ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত: আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাহারোলবাসী। রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে ঠাকুরগাঁওয়ের আউয়াল আহমেদ। প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরে ৫৭১ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও নানা অনিয়মের অভিযোগ।  নওগাঁয় পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দুই শিশু ধর্ষণেরর অভিযোগ।  বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ডুবি, নিখোঁজ ২২ নাবিক।   শার্শায় সাংবাদিক হত্যাসহ ১৮ মামলার আসামি উকিল মল্লিক আটক। খুলনা মেডিকেলের সামনে অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার। ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে ইলিশই যেন সোনার হরিণ: ২হাজার থেকে ২,৫০০ টাকা কেজি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা নাভিশ্বাস, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। সাগরের নীল জলে নিজেকে খোঁজার নিরন্তর চেষ্টা।

উন্নয়নের নামে উপভোগের মহোৎসব।ঢাকার প্রকল্পকে ঘিরে রহস্যময়তার ছাপ।

 

 

ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় যানজট, মানুষের ভিড় আর উন্নয়নের ব্যানারের আড়ালে নাকি চলছে এক অদ্ভুত প্রেমকাহিনি! তবে এই প্রেমে নেই গোলাপ, নেই কবিতা—আছে কমিশন, টেন্ডার আর অদৃশ্য হিসাবের খাতা।

এই ‘গল্পের’ কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রাজীব খাদেম—যাকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে ঘুরছে নানা অভিযোগের গল্প।

 

অভিযোগকারীরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নাকি কেবল ইট-পাথরের নয়, বরং “শতকরা ভালোবাসা”র উপর দাঁড়িয়ে থাকে ! বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট’—যার লক্ষ্য ছিল নাগরিক জীবনমান উন্নয়ন—সেটিও অভিযোগের তালিকা থেকে রেহাই পায়নি।

 

ঠিকাদারদের একটি অংশ দাবি করছেন, কাজ শুরু করার আগে নাকি দরকার হতো এক বিশেষ ধরনের “কমিটমেন্ট”—যাকে তারা মজার ছলে বলছেন, কমিশনীয় সম্পর্ক। না দিলে নাকি উন্নয়নের প্রেম ভেঙে যেত মাঝপথেই!

 

নিয়োগ প্রক্রিয়াও নাকি কম নাটকীয় নয়। সূত্রগুলো বলছে, এখানে যেন চলছে “রিয়েলিটি শো”—যেখানে পছন্দের প্রতিযোগীরা জয়ী হন, আর মতভেদ হলেই আউট! সৎ কর্মকর্তাদের অবস্থান ?

 

তারা নাকি দর্শক সারিতে বসে থাকা নীরব বিচারক—কিন্তু মাইক নেই, কথা বলার সুযোগও নেই।ঐতিহ্যও নাকি এই গল্পে সুরক্ষিত নয়। নর্থব্রুক হল—ঢাকার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—তার সংস্কার নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

 

অভিযোগকারীরা বলছেন, নতুন রঙের বদলে নাকি সেখানে লেগেছে নিম্নমানের উপকরণ আর বিলের অঙ্কের রহস্যময় ফুলঝুরি। টেন্ডার থেকে নিয়োগ—সবখানেই নাকি একটি শক্তিশালী বলয় কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ যদি এই বলয়ের বাইরে হাঁটতে চান, তবে তাদের সামনে নাকি হাজির হয় বদলি, মামলা বা মানসিক চাপে ভরা এক “অ্যাডভেঞ্চার প্যাকেজ”।

 

সবচেয়ে নাটকীয় অংশ? এত অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রভাব নাকি অটুট—এমনটাই দাবি বিভিন্ন সূত্রের। ফাইল নড়ে, প্রকল্প এগোয়, টেন্ডার হয়—কিন্তু নাকি কোথাও না কোথাও তার “অদৃশ্য উপস্থিতি” থেকেই যায়।

এদিকে নগরবাসীর প্রশ্ন—এ কি উন্নয়নের গল্প, নাকি অন্য কোনো চিত্রনাট্য? যেখানে প্রতিটি প্রকল্পের পেছনে রয়েছে স্বার্থের গভীর ছায়া?

 

সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ ইতোমধ্যে দাবি তুলেছেন—স্বচ্ছ তদন্ত, ফরেনসিক অডিট এবং নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশনের। কারণ তাদের ভাষায়, “শহর শুধু কংক্রিট নয়, এটি মানুষের বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে।”

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. রাজীব খাদেমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কিছু সূত্র দাবি করেছে, তিনি নাকি এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা এড়িয়ে চলছেন—যদিও এ দাবির স্বতন্ত্র যাচাই সম্ভব হয়নি।

 

শেষ কথা : এই গল্প সত্যি, নাকি শহুরে গুজবের রঙিন সংস্করণ—তা নির্ভর করছে নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর। তবে একটা কথা নিশ্চিত—ঢাকার উন্নয়ন এখন শুধু প্রকল্প নয়, একেবারে ফুল-অন ড্রামা!

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত: আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাহারোলবাসী।

উন্নয়নের নামে উপভোগের মহোৎসব।ঢাকার প্রকল্পকে ঘিরে রহস্যময়তার ছাপ।

আপডেট সময় : ০২:০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

 

 

ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় যানজট, মানুষের ভিড় আর উন্নয়নের ব্যানারের আড়ালে নাকি চলছে এক অদ্ভুত প্রেমকাহিনি! তবে এই প্রেমে নেই গোলাপ, নেই কবিতা—আছে কমিশন, টেন্ডার আর অদৃশ্য হিসাবের খাতা।

এই ‘গল্পের’ কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রাজীব খাদেম—যাকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে ঘুরছে নানা অভিযোগের গল্প।

 

অভিযোগকারীরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নাকি কেবল ইট-পাথরের নয়, বরং “শতকরা ভালোবাসা”র উপর দাঁড়িয়ে থাকে ! বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট’—যার লক্ষ্য ছিল নাগরিক জীবনমান উন্নয়ন—সেটিও অভিযোগের তালিকা থেকে রেহাই পায়নি।

 

ঠিকাদারদের একটি অংশ দাবি করছেন, কাজ শুরু করার আগে নাকি দরকার হতো এক বিশেষ ধরনের “কমিটমেন্ট”—যাকে তারা মজার ছলে বলছেন, কমিশনীয় সম্পর্ক। না দিলে নাকি উন্নয়নের প্রেম ভেঙে যেত মাঝপথেই!

 

নিয়োগ প্রক্রিয়াও নাকি কম নাটকীয় নয়। সূত্রগুলো বলছে, এখানে যেন চলছে “রিয়েলিটি শো”—যেখানে পছন্দের প্রতিযোগীরা জয়ী হন, আর মতভেদ হলেই আউট! সৎ কর্মকর্তাদের অবস্থান ?

 

তারা নাকি দর্শক সারিতে বসে থাকা নীরব বিচারক—কিন্তু মাইক নেই, কথা বলার সুযোগও নেই।ঐতিহ্যও নাকি এই গল্পে সুরক্ষিত নয়। নর্থব্রুক হল—ঢাকার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—তার সংস্কার নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

 

অভিযোগকারীরা বলছেন, নতুন রঙের বদলে নাকি সেখানে লেগেছে নিম্নমানের উপকরণ আর বিলের অঙ্কের রহস্যময় ফুলঝুরি। টেন্ডার থেকে নিয়োগ—সবখানেই নাকি একটি শক্তিশালী বলয় কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ যদি এই বলয়ের বাইরে হাঁটতে চান, তবে তাদের সামনে নাকি হাজির হয় বদলি, মামলা বা মানসিক চাপে ভরা এক “অ্যাডভেঞ্চার প্যাকেজ”।

 

সবচেয়ে নাটকীয় অংশ? এত অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রভাব নাকি অটুট—এমনটাই দাবি বিভিন্ন সূত্রের। ফাইল নড়ে, প্রকল্প এগোয়, টেন্ডার হয়—কিন্তু নাকি কোথাও না কোথাও তার “অদৃশ্য উপস্থিতি” থেকেই যায়।

এদিকে নগরবাসীর প্রশ্ন—এ কি উন্নয়নের গল্প, নাকি অন্য কোনো চিত্রনাট্য? যেখানে প্রতিটি প্রকল্পের পেছনে রয়েছে স্বার্থের গভীর ছায়া?

 

সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ ইতোমধ্যে দাবি তুলেছেন—স্বচ্ছ তদন্ত, ফরেনসিক অডিট এবং নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশনের। কারণ তাদের ভাষায়, “শহর শুধু কংক্রিট নয়, এটি মানুষের বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে।”

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. রাজীব খাদেমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কিছু সূত্র দাবি করেছে, তিনি নাকি এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা এড়িয়ে চলছেন—যদিও এ দাবির স্বতন্ত্র যাচাই সম্ভব হয়নি।

 

শেষ কথা : এই গল্প সত্যি, নাকি শহুরে গুজবের রঙিন সংস্করণ—তা নির্ভর করছে নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর। তবে একটা কথা নিশ্চিত—ঢাকার উন্নয়ন এখন শুধু প্রকল্প নয়, একেবারে ফুল-অন ড্রামা!