয়ারি জাল” বন্ধের দাবিতে মামদনেনববন্ধন। রথযাত্রা: ইতিহাস, সনাতন সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা, আধ্যাত্মিক দর্শন ও মানবমুক্তির চিরন্তন বার্তা। হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসকে ঘিরে বিতর্ক: আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কঠিন পরীক্ষা। কিশোরগঞ্জ মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা। সিলেটে জামায়াত সমর্থিত ১৭ সরকারি আইনজীবীর একযোগে পদত্যাগ। রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তায় ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। উত্তরায় বাসের চাপায় দুই সাংবাদিক নিহত, নিরাপদ সড়কের দাবি সহকর্মীদের। আর্জেন্টিনার বিজয়ে ভোররাত থেকেই ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তায় সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাস।

শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে মাগুরার দাতিয়াদহ পাল পাড়ায় দুর্গা পূজা

 

হিন্দুদের দূর্গা পূজা।উৎসবের সেরা মজা। আছে পূজা,আছে সামাজিকতা, আছে মহানুভবতার ছোয়া,আছে ভালবাসা, আছে আবেগ।তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পূজা,ভালবাসা সব মিলিয়েই পালন করতে আসে আপনালয়ে। পূজা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলে-ও সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে সময় লাগে। তাই দেবী দুর্গার বিসর্জন হলেও এ পূজা যেন নতুন কোন আনুষ্ঠানিকতার জন্ম দেয়। আপনজনকে নতুন করে কাছে পায়।যে আবেগ নিয়ে দূর থেকে ছুটে আসে সে আবেগ যেন মন থেকে যায় না। দেবী দুর্গার বিদায় হলে প্রকৃতি যেন বিদায় বেদনার আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

মাগুরা জেলার ৯১৮০০০ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৬৪০০০ হিন্দু।এই জনগোষ্ঠী এ বছর ৬১৯ টি প্রতিমা মন্দিরে দুর্গা পূজা সম্পন্ন করেছে।

গত কাল (০২/১০/২৫)আনুষ্ঠানিক বিসর্জন ছিল।আজ০৩/১০/২৫ দাতিয়াদহের পাল পাড়ার ঘাটে বিসর্জন হলো দূর্গা প্রতিমা।এ উপলক্ষ্যে মধুমতী নদীর ধারে মেহগনি বনে আয়োজন হয়েছিল আড়ং।এ আড়ং শুধু আজ থেকে নয়,পাল পাড়ার জন্ম থেজেই এ আয়োজন,এখনও বিদ্যমান।এক সময় এ গ্রাম সহ তারাপুর গ্রামের প্রতিমা একত্রিত করে নৌকায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বিসর্জন দেওয়া হতো। আর নৌকার উপরই চলত আরতি। নৃত্য পটিয়সি নারী পুরুষ এ আরতিতে যোগ দিত।নাচের তালে তালে দেবীকে মুগ্ধ করা।

আমার ছেলে বেলা থেকেই এ আড়ংয়ে আড়ম্বর উপস্থিতি ছিল।তখন আসতাম নানার হাত ধরে।নানা একেবারে পরহেজগার মুসলমান ছিলেন।কোনদিন নামাজ কাজা পড়তে দেখিনি।কোরান Recite করতে দেখেছি প্রতি ফজর নামাজ পর।শব্দ দূষণ হীন সেই সময়ে অনেক দূর থেকে তার আওয়াজ শোনা যেত।তিনি কিনতে আসতেন সংসারের জিনিসপত্র। আর আমাকে কিনে দিতেন দানাদার, কদমা,কটকটি(গজা)। ভীষণ খুশী হতাম।সাম্প্রদায়িক কোন শব্দ উচ্চারণ করতে শুনিনি। সদা হাস্যোজ্জ্বল সকল মানুষের সাথে নমনীয় আচরণ দেখেছি। এ আড়ং ছিল এলাকার মানুষের মিলন আড়ং,মিলন মেলা। মেলাকে তখন আড়ংই বলত। এখন মেলা বলে। আড়ং শব্দটা প্রায় বিলুপ্ত। প্রায় বিলুপ্ত সৌহার্দের মত। সারা দেশে ১৯৭১ সাল থেকে মন্দির,প্রতিমা ভাংগার অনেক গান শুনলেও এ গ্রামের মন্দিরে কোনদিন দূর্বৃত্তের ছোয়া পড়েছে আমার জানা নেই।

১৯৪৭ সালে ধর্ম দিয়ে মাটিতে খন্ডিত চিহ্ন পড়লেও সংস্কৃতি এ মানুষ গুলোকে এখনও খন্ডিত করতে পারে নাই। তাই এ ধরনের আড়ংয়ে হিন্দু মুসলমান উভয়ের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

এখনো উভয়ের মিলনে প্রানবন্ত হয় দাতিয়াদহের পাল পাড়ার দুর্গা পূজার আড়ং।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার-৫।

শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে মাগুরার দাতিয়াদহ পাল পাড়ায় দুর্গা পূজা

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

 

হিন্দুদের দূর্গা পূজা।উৎসবের সেরা মজা। আছে পূজা,আছে সামাজিকতা, আছে মহানুভবতার ছোয়া,আছে ভালবাসা, আছে আবেগ।তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পূজা,ভালবাসা সব মিলিয়েই পালন করতে আসে আপনালয়ে। পূজা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলে-ও সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে সময় লাগে। তাই দেবী দুর্গার বিসর্জন হলেও এ পূজা যেন নতুন কোন আনুষ্ঠানিকতার জন্ম দেয়। আপনজনকে নতুন করে কাছে পায়।যে আবেগ নিয়ে দূর থেকে ছুটে আসে সে আবেগ যেন মন থেকে যায় না। দেবী দুর্গার বিদায় হলে প্রকৃতি যেন বিদায় বেদনার আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

মাগুরা জেলার ৯১৮০০০ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৬৪০০০ হিন্দু।এই জনগোষ্ঠী এ বছর ৬১৯ টি প্রতিমা মন্দিরে দুর্গা পূজা সম্পন্ন করেছে।

গত কাল (০২/১০/২৫)আনুষ্ঠানিক বিসর্জন ছিল।আজ০৩/১০/২৫ দাতিয়াদহের পাল পাড়ার ঘাটে বিসর্জন হলো দূর্গা প্রতিমা।এ উপলক্ষ্যে মধুমতী নদীর ধারে মেহগনি বনে আয়োজন হয়েছিল আড়ং।এ আড়ং শুধু আজ থেকে নয়,পাল পাড়ার জন্ম থেজেই এ আয়োজন,এখনও বিদ্যমান।এক সময় এ গ্রাম সহ তারাপুর গ্রামের প্রতিমা একত্রিত করে নৌকায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বিসর্জন দেওয়া হতো। আর নৌকার উপরই চলত আরতি। নৃত্য পটিয়সি নারী পুরুষ এ আরতিতে যোগ দিত।নাচের তালে তালে দেবীকে মুগ্ধ করা।

আমার ছেলে বেলা থেকেই এ আড়ংয়ে আড়ম্বর উপস্থিতি ছিল।তখন আসতাম নানার হাত ধরে।নানা একেবারে পরহেজগার মুসলমান ছিলেন।কোনদিন নামাজ কাজা পড়তে দেখিনি।কোরান Recite করতে দেখেছি প্রতি ফজর নামাজ পর।শব্দ দূষণ হীন সেই সময়ে অনেক দূর থেকে তার আওয়াজ শোনা যেত।তিনি কিনতে আসতেন সংসারের জিনিসপত্র। আর আমাকে কিনে দিতেন দানাদার, কদমা,কটকটি(গজা)। ভীষণ খুশী হতাম।সাম্প্রদায়িক কোন শব্দ উচ্চারণ করতে শুনিনি। সদা হাস্যোজ্জ্বল সকল মানুষের সাথে নমনীয় আচরণ দেখেছি। এ আড়ং ছিল এলাকার মানুষের মিলন আড়ং,মিলন মেলা। মেলাকে তখন আড়ংই বলত। এখন মেলা বলে। আড়ং শব্দটা প্রায় বিলুপ্ত। প্রায় বিলুপ্ত সৌহার্দের মত। সারা দেশে ১৯৭১ সাল থেকে মন্দির,প্রতিমা ভাংগার অনেক গান শুনলেও এ গ্রামের মন্দিরে কোনদিন দূর্বৃত্তের ছোয়া পড়েছে আমার জানা নেই।

১৯৪৭ সালে ধর্ম দিয়ে মাটিতে খন্ডিত চিহ্ন পড়লেও সংস্কৃতি এ মানুষ গুলোকে এখনও খন্ডিত করতে পারে নাই। তাই এ ধরনের আড়ংয়ে হিন্দু মুসলমান উভয়ের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

এখনো উভয়ের মিলনে প্রানবন্ত হয় দাতিয়াদহের পাল পাড়ার দুর্গা পূজার আড়ং।