মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা এখন আতংকের এক জনপদ।এই জনপদটি স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই আলোচিত। একসময় আলোচিত ছিলো বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর বাহিনীর জন্য। কবি কাজী কাদের নওয়াজ ও ফররুখ আহমেদ এর জন্য। পীর তোয়াজ উদ্দিনের জন্য। আর আজ এই জনপদটি বিখ্যাত হয়ে উঠেছে নোংরা রাজনীতি, মারামারি, কাটাকাটি,ঘর বাড়ি লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের জন্য।গুটি কয়েক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর হাতে এই এলাকার মানুষ আজ জিম্মি হয়ে আছে।
তারা প্রতিটি দলীয় সরকারের আমলে রঙ বদলিয়ে শাসক দলের নেতা,উপনেতা ও পাতি নেতা বনে যান।দলীয় ছত্রছায়ায় থেকে এলাকার মানুষকে শোষন করেন। চাঁদাবাজি,দখলবাজি,টেন্ডার বাজি, বাড়ি ঘর তুলতে গেলে চাঁদা আদায়, অস্ত্র ও মাদক বাণিজ্যও তাদের নিয়ন্ত্রণে।
ফলে এলাকার মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেন না। এমন কি থানা বা কোর্টে কোন মামলায় দেন না।আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।
গত শুক্রবার রাত ৯ টার সময় এই সব আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা (নব্য বিএনপি) এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে বিএনপি নেতা কর্মীদের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। তারা আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করে। এসময় তারা তিনটি বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়। ১৫/২০ টি গরু ছাগল পুড়িয়ে হত্যা করে। এবং ২০/২৫ টি বাড়ি লুটপাট করে।
পিটিয়ে জখম করে অন্তত ২৫/৩০ জনকে। তাদের হাত থেকে নারী ও শিশুও রেহায় পায়নি।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও এলাকাবাসীর ভাষ্য থেকে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু নেতা কর্মী অর্থের বিমিময়ে এলাকার বিএনপি নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে থেকে তারা দলে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে স্বীকৃতি পেয়ে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। আর তারাই শুক্রবার রাতের আঁধারে এই বর্বরতম কাজটি করেছে।
এই ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ থেকে দলে অনুপ্রবেশকারী লিপটন, তার ওস্তাদ খুনি মিজান ও মাগুরা -১ আসনের সবেক আওয়ামী সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামন শিখরের ডান হাত খ্যাত আনিসুর রহমান কনক। তাদের সাথে আরো ছিলো- শীর্ষ সন্ত্রাসী শাওন,সজিব, সোহান, সাবু,কনক মোল্লা, প্রমুখ।
তারা সামাজিক ভাবেও দুটি দলে বিভক্ত।
এই সব দুষ্কৃতীদের কারনে শ্রীপুর উপজেলাবাসীর রাতের ঘুম হারাম হতে বসেছে। তারা অপরাধ করেই পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদা ও রাজবাড়ী জেলার আশ্রয় নেই। আবার অনেক সময় দাঙ্গা হাঙ্গামা করার জন্য ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলা ও রাজবাড়ী জেলা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহার ও কম্যুনিষ্ট পার্টির অস্ত্রধারীদের ভাড়া করে আনে।
এলাকাবাসী আরো জানায়, এইসব সন্ত্রাসীরা এলাকায় কোন গোলমাল হলেই আমতৈল এলাকায় প্রায় দেড়শত কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠিত একটি গার্মেন্টস এর মালিকদের ওপর দায় চাপিয়ে তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা বা ক্ষতিপুরন আদায় করে নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। এমন কি তারা ফ্যাক্টরি এলাকা বা নিজ বাড়িতে বেড়াতে গেলেও আগ্নেয়স্ত্র প্রদর্শন করে হত্যার হুমকি দেয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী কনক ও লিফটন গংদের কর্মকান্ডে ঐ গার্মেন্টসটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এলাকাবাসী আরো জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী লিফটন, কনক, খুনি মিজান সহ উল্লেখিত আসামীদের গ্রেফতার করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ( ডিটেনশনে) দিয়ে ২/৩ বছর কারাগারে আটক না রাখলে শ্রীপুর উপজেলার আরো অসংখ্য ভীতিকর এমন কি খুন খারাবির মত ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।
সর্বশেষ জানাগেছে, মাগুর জেলা পুলিশ ও শ্রীপুর থানার পুলিশ যৌথ অভিয়ান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী লিফটনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার রাতের ঘটনা নিয়ে শ্রীপুর থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। একটি মামলায় ৯১ জন আসামী অপর মামলায় ৮৩ জনকে আসামী করা হয়েছে।
এ দিকে মাগুরা জেলা ও শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির নেতারা এক সভায় মিলিত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, দুষ্কৃতকারীরা যে নেতার লোকই হোক তাদের কোন ক্ষমা নেই। তাদের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কোন প্রকার আনুগত্য দেখানে হবে না। একই সাথে এলাকায় আবার যদি গোল মাল করার পাঁয়তারা নেওয়া হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেবে।
এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি আরো অনুরোধ রাখেন যে, তাদের এলাকার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের একমাত্র গার্মেন্টসটির ওপর যেন কোন প্রকার আঘাত না আসে। সে বিষয়ে তারা পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও আশ্বাস চান। তবে শুধু ঝিনাইদহে নয় সারা বাংলাদেশেই এরকম দৃশ্য মঞ্চস্থ হচ্ছে। বিএনপির কতিপয় অসাধু নেতৃবৃন্দের আশ্রয় প্রশ্রয়ে সুবিধাবাদী আওয়ামী লীগের দোসররা টাকা পয়সার বিনিময়ে জাতীয়তাবাদী দলে নাম লিখিয়ে আদর্শবাদী বিএনপির কর্মীদের কোনঠাসা করে ফেলছে। অবিলম্বে এবিষয়ে দলের হাইকমান্ডের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ বলে মনে করেন জাতীয়তাবাদী ঘরণার নেতৃবৃন্দ।
মাগুরা জেলা প্রতিনিধি 


















