ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মাগুরায় শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বনি আমিন সহ ৪ জনের নামে সাংবাদিকের মামলা দায়ের! অসীম ক্ষমতাধর মাসুদুল ইসলাম একসাথে পাঁচ পদের দায়িত্বে।  বিআইডব্লিউটিএ’ র বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। দেশের জ্বালানী ও অর্থনীতি সংকটেও বিআইডব্লিউটিএতে বিলাসী বনভোজনের নামে অর্থ ও জ্বালানি অপচয়ে মনোরঞ্জন।  বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীপুর সাংবাদিক সমিতির ফ্যামিলি ডে ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন। “যোগ্যদের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্বিত”—মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্বাধীনতা পদক–২০২৬ ও সাহিত্য সম্মাননা প্রদান। চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া রসুলবাগ ‘চাক্তাই ডাইভারশন খালটি’ সংস্কার জরুরী। আমতলীতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকারে, বিপাকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা। বাংলাদেশ সনাতন ধর্ম সুরক্ষা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক বর্ধিত সভা অনুষ্টিত। অবসর নিতে চান মির্জা ফখরুল, মহাসচিব পদে ‘পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত। ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ।

চাঁদাবাজদের তালিকা চূড়ান্ত। শীঘ্রই অভিযান, আতঙ্কে কাঁপছে পেশাদার সন্ত্রাসীরা।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ২০৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

 

চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য রোধ এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৬৪ জেলার প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এই তালিকায় মোট তিন হাজার ৮৪৯ চাঁদাবাজের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় রয়েছে এক হাজার ২৫৪ জন। বাকিরা সক্রিয় দেশের অন্যান্য জেলায়।

সারা দেশের তিন হাজার ৮৪৯ জন চাঁদাবাজের মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় চাঁদাবাজ রয়েছে এক হাজার ২৫৪ জন। বাকি দুই হাজার ৫৯৫ জন চাঁদাবাজ রয়েছে ৬৪টি জেলায়। এর মধ্যে গাজীপুরে ৩৪ জন, ঢাকায় ১৫৪, মানিকগঞ্জে ৩০, নরসিংদীতে ৪০, রাজবাড়ীতে ৪৫, ফরিদপুরে ৩৫, গোপালগঞ্জে ২০, কিশোরগঞ্জে ২৪।

মাদারীপুরে ৩৪, মুন্সীগঞ্জে ১৮, নারায়ণগঞ্জে ৫০, শরীয়তপুরে ২৩, টাঙ্গাইলে ৩০, কুষ্টিয়ায় ২৪, মাগুরায় ২৩, মেহেরপুরে ১৭, নড়াইলে ৩৫, সাতক্ষীরায় ৩৮, বাগেরহাটে ৫৫, চুয়াডাঙ্গায় ৪৫, যশোরে ৬৫, ঝিনাইদহে ২২, খুলনায় ৩৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৮, চাঁদপুরে ৪৭, চট্টগ্রামে ৬৭, কুমিল্লায় ২৬, কক্সবাজারে ৮৮, ফেনীতে ৪৩, লক্ষ্মীপুরে ২৯, নোয়াখালীতে ৩৪, নাটোরে ১২, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৫, পাবনায় ৫৭, রাজশাহীতে ১৪, সিরাজগঞ্জে ১৮, বগুড়ায় ১৩, জয়পুরহাটে ১৮, নওগাঁয় ৫৪, সুনামগঞ্জে ১২, সিলেটে ৩৫, হবিগঞ্জে ৩৪ ও মৌলভীবাজারে ৪৫ জনের নাম চাঁদাবাজের তালিকা উঠে এসেছে।

এছাড়া পঞ্চগড়ে ৪৩ জন, রংপুরে ২২, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭, জামালপুরে ৬৭, ময়মনসিংহে ৩৪, নেত্রকোনায় ৩২, শেরপুরে ২৩, দিনাজপুরে ৩৫, গাইবান্ধায় ৩৮, কুড়িগ্রামে ৩৩, লালমনিরহাটে ২২, নীলফামারীতে ৩৬, ঝালকাঠিতে ৬১, বরগুনায় ৪২, বরিশালে ৩৯, ভোলায় ৭৩, পটুয়াখালীতে ৮৮ ও পিরোজপুরে ৩৮ জনের নাম চাঁদাবাজের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলায় ২৪৬ জন চাঁদাবাজ রয়েছে বলে পুলিশের তালিকায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রাঙামাটি জেলায় ৯২ জন, খাগড়াছড়িতে ৮৮ জন এবং বান্দরবনে ৬৬ জন চাঁদাবাজ রয়েছে।

ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তারা ডিএমপির আটটি ক্রাইম জোনের ভিত্তিতে এক হাজার ২৫৪ জন চাঁদাবাজের একটি ডাটা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী হাতিরঝিলে ২০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ৪৪, তেজগাঁওয়ে ১০৫, শেরে বাংলা নগরে ১৩, মোহাম্মদপুরে ২২, আদাবরে চার, মিরপুর ২৩, তুরাগে ১২, উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ১৩, উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ১৪, উত্তরখানে ১৭, দক্ষিণখানে ১২, বিমানবন্দরে ২৩, গুলশানে ১৪, খিলক্ষেতে ১৫, ভাটারায় ছয়, বাড্ডায় চার, বনানীতে ১৫, ভাষানটেকে পাঁচ, কাফরুলে চার, মিরপুরে ১২২, পল্লবীতে ৩৩, দারুস সালামে ছয়, শাহ আলীতে ১৬, রূপনগরে ১২, শাহবাগে ১৪, কলাবাগানে আট, নিউ মার্কেটে ৩৩, ধানমন্ডিতে ১২, রমনায় ১৪, হাজারীবাগে ৫৪, মতিঝিলে ৩৪, পল্টনে ৩৭, শাহজাহানপুরে ২২, সবুজবাগে ২৪, মুগদায় ১৩, খিলগাঁওয়ে ২৩, রামপুরায় ২৩, কদমতলীতে ২৩, ডেমরায় ১২, যাত্রাবাড়ীতে ৩৪, লালবাগে ৪৫, গেন্ডারিয়ায় ছয়, শ্যামপুরে ৫৫, কোতোয়ালীতে ৩৩, সূত্রাপুরে ২৩, বংশালে ৩৪, চকবাজারে ৪৪, লালবাগে ৩৪ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ২৩ জনের নাম রয়েছে।

চাঁদাবাজরা নিজেদের ক্ষমতাসীন দল ও তাদের অঙ্গ-সংগঠনের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাঁদা দিচ্ছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় রহিম, সবুজ, আলী ও শরিফ চাঁদা তুলে থাকে। তারা নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। তেজগাঁও এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাঁদা তোলা হয় কারওয়ানবাজার এলাকায়।

তেজগাঁও থানার ১০৫ জন চাঁদাবাজের ৪৫ জনই হচ্ছে কারওয়ানবাজার কেন্দ্রিক। এদের মধ্যে লাল মিয়া, সোহেল, আবির ও সুমনের নাম উল্লেখযোগ্য। এই এলাকায় কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও সবজির ট্রাক থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে। ডিএমপি জানায়, খিলগাঁও মাছবাজার থেকে রহমান ও আজাদ নামে দুই ব্যক্তি চাঁদা তোলে। তারা নিজেদের স্থানীয় যুবদলের নেতা বলে পরিচয় দেয়। এছাড়াও বসিলার কাঁচাবাজারে জামিল এবং আহাদ নামে চাঁদা তুলে থাকে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বনি আমিন সহ ৪ জনের নামে সাংবাদিকের মামলা দায়ের!

চাঁদাবাজদের তালিকা চূড়ান্ত। শীঘ্রই অভিযান, আতঙ্কে কাঁপছে পেশাদার সন্ত্রাসীরা।

আপডেট সময় : ১০:১৪:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

 

 

চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য রোধ এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৬৪ জেলার প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এই তালিকায় মোট তিন হাজার ৮৪৯ চাঁদাবাজের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় রয়েছে এক হাজার ২৫৪ জন। বাকিরা সক্রিয় দেশের অন্যান্য জেলায়।

সারা দেশের তিন হাজার ৮৪৯ জন চাঁদাবাজের মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় চাঁদাবাজ রয়েছে এক হাজার ২৫৪ জন। বাকি দুই হাজার ৫৯৫ জন চাঁদাবাজ রয়েছে ৬৪টি জেলায়। এর মধ্যে গাজীপুরে ৩৪ জন, ঢাকায় ১৫৪, মানিকগঞ্জে ৩০, নরসিংদীতে ৪০, রাজবাড়ীতে ৪৫, ফরিদপুরে ৩৫, গোপালগঞ্জে ২০, কিশোরগঞ্জে ২৪।

মাদারীপুরে ৩৪, মুন্সীগঞ্জে ১৮, নারায়ণগঞ্জে ৫০, শরীয়তপুরে ২৩, টাঙ্গাইলে ৩০, কুষ্টিয়ায় ২৪, মাগুরায় ২৩, মেহেরপুরে ১৭, নড়াইলে ৩৫, সাতক্ষীরায় ৩৮, বাগেরহাটে ৫৫, চুয়াডাঙ্গায় ৪৫, যশোরে ৬৫, ঝিনাইদহে ২২, খুলনায় ৩৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৮, চাঁদপুরে ৪৭, চট্টগ্রামে ৬৭, কুমিল্লায় ২৬, কক্সবাজারে ৮৮, ফেনীতে ৪৩, লক্ষ্মীপুরে ২৯, নোয়াখালীতে ৩৪, নাটোরে ১২, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৫, পাবনায় ৫৭, রাজশাহীতে ১৪, সিরাজগঞ্জে ১৮, বগুড়ায় ১৩, জয়পুরহাটে ১৮, নওগাঁয় ৫৪, সুনামগঞ্জে ১২, সিলেটে ৩৫, হবিগঞ্জে ৩৪ ও মৌলভীবাজারে ৪৫ জনের নাম চাঁদাবাজের তালিকা উঠে এসেছে।

এছাড়া পঞ্চগড়ে ৪৩ জন, রংপুরে ২২, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭, জামালপুরে ৬৭, ময়মনসিংহে ৩৪, নেত্রকোনায় ৩২, শেরপুরে ২৩, দিনাজপুরে ৩৫, গাইবান্ধায় ৩৮, কুড়িগ্রামে ৩৩, লালমনিরহাটে ২২, নীলফামারীতে ৩৬, ঝালকাঠিতে ৬১, বরগুনায় ৪২, বরিশালে ৩৯, ভোলায় ৭৩, পটুয়াখালীতে ৮৮ ও পিরোজপুরে ৩৮ জনের নাম চাঁদাবাজের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলায় ২৪৬ জন চাঁদাবাজ রয়েছে বলে পুলিশের তালিকায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রাঙামাটি জেলায় ৯২ জন, খাগড়াছড়িতে ৮৮ জন এবং বান্দরবনে ৬৬ জন চাঁদাবাজ রয়েছে।

ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তারা ডিএমপির আটটি ক্রাইম জোনের ভিত্তিতে এক হাজার ২৫৪ জন চাঁদাবাজের একটি ডাটা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী হাতিরঝিলে ২০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ৪৪, তেজগাঁওয়ে ১০৫, শেরে বাংলা নগরে ১৩, মোহাম্মদপুরে ২২, আদাবরে চার, মিরপুর ২৩, তুরাগে ১২, উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ১৩, উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ১৪, উত্তরখানে ১৭, দক্ষিণখানে ১২, বিমানবন্দরে ২৩, গুলশানে ১৪, খিলক্ষেতে ১৫, ভাটারায় ছয়, বাড্ডায় চার, বনানীতে ১৫, ভাষানটেকে পাঁচ, কাফরুলে চার, মিরপুরে ১২২, পল্লবীতে ৩৩, দারুস সালামে ছয়, শাহ আলীতে ১৬, রূপনগরে ১২, শাহবাগে ১৪, কলাবাগানে আট, নিউ মার্কেটে ৩৩, ধানমন্ডিতে ১২, রমনায় ১৪, হাজারীবাগে ৫৪, মতিঝিলে ৩৪, পল্টনে ৩৭, শাহজাহানপুরে ২২, সবুজবাগে ২৪, মুগদায় ১৩, খিলগাঁওয়ে ২৩, রামপুরায় ২৩, কদমতলীতে ২৩, ডেমরায় ১২, যাত্রাবাড়ীতে ৩৪, লালবাগে ৪৫, গেন্ডারিয়ায় ছয়, শ্যামপুরে ৫৫, কোতোয়ালীতে ৩৩, সূত্রাপুরে ২৩, বংশালে ৩৪, চকবাজারে ৪৪, লালবাগে ৩৪ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ২৩ জনের নাম রয়েছে।

চাঁদাবাজরা নিজেদের ক্ষমতাসীন দল ও তাদের অঙ্গ-সংগঠনের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাঁদা দিচ্ছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় রহিম, সবুজ, আলী ও শরিফ চাঁদা তুলে থাকে। তারা নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। তেজগাঁও এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাঁদা তোলা হয় কারওয়ানবাজার এলাকায়।

তেজগাঁও থানার ১০৫ জন চাঁদাবাজের ৪৫ জনই হচ্ছে কারওয়ানবাজার কেন্দ্রিক। এদের মধ্যে লাল মিয়া, সোহেল, আবির ও সুমনের নাম উল্লেখযোগ্য। এই এলাকায় কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও সবজির ট্রাক থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে। ডিএমপি জানায়, খিলগাঁও মাছবাজার থেকে রহমান ও আজাদ নামে দুই ব্যক্তি চাঁদা তোলে। তারা নিজেদের স্থানীয় যুবদলের নেতা বলে পরিচয় দেয়। এছাড়াও বসিলার কাঁচাবাজারে জামিল এবং আহাদ নামে চাঁদা তুলে থাকে।