ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ: ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে হয়রানী ও বৈষম্যের প্রতিবাদে চার মৌজাবাসীর মানববন্ধন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ: ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে হয়রানী ও বৈষম্যের লিংক রোডে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক তেরখাদায় দলীয় সুবিধা বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ, ক্ষোভে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা পীরগঞ্জে ইয়াবা-ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার নির্বাহী প্রকৌশলী তানজিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন? ‎ মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে কিশোর অপহরণ, উখিয়ায় গ্রেপ্তার ২ উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন কাশিয়ানীতে এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ৫ হাজার কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা ‘ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদী মব সন্ত্রাসীদের উৎখাতেই সব মানুষের নিরাপদ রাষ্ট্র সম্ভব’ পাহাড়তলী গ্রীনভিউ ঈদে আজম মাহফিলে আল্লামা রেজাউল কাউসার

গৃহীত ঔষধ ও কেমিকেলের ল্যাব টেষ্টের দাবী: মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ওষুধ,গজ, ব্যান্ডেজ,কেমিকেল ও সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি  সাপ্লাইয়ে ঠিকাদারের শুভংকরের ফাঁকি! 

শত অভিযোগ করেও দুর্নীতি বন্ধ করা যচ্ছে না মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের। একটার পর একটা দুর্নীতির ঘটনা ফাঁস হচ্ছে ধারাবাহিক ভাবে। গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ায় এসব দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিচ্ছে না কোন পদক্ষেপ। ফলে এই হাসপাতালে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।

ওষুধ, কেমিকেল দ্রব্যাদি,সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, গজ,ব্যান্ডেজ,তুলা সহ মোট ৬ টি আইটেম ক্রয়ের ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতির পর এবার ৫ কোটি টাকার নিন্মমানের ওষুধ ,কেমিকেল,থানগজ,থান ব্যান্ডজ, ক্যাটগ্যাট সেলাই সুতা ও এমএস আর সামগ্রী ক্রয়ে ও গ্রহনে সীমাহীন দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল চলতি অর্থ বছরে নতুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ কোটি টাকার যে ওষুধ,কেমিকেল দ্রব্যাদি, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, থানগজ,থান ব্যান্ডজ,তুলা, ক্যাটগ্যাট সেলাই সুতা ও এমএসআর সামগ্রী গ্রহন করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্মমানের ও পরিমাণে কম। টেন্ডার সিডিউল চুক্তি মোতাবেক থানগজের পরিমাপ হওয়ার কথা ১৮ গজ,সেখানে দেওয়া হয়েছে ৬ গজ। তুলা হওয়ার কথা ৪০০ থেকে ৪৫০ গ্রাম সেখানে দেওয়া হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম। থান ব্যান্ডেজ হওয়ার কথা ১৮ গজ সেখানে দেওয়া হয়েছে ৬ গজ পরিমাপের। এভাবে অন্যান্য আইটেমেও অতি নিম্নমানের সামগ্রী সাপ্লায় দেওয়া হয়েছে।

যে ঔষধ সাপ্লাই দেওয়া হয়েছে তা একেবারেই মানহীন। এসব ওষুধ রোগীদের রোগ সারাতে সক্ষম নয় বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এ সব ওষুধের ষ্রাম্পুল কালেকশন করে ল্যাব টেষ্ট করালেই তাদের জালিয়াতি ধরা পড়বে। এ ছাড়া যে কেমিকেল সরবরাহ করা হয়েছে তা এতাটাই নিন্মমানের যে,এইসব কেমিকেল দ্বারা পরীক্ষিত কোন প্যাথলজিক্যাল রিপোর্টই সঠিক আসবে না। ফলে রোগীরা ভুল চিকিতসার শিকার হবেন। অধিকাংশ চায়না যন্ত্রপাতি সাপ্লায় দেওয়া হয়েছে। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ (টেন্ডার বোর্ড) অজ্ঞাত কারণে অন্ধের মত সেগুলে গ্রহন করেছেন। এতে করে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা যেমন প্রতারিত হতে যাচ্ছে। তেমন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ (টেন্ডার বোর্ডের সদস্যরা) অনৈতিক লাভবান হচ্ছেন। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের নাগাল পাওয়া যায়নি। সবাই রহস্যজনক নিরব ভুমিকা পালন করছেন।

মাগুরাবাসীর দাবী: হাসপাতালের স্টোরে স্টক থাকা এই সব গজ,ব্যান্ডেজ,তুলা,কেমিকেল,ওষুধ,

ও যন্ত্রপাতির মান পুন: যাচাই করার জন্য একটি তদন্ত টিম গঠন করে মাগুরায় পাঠানো হোক। এবং ওষুধ ও কেমিকেলগুলো মহাখালিস্থ ওষুধ টেষ্টিং ল্যাবরেটরী থেকে টেষ্টিং করা হোক।

এ বিষয়ে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা,সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মহাপরিচালক ওষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও ড্রাগ সুপার ঝিনাইদহের পদক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে তারা দুদকের অভিযান প্রত্যাশা করেছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ: ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে হয়রানী ও বৈষম্যের প্রতিবাদে চার মৌজাবাসীর মানববন্ধন

গৃহীত ঔষধ ও কেমিকেলের ল্যাব টেষ্টের দাবী: মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ওষুধ,গজ, ব্যান্ডেজ,কেমিকেল ও সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি  সাপ্লাইয়ে ঠিকাদারের শুভংকরের ফাঁকি! 

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শত অভিযোগ করেও দুর্নীতি বন্ধ করা যচ্ছে না মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের। একটার পর একটা দুর্নীতির ঘটনা ফাঁস হচ্ছে ধারাবাহিক ভাবে। গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ায় এসব দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিচ্ছে না কোন পদক্ষেপ। ফলে এই হাসপাতালে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।

ওষুধ, কেমিকেল দ্রব্যাদি,সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, গজ,ব্যান্ডেজ,তুলা সহ মোট ৬ টি আইটেম ক্রয়ের ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতির পর এবার ৫ কোটি টাকার নিন্মমানের ওষুধ ,কেমিকেল,থানগজ,থান ব্যান্ডজ, ক্যাটগ্যাট সেলাই সুতা ও এমএস আর সামগ্রী ক্রয়ে ও গ্রহনে সীমাহীন দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল চলতি অর্থ বছরে নতুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ কোটি টাকার যে ওষুধ,কেমিকেল দ্রব্যাদি, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, থানগজ,থান ব্যান্ডজ,তুলা, ক্যাটগ্যাট সেলাই সুতা ও এমএসআর সামগ্রী গ্রহন করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্মমানের ও পরিমাণে কম। টেন্ডার সিডিউল চুক্তি মোতাবেক থানগজের পরিমাপ হওয়ার কথা ১৮ গজ,সেখানে দেওয়া হয়েছে ৬ গজ। তুলা হওয়ার কথা ৪০০ থেকে ৪৫০ গ্রাম সেখানে দেওয়া হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম। থান ব্যান্ডেজ হওয়ার কথা ১৮ গজ সেখানে দেওয়া হয়েছে ৬ গজ পরিমাপের। এভাবে অন্যান্য আইটেমেও অতি নিম্নমানের সামগ্রী সাপ্লায় দেওয়া হয়েছে।

যে ঔষধ সাপ্লাই দেওয়া হয়েছে তা একেবারেই মানহীন। এসব ওষুধ রোগীদের রোগ সারাতে সক্ষম নয় বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এ সব ওষুধের ষ্রাম্পুল কালেকশন করে ল্যাব টেষ্ট করালেই তাদের জালিয়াতি ধরা পড়বে। এ ছাড়া যে কেমিকেল সরবরাহ করা হয়েছে তা এতাটাই নিন্মমানের যে,এইসব কেমিকেল দ্বারা পরীক্ষিত কোন প্যাথলজিক্যাল রিপোর্টই সঠিক আসবে না। ফলে রোগীরা ভুল চিকিতসার শিকার হবেন। অধিকাংশ চায়না যন্ত্রপাতি সাপ্লায় দেওয়া হয়েছে। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ (টেন্ডার বোর্ড) অজ্ঞাত কারণে অন্ধের মত সেগুলে গ্রহন করেছেন। এতে করে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা যেমন প্রতারিত হতে যাচ্ছে। তেমন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ (টেন্ডার বোর্ডের সদস্যরা) অনৈতিক লাভবান হচ্ছেন। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের নাগাল পাওয়া যায়নি। সবাই রহস্যজনক নিরব ভুমিকা পালন করছেন।

মাগুরাবাসীর দাবী: হাসপাতালের স্টোরে স্টক থাকা এই সব গজ,ব্যান্ডেজ,তুলা,কেমিকেল,ওষুধ,

ও যন্ত্রপাতির মান পুন: যাচাই করার জন্য একটি তদন্ত টিম গঠন করে মাগুরায় পাঠানো হোক। এবং ওষুধ ও কেমিকেলগুলো মহাখালিস্থ ওষুধ টেষ্টিং ল্যাবরেটরী থেকে টেষ্টিং করা হোক।

এ বিষয়ে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা,সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মহাপরিচালক ওষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও ড্রাগ সুপার ঝিনাইদহের পদক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে তারা দুদকের অভিযান প্রত্যাশা করেছেন।