ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ। বিএসএফের গুলিতে রক্তাক্ত হলো সীমান্ত। রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যেতে হয় নৌকায়। গাজীপুরে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ঠাকুরগাঁওয়ে কলাবাগান থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার। সাতকানিয়ায় জোরপূর্বক কৃষিজমি কর্তন, থানায় অভিযোগ। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর। ভুয়া “প্রাচীন পিলার-কয়েন” বাণিজ্যে শত কোটি টাকার প্রতারণা : কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ–সোহেল সিন্ডিকেটের ভয়ঙ্কর জাল-জালিয়াতি!  গীতার আলোয় আলোকিত মাদারীপুর গড়তে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাদারীপুর -২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব জাহান্দার আলী মিয়া। টেকেরহাটে নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ইউসিবি ব্যাংকের

ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২ জন সংবাদটি পড়েছেন

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর, ঢাকা ১৬ আসনের সাবেক এমপি ইলিয়াস উদ্দিনের ভাইয়ের ছেলে মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনতিবিলম্বে তাকে ওএসডি করার দাবী তুলেছেন জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত কর্মকর্তারা। তাদের বক্তব্য-সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

কিন্তু স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে শুদ্ধি অভিযান শুরু হবে কবে? অভিযোগ রয়েছে, বিগত স্বৈরাচারের দোসররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

সবাই মনে করেন স্বৈরাচারের দোসরদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের এখনই সতর্ক হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে কোনোরকম বিলম্ব কাম্য নয়।

স্বৈরাচারের দোসরদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দেরি হলে তারা বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করতে অপচেষ্টা চালাতে পারে।

মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগি একজন কর্মকর্তা। বর্তমান তিনি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব পদে কর্মরত রয়েছেন।

৫ আগস্টের আগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব ছিলেন। এখন তিনি নিজেকে আড়াল করতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব পদে যোগদান করেছেন।

উপসচিব মোহাম্মাদ আবু সাঈদ মোল্লাহ্, আওয়ামী দোসর স্বৈরাচার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুফু ডাকতেন এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জান খান কামালের সাথে তার ছিল দহরম-মহরম সম্পর্ক। যার প্রেক্ষিতে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল এক সিন্ডিকেট ।

তার মধ্যে পল্লবীর জুয়েল মোল্লাহর সাগুফতার নামে জমি দখলের পিছনে প্রসাশন দিয়ে কলকাঠি নাড়তেন মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা।

রাজধানী অরজিনাল মিরপুর জিনজিয়াং চাইনিজ, এবং ওই চাইনেজের অপজিটে বিশাল অট্টালিকা গড়ছেন, মিরপুর-১২ নম্বর মোল্লাহ মার্কেটে থাই ক্লাব নামে মদের বার, ৭ কোটি টাকার বিনিময়ে বসুন্ধরা মার্কেটের পাশে বেঙ্গল মদের বার ও রেস্টুরেন্ট এর লাইসেন্স দিয়ে মোটা অংকের ঘুস বাণিজ্য করেছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ট থাকার কারণে তিনি এগুলো করার সুযোগ পান। তিনি প্রচুর অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন আওয়ামী লীগ আমলে।

পল্লবীতে রয়েছে ১৭টা বাড়ী। এছাড়া মানিকগঞ্জ, নবগ্রাম শ্বশুর বাড়ী এলাকায় রয়েছে কয়েক শত একর জমি। মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারের সামনে একটু ভিতরে বিশাল জায়গা নিয়ে গোডাউন করে টোবাকো কোম্পানিকে ভাড়া দিয়েছেন।

গোডাউনের পিছনে ৩০ বিঘার উপর মৎস্য খামার করে লীজ দিয়েছেন। এই সমস্ত সম্পদের মালিক উপ সচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা।

এছাড়া আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ২০০১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মালিবাগে হরতাল চলাকালে তৎকালীন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইকবালের নেতৃত্বে মিছিল থেকে বিএনপির মিছিলে গুলি চালানো হয়।

এতে বিএনপির চারজন কর্মী নিহত হন। এ ঘটনায় মতিঝিল থানার তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেন। এবং তৎকালীন খিলগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি ইউনুস মৃধা বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন। দুটি মামলা একীভূত হয়। মামলায় ওই বছরের ১২ জুলাই ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন পুলিশ। এই রিপোর্টে বিজ্ঞ আদালত সন্তুষ্ট না হলে, পূনরায় তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে দেন।

অধিকতর তদন্ত করে ডিবি পুলিশ ২০০২ সালের ২৯ ডিসেম্বর আগের ছয়জন এবং নতুন করে ইকবাল, শাওনসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়।

পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সহকারী সচিব আবু সাঈদ মোল্লা মামলাটি থেকে কয়েকজন আসামির নাম প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট ও ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবাল, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনসহ ১৫ জনকে অব্যাহতি দেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে বর্তমান সরকার। কাজেই এ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিশ্ববাসীর বিশেষ কৌতূহল থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

প্রশ্ন উঠেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপসচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের পক্ষে যে ভূমিকা নিয়েছেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও কি তিনি বিভাগীয় শাস্তিমুক্ত থাকার অধিকার রাখেন?

আরো জানাগেছে, শেখ হাসিনার আমলে এ কর্মকর্তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকেই অবৈধ সম্পাদের পাহাড় গড়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রটোকল বিভাগে দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি দিল্লিতে তিন বছর, টোকিওতে তিন বছর, ইসলামাবাদে এক বছর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও তিনি দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি গ্রিস, কাতার ও চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

ফ্যাসিস্ট আমলে তিনি জনপ্রশাসন পদকও পেয়েছেন। ওই সময়ে তিনি শেখ হাসিনার হাত থেকে এ পদক গ্রহণ করে তার প্রশংসা করে ব্যক্তিগত ফেসবুকে এ বিষয়ক একটি ছবি আপলোড করেছিলেন।

সচিবালয় কর্মকর্তা সমিতির দাবী, অতিসত্তর এই স্বৈরাচারের দোসরকে ওএসডি করে তার অতীত অপকর্মের তদন্তে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। অবৈধ পথে অর্জিত ধন সম্পদের তদন্ত করে উক্ত সম্পদ সরকারের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত করা হোক।

এ বিষয়ে তারা প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ,আইন ও বিচার মন্ত্রী এডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামানের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ।

ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ।

আপডেট সময় : ১১:২৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর, ঢাকা ১৬ আসনের সাবেক এমপি ইলিয়াস উদ্দিনের ভাইয়ের ছেলে মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনতিবিলম্বে তাকে ওএসডি করার দাবী তুলেছেন জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত কর্মকর্তারা। তাদের বক্তব্য-সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

কিন্তু স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে শুদ্ধি অভিযান শুরু হবে কবে? অভিযোগ রয়েছে, বিগত স্বৈরাচারের দোসররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

সবাই মনে করেন স্বৈরাচারের দোসরদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের এখনই সতর্ক হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে কোনোরকম বিলম্ব কাম্য নয়।

স্বৈরাচারের দোসরদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দেরি হলে তারা বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করতে অপচেষ্টা চালাতে পারে।

মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগি একজন কর্মকর্তা। বর্তমান তিনি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব পদে কর্মরত রয়েছেন।

৫ আগস্টের আগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব ছিলেন। এখন তিনি নিজেকে আড়াল করতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব পদে যোগদান করেছেন।

উপসচিব মোহাম্মাদ আবু সাঈদ মোল্লাহ্, আওয়ামী দোসর স্বৈরাচার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুফু ডাকতেন এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জান খান কামালের সাথে তার ছিল দহরম-মহরম সম্পর্ক। যার প্রেক্ষিতে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল এক সিন্ডিকেট ।

তার মধ্যে পল্লবীর জুয়েল মোল্লাহর সাগুফতার নামে জমি দখলের পিছনে প্রসাশন দিয়ে কলকাঠি নাড়তেন মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা।

রাজধানী অরজিনাল মিরপুর জিনজিয়াং চাইনিজ, এবং ওই চাইনেজের অপজিটে বিশাল অট্টালিকা গড়ছেন, মিরপুর-১২ নম্বর মোল্লাহ মার্কেটে থাই ক্লাব নামে মদের বার, ৭ কোটি টাকার বিনিময়ে বসুন্ধরা মার্কেটের পাশে বেঙ্গল মদের বার ও রেস্টুরেন্ট এর লাইসেন্স দিয়ে মোটা অংকের ঘুস বাণিজ্য করেছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ট থাকার কারণে তিনি এগুলো করার সুযোগ পান। তিনি প্রচুর অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন আওয়ামী লীগ আমলে।

পল্লবীতে রয়েছে ১৭টা বাড়ী। এছাড়া মানিকগঞ্জ, নবগ্রাম শ্বশুর বাড়ী এলাকায় রয়েছে কয়েক শত একর জমি। মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারের সামনে একটু ভিতরে বিশাল জায়গা নিয়ে গোডাউন করে টোবাকো কোম্পানিকে ভাড়া দিয়েছেন।

গোডাউনের পিছনে ৩০ বিঘার উপর মৎস্য খামার করে লীজ দিয়েছেন। এই সমস্ত সম্পদের মালিক উপ সচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা।

এছাড়া আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ২০০১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মালিবাগে হরতাল চলাকালে তৎকালীন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইকবালের নেতৃত্বে মিছিল থেকে বিএনপির মিছিলে গুলি চালানো হয়।

এতে বিএনপির চারজন কর্মী নিহত হন। এ ঘটনায় মতিঝিল থানার তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেন। এবং তৎকালীন খিলগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি ইউনুস মৃধা বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন। দুটি মামলা একীভূত হয়। মামলায় ওই বছরের ১২ জুলাই ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন পুলিশ। এই রিপোর্টে বিজ্ঞ আদালত সন্তুষ্ট না হলে, পূনরায় তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে দেন।

অধিকতর তদন্ত করে ডিবি পুলিশ ২০০২ সালের ২৯ ডিসেম্বর আগের ছয়জন এবং নতুন করে ইকবাল, শাওনসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়।

পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সহকারী সচিব আবু সাঈদ মোল্লা মামলাটি থেকে কয়েকজন আসামির নাম প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট ও ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবাল, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনসহ ১৫ জনকে অব্যাহতি দেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে বর্তমান সরকার। কাজেই এ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিশ্ববাসীর বিশেষ কৌতূহল থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

প্রশ্ন উঠেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপসচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের পক্ষে যে ভূমিকা নিয়েছেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও কি তিনি বিভাগীয় শাস্তিমুক্ত থাকার অধিকার রাখেন?

আরো জানাগেছে, শেখ হাসিনার আমলে এ কর্মকর্তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকেই অবৈধ সম্পাদের পাহাড় গড়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রটোকল বিভাগে দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি দিল্লিতে তিন বছর, টোকিওতে তিন বছর, ইসলামাবাদে এক বছর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও তিনি দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি গ্রিস, কাতার ও চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

ফ্যাসিস্ট আমলে তিনি জনপ্রশাসন পদকও পেয়েছেন। ওই সময়ে তিনি শেখ হাসিনার হাত থেকে এ পদক গ্রহণ করে তার প্রশংসা করে ব্যক্তিগত ফেসবুকে এ বিষয়ক একটি ছবি আপলোড করেছিলেন।

সচিবালয় কর্মকর্তা সমিতির দাবী, অতিসত্তর এই স্বৈরাচারের দোসরকে ওএসডি করে তার অতীত অপকর্মের তদন্তে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। অবৈধ পথে অর্জিত ধন সম্পদের তদন্ত করে উক্ত সম্পদ সরকারের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত করা হোক।

এ বিষয়ে তারা প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ,আইন ও বিচার মন্ত্রী এডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামানের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।