ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কঠোর নজরদারিতে চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা শূন্যে, ফিরছে আন্তর্জাতিক আস্থা। রাজশাহীর বাঘায় সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্য করার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর মানববন্ধন। দুর্নীতির অভিযোগ আফাআউস প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজুলকে অপসারণ,ভারপ্রাপ্ত মামুন উর রশিদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিস্ফোরক ও হেরোইনসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আরসিবি গ্যালারিতে শেহনাজ গিল: পাডিক্কালের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন তুঙ্গে। রাসিক প্রশাসক এর সাথে রাজশাহী প্রেসক্লাবের মতবিনিময় সভা। সিলেট ও জগন্নাথপুরে যুবলীগ নেতা শিবলুর ত্রাসের রাজত্ব গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক। নতুন নেতৃত্বের খোঁজে বিএনপি। মাগুরায় শিক্ষক নামের কলংক, ছাত্রীদের কু-প্রস্তাব ও ইভটিজিং করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক!  মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের মাদারীপুর জেলা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত।

নতুন নেতৃত্বের খোঁজে বিএনপি।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ২৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। দলের অনেকেই মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন। নেতাকর্মীরাও তদবির-বাণিজ্যে ব্যস্ত। নয়াপল্টন ও গুলশান কার্যালয়ে আগের মতো নেতাকর্মীদের ভিড় নেই। এই অবস্থায় স্থবিরতা কাটিয়ে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপির হাইকমান্ড। এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ মে রাজধানীতে বিএনপির তিন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠনের জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবার দলের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এবার দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটিকেও ঢেলে সাজাতে চান হাইকমান্ড। তাই আন্দোলন-সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা মহানগর বিএনপির (উত্তর ও দক্ষিণ) নেতৃত্বে নতুন মুখ খুঁজছেন তারা। নেতৃত্ব বাছাইয়ে নেতাদের আমলনামা খতিয়ে দেখছেন দলের হাইকমান্ড। সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে নতুন কমিটি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। নতুন ও পুরনোদের সমন্বয়েই এই কমিটি গঠন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই মহানগরীর শীর্ষ দুজন নেতা ভোট করেছেন। একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক নির্বাচনে জিততে না পারলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মহানগর বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কাজে তারা ব্যস্ত থাকায় মহানগরের রাজনীতিতে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থবিরতা ও শৃঙ্খলার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা দরকার। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুরনো নেতাদেরও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে। একটি হলো এমপি-মন্ত্রীতে রেখেই দল পরিচালনা করা; অন্যটি হচ্ছে নতুন-পুরনো মিলে একটি চৌকস কমিটি করা।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এবারও নতুন ও পুরনো নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠন করা হবে। যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য তাদেরই শীর্ষ পদে অগ্রাধিকার থাকবে। শিগগির এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দলের একটি সূত্র দাবি করেছে, মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দলটি তাদের সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে জানান দিতে চায়, যা আগামী দিনে যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে।

জানা গেছে, এবার কমিটি গঠনে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলনে ত্যাগী ও সক্রিয় ভূমিকা এবং বিতর্কমুক্ত ক্লিন ইমেজ। জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বহু বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে। সুতরাং বিএনপির জনগণের প্রতি যে কমিটমেন্ট আছে সেটাও দেখতে হবে এবং তা বাস্তবায়নও করতে হবে। যারা সরকারে নেই তারা দলীয় কার্যক্রমগুলো দেখছেন। তবে সারা দেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে, কোথাও সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো এক এক করে দেওয়া হবে। সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা স্থান পাবেন। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত।’

২০২৪ সালের ৭ জুলাই রফিকুল আলম মজনুকে আহ্বায়ক এবং তানভীর আহমেদ রবীনকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং সাইফুল আলম নীরবকে আহ্বায়ক ও সাবেক ফুটবলার আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগে পরবর্তী সময়ে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আমিনুল হককে আহ্বায়ক ও মোস্তফা জামানকে সদস্য সচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে হাইকমান্ড।

আলোচনায় ডজনখানেক নেতা :

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির দুই আহ্বায়কই সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার মধ্যে দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ফেনী-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক নির্বাচনে বিজয়ী না হতে পারলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দুজনকে জাতীয় সংসদে ও নিজের নির্বাচনী এলাকায় অনেক সময় দিতে হয়। তারা আর আগের মতো মহানগরীর রাজনীতিতে সময় দিতে পারছেন না। যে কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসছে।

দুই মহানগরে বিএনপির আগামীর নেতৃত্বে কারা আসছেন এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ঘুরেফিরে ডজনখানেক নেতার নাম আলোচনায় আসছে। জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের জন্য জোরালোভাবে নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার এবং বর্তমান সহসভাপতি লিটন মাহমুদের। আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা-৫ আসনে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী, দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু।

পরিবর্তন আসছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিতেও। শীর্ষ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব মোস্তফা জামান। আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, বর্তমান কমিটির সদস্য ও সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মামুন হাসান, উত্তর বিএনপির সদস্য এ জি এম শামসুল হক। এর মধ্যে মোস্তফা জামান দীর্ঘদিন ধরে মহানগর উত্তর বিএনপির দায়িত্বে আছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কঠোর নজরদারিতে চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা শূন্যে, ফিরছে আন্তর্জাতিক আস্থা।

নতুন নেতৃত্বের খোঁজে বিএনপি।

আপডেট সময় : ১২:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। দলের অনেকেই মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন। নেতাকর্মীরাও তদবির-বাণিজ্যে ব্যস্ত। নয়াপল্টন ও গুলশান কার্যালয়ে আগের মতো নেতাকর্মীদের ভিড় নেই। এই অবস্থায় স্থবিরতা কাটিয়ে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপির হাইকমান্ড। এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ মে রাজধানীতে বিএনপির তিন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠনের জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবার দলের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এবার দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটিকেও ঢেলে সাজাতে চান হাইকমান্ড। তাই আন্দোলন-সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা মহানগর বিএনপির (উত্তর ও দক্ষিণ) নেতৃত্বে নতুন মুখ খুঁজছেন তারা। নেতৃত্ব বাছাইয়ে নেতাদের আমলনামা খতিয়ে দেখছেন দলের হাইকমান্ড। সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে নতুন কমিটি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। নতুন ও পুরনোদের সমন্বয়েই এই কমিটি গঠন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই মহানগরীর শীর্ষ দুজন নেতা ভোট করেছেন। একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক নির্বাচনে জিততে না পারলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মহানগর বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কাজে তারা ব্যস্ত থাকায় মহানগরের রাজনীতিতে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থবিরতা ও শৃঙ্খলার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা দরকার। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুরনো নেতাদেরও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে। একটি হলো এমপি-মন্ত্রীতে রেখেই দল পরিচালনা করা; অন্যটি হচ্ছে নতুন-পুরনো মিলে একটি চৌকস কমিটি করা।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এবারও নতুন ও পুরনো নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠন করা হবে। যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য তাদেরই শীর্ষ পদে অগ্রাধিকার থাকবে। শিগগির এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দলের একটি সূত্র দাবি করেছে, মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দলটি তাদের সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে জানান দিতে চায়, যা আগামী দিনে যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে।

জানা গেছে, এবার কমিটি গঠনে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলনে ত্যাগী ও সক্রিয় ভূমিকা এবং বিতর্কমুক্ত ক্লিন ইমেজ। জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বহু বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে। সুতরাং বিএনপির জনগণের প্রতি যে কমিটমেন্ট আছে সেটাও দেখতে হবে এবং তা বাস্তবায়নও করতে হবে। যারা সরকারে নেই তারা দলীয় কার্যক্রমগুলো দেখছেন। তবে সারা দেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে, কোথাও সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো এক এক করে দেওয়া হবে। সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা স্থান পাবেন। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত।’

২০২৪ সালের ৭ জুলাই রফিকুল আলম মজনুকে আহ্বায়ক এবং তানভীর আহমেদ রবীনকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং সাইফুল আলম নীরবকে আহ্বায়ক ও সাবেক ফুটবলার আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগে পরবর্তী সময়ে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আমিনুল হককে আহ্বায়ক ও মোস্তফা জামানকে সদস্য সচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে হাইকমান্ড।

আলোচনায় ডজনখানেক নেতা :

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির দুই আহ্বায়কই সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার মধ্যে দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ফেনী-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক নির্বাচনে বিজয়ী না হতে পারলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দুজনকে জাতীয় সংসদে ও নিজের নির্বাচনী এলাকায় অনেক সময় দিতে হয়। তারা আর আগের মতো মহানগরীর রাজনীতিতে সময় দিতে পারছেন না। যে কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসছে।

দুই মহানগরে বিএনপির আগামীর নেতৃত্বে কারা আসছেন এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ঘুরেফিরে ডজনখানেক নেতার নাম আলোচনায় আসছে। জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের জন্য জোরালোভাবে নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার এবং বর্তমান সহসভাপতি লিটন মাহমুদের। আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা-৫ আসনে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী, দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু।

পরিবর্তন আসছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিতেও। শীর্ষ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব মোস্তফা জামান। আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, বর্তমান কমিটির সদস্য ও সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মামুন হাসান, উত্তর বিএনপির সদস্য এ জি এম শামসুল হক। এর মধ্যে মোস্তফা জামান দীর্ঘদিন ধরে মহানগর উত্তর বিএনপির দায়িত্বে আছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ।