ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কেরানীগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার। নওগাঁয় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্ফোরণ! খুলনায় নিরালায় ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ : কর্মকর্তাদের পক্ষে তিন সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ, নরসিংদী কারাগার প্রকল্পের চুক্তি বাতিল ঘিরে নতুন আলোচনা ‎ গোপালগঞ্জের হিন্দু যুবকের প্রেমে টানে কুড়িগ্রামের মুসলিম তরুণী মহারাজপুর হাজির ‎ খুলনায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি, অল্পের জন্য রক্ষা ‎ যেখানে-সেখানে ময়লা নয়, শহরকে নিজের ঘরের মতো ভালোবাসার আহ্বান সুনামগঞ্জে ব্যাটারী চালিত অটো রিকশায় নতুন নম্বর প্লেট প্রদানের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন মালিক শ্রমিক সমবায় পরিষদ গোপালগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, হেলপার নিহত

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে মাদক কারবারি দম্পতির সন্ত্রাসী হামলা। মাদক রাখার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর ও স্বর্ণালংকার লুট। কুখ্যাত মাদক সম্রাট কানা সোহাগ ও তার স্ত্রী ঝর্নার বিরুদ্ধে থানায় মামলা।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৬৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় মাদক ব্যবসার জন্য বাড়িতে মাদক মজুদ রাখার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে কুখ্যাত ও তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি দম্পতির বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বন্দর উপজেলার ফরাজিকান্দা এলাকার বালিয়াগাঁও গ্রামে।

আহত গৃহবধূ নাজমা আক্তার (৩২) বর্তমানে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাজমা আক্তার অভিযোগ করে জানান, তার স্বামী নবীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কর্মরত।

প্রবাসে যাওয়ার আগে তিনি বন্দর থানার মাহামুদনগর এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

সেই সময়েই প্রতিবেশী ঝর্না বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয়।

প্রবাসে থাকা স্বামীর উপার্জিত অর্থে প্রায় পাঁচ বছর আগে বন্দর উপজেলা পরিষদের পেছনে বালিয়াগাঁও এলাকায় একটি জমি কিনে এক বছর আগে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন নাজমা আক্তার।

বর্তমানে তিনি তার মায়ের সঙ্গে ওই বাড়িতেই বসবাস করছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার মাহামুদনগর এলাকার মৃত ফুলচান মিয়ার ছেলে সোহাগ ওরফে কানা সোহাগ একজন কুখ্যাত ও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।

তার বিরুদ্ধে বন্দর থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

কানা সোহাগের স্ত্রী ঝর্না বেগম দীর্ঘদিন ধরে নাজমা আক্তারের বাড়িতে মাদক মজুদ রাখার জন্য টাকা ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল।

এতে রাজি না হওয়ায় কানা সোহাগ ও তার স্ত্রী নাজমাকে নিয়মিত হুমকি-ধামকি দিতে থাকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কানা সোহাগের নির্দেশে তার স্ত্রী ঝর্না বেগম, শিউলি বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন সন্ত্রাসী নাজমা আক্তারের বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে।

তারা মাদক মজুদ রাখার বিষয় নিয়ে পুনরায় চাপ সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে নাজমা আক্তারকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেদম মারধর করে।

মারধরের একপর্যায়ে নাজমা আক্তার গুরুতর আহত হয়ে নিলাফুলা ও রক্তজমাট জখম হন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় ঝর্না বেগম ভুক্তভোগীর গলা থেকে ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও ২ আনা ওজনের একটি লকেট ছিনিয়ে নেয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এছাড়া শিউলি বেগম কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত নাজমা আক্তারকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ওই রাতেই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী কানা সোহাগ, তার স্ত্রী ঝর্না বেগম ও শিউলি বেগমসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী নাজমা আক্তার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একই সঙ্গে তিনি মাদক ব্যবসায়ী দম্পতিকে দ্রুত গ্রেপ্তার, তাদের মাদক নেটওয়ার্ক ও শেল্টারদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কানা সোহাগ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই বন্দর এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার সচেতন মহল।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার।

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে মাদক কারবারি দম্পতির সন্ত্রাসী হামলা। মাদক রাখার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর ও স্বর্ণালংকার লুট। কুখ্যাত মাদক সম্রাট কানা সোহাগ ও তার স্ত্রী ঝর্নার বিরুদ্ধে থানায় মামলা।

আপডেট সময় : ১১:২১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় মাদক ব্যবসার জন্য বাড়িতে মাদক মজুদ রাখার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে কুখ্যাত ও তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি দম্পতির বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বন্দর উপজেলার ফরাজিকান্দা এলাকার বালিয়াগাঁও গ্রামে।

আহত গৃহবধূ নাজমা আক্তার (৩২) বর্তমানে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাজমা আক্তার অভিযোগ করে জানান, তার স্বামী নবীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কর্মরত।

প্রবাসে যাওয়ার আগে তিনি বন্দর থানার মাহামুদনগর এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

সেই সময়েই প্রতিবেশী ঝর্না বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয়।

প্রবাসে থাকা স্বামীর উপার্জিত অর্থে প্রায় পাঁচ বছর আগে বন্দর উপজেলা পরিষদের পেছনে বালিয়াগাঁও এলাকায় একটি জমি কিনে এক বছর আগে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন নাজমা আক্তার।

বর্তমানে তিনি তার মায়ের সঙ্গে ওই বাড়িতেই বসবাস করছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার মাহামুদনগর এলাকার মৃত ফুলচান মিয়ার ছেলে সোহাগ ওরফে কানা সোহাগ একজন কুখ্যাত ও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।

তার বিরুদ্ধে বন্দর থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

কানা সোহাগের স্ত্রী ঝর্না বেগম দীর্ঘদিন ধরে নাজমা আক্তারের বাড়িতে মাদক মজুদ রাখার জন্য টাকা ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল।

এতে রাজি না হওয়ায় কানা সোহাগ ও তার স্ত্রী নাজমাকে নিয়মিত হুমকি-ধামকি দিতে থাকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কানা সোহাগের নির্দেশে তার স্ত্রী ঝর্না বেগম, শিউলি বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন সন্ত্রাসী নাজমা আক্তারের বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে।

তারা মাদক মজুদ রাখার বিষয় নিয়ে পুনরায় চাপ সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে নাজমা আক্তারকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেদম মারধর করে।

মারধরের একপর্যায়ে নাজমা আক্তার গুরুতর আহত হয়ে নিলাফুলা ও রক্তজমাট জখম হন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় ঝর্না বেগম ভুক্তভোগীর গলা থেকে ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও ২ আনা ওজনের একটি লকেট ছিনিয়ে নেয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এছাড়া শিউলি বেগম কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত নাজমা আক্তারকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ওই রাতেই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী কানা সোহাগ, তার স্ত্রী ঝর্না বেগম ও শিউলি বেগমসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী নাজমা আক্তার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একই সঙ্গে তিনি মাদক ব্যবসায়ী দম্পতিকে দ্রুত গ্রেপ্তার, তাদের মাদক নেটওয়ার্ক ও শেল্টারদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কানা সোহাগ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই বন্দর এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার সচেতন মহল।