রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি চক্রের বিরুদ্ধে আবারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এবার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে “পল্টু শাহিন” নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হত্যা, ছিনতাই, চুরি, মারামারি, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে এই চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে মৌগাছি ইউনিয়নের ত্রিমোহনী এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশন দখল ও তেল বিতরণ নিয়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার খবর সংগ্রহ করতে যান কয়েকজন সাংবাদিক, এ সময় তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. শাহীন সাগর, যিনি একটি জাতীয় দৈনিকের রাজশাহী প্রতিনিধি ও মোহনপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, জানান—তিনি সহকর্মী মো. রাজিব খান (উপজেলা ঐক্য প্রেসক্লাব সভাপতি) ও ক্যামেরাপারসন আল-আমিনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পল্টু শাহিনের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ঘিরে ফেলে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা সাংবাদিকদের গালিগালাজ করে, সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এমনকি চোখ উপড়ে ফেলা ও প্রকাশ্যে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলাকারীরা সাংবাদিকদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
ফিলিং স্টেশন দখল ও অনিয়মের অভিযোগ
মৌসুমি ফিলিং স্টেশনের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় পাম্পে এসে জোরপূর্বক তেল নিয়ে যান। সাধারণ গ্রাহকরা তেল না পেলেও তার সহযোগীদের মোটরসাইকেলে পূর্ণ ট্যাংক তেল দিতে বাধ্য করা হয়।
তাদের অভিযোগ, জারকিনে করে তেল নিয়ে পরে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হয়। এমনকি পাম্পে বকেয়া টাকার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও ব্যবসা, চাঁদাবাজি, সরকারি কাজে বাধা, পেট্রোল পাম্প দখলসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না, ফলে অপরাধের ঘটনা বাড়লেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আগের মতো দৃশ্যমান না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এতে করে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সহিংসতা বেড়েই চলেছে। এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের দাবি এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মহল। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সাংবাদিকদের মতে, এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
রাজশাহী প্রতিনিধি 












