ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কালকিনিতে ককটেল বিস্ফোরণে মাদ্রাসার ৬ শিক্ষার্থী আহত, একজন ঢাকায় প্রেরণ। ফেল করেছে শিক্ষার্থী, নাকি ফেল করেছে আমাদের শিক্ষা-ব্যবস্থা? ১৫ আগস্ট: গণতন্ত্রের আপসহীন কণ্ঠ বেগম খালেদা জিয়া। হিলিতে মাদক নিয়ন্ত্রনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ৭ মাসে ৪৫২ জন আটক, খুশি সচেতন মহল। নারায়ণগঞ্জে পুলিশের জালে বানারীপাড়ার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। নারায়ণগঞ্জে পুলিশের জালে বানারীপাড়ার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। যশোরের বাঘারপাড়ায় পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ গ্রাম। রূপগঞ্জে দেবরের হামলায় ভাবী নিহত গ্রেফতার ৩। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ পেলেন ইউপি সদস্য। ১৭ দেশে ২৫ বার ভ্রমণ, ১৭ বছর পেকুতে—গণপূর্ত প্রকৌশলী কাজী ফিরোজকে ঘিরে প্রশ্নের পাহাড়।

ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশুর পাশে জেলা প্রশাসন, চিকিৎসার ব্যয় বহনের আশ্বাস।

 

সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (৮) ফুসলিয়ে ছাদে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিকে খুঁজছে পুলিশ। এদিকে গুরুতর জখম অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

 

এর আগে গত রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে ওই শিশুর মা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কুলতিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আহসান উল্লাহ (১৬) নামের এক কিশোরকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। রোববার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলার সময় প্রতিবেশী আহসান উল্লাহ তাকে প্রলোভন দেখিয়ে হাত ধরে পাশের একটি একতলা ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে কান্নাকাতি করতে থাকে। এ সময় শিশুটির এক আত্মীয় ঘটনাটি দেখে ফেললে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটির শরীরে ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

 

সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখতে যান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস। এ সময় তার সঙ্গে সহকারী কমিশনার সাইফুল ইসলাম, ইসতিয়াক আহমেদ অপু ও মো. শাহেদ হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস বলেন, সাত বছর বয়সী একটি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির খোঁজখবর নিতে এসেছি এবং চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছি। শিশুটিকে কেবিন থেকে বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। সে শারীরিকভাবে এখন আশঙ্কামুক্ত হলেও কিছুটা মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে আছি এবং তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছি।

 

এদিকে, সোমবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর ও তার পরিবারের বক্তব্য নিতে গেলে কর্তব্যরত নার্স ও স্টাফদের বাধার মুখে পড়েন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। একপর্যায়ে হাসপাতালের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতি খোদার কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহা সাংবাদিকদের সহযোগিতা না করে ক্ষুব্ধ আচরণ করেন বলে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

 

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কালকিনিতে ককটেল বিস্ফোরণে মাদ্রাসার ৬ শিক্ষার্থী আহত, একজন ঢাকায় প্রেরণ।

ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশুর পাশে জেলা প্রশাসন, চিকিৎসার ব্যয় বহনের আশ্বাস।

আপডেট সময় : ০৪:৩২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

 

সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (৮) ফুসলিয়ে ছাদে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিকে খুঁজছে পুলিশ। এদিকে গুরুতর জখম অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

 

এর আগে গত রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে ওই শিশুর মা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কুলতিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আহসান উল্লাহ (১৬) নামের এক কিশোরকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। রোববার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলার সময় প্রতিবেশী আহসান উল্লাহ তাকে প্রলোভন দেখিয়ে হাত ধরে পাশের একটি একতলা ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে কান্নাকাতি করতে থাকে। এ সময় শিশুটির এক আত্মীয় ঘটনাটি দেখে ফেললে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটির শরীরে ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

 

সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখতে যান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস। এ সময় তার সঙ্গে সহকারী কমিশনার সাইফুল ইসলাম, ইসতিয়াক আহমেদ অপু ও মো. শাহেদ হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস বলেন, সাত বছর বয়সী একটি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির খোঁজখবর নিতে এসেছি এবং চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছি। শিশুটিকে কেবিন থেকে বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। সে শারীরিকভাবে এখন আশঙ্কামুক্ত হলেও কিছুটা মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে আছি এবং তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছি।

 

এদিকে, সোমবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর ও তার পরিবারের বক্তব্য নিতে গেলে কর্তব্যরত নার্স ও স্টাফদের বাধার মুখে পড়েন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। একপর্যায়ে হাসপাতালের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতি খোদার কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহা সাংবাদিকদের সহযোগিতা না করে ক্ষুব্ধ আচরণ করেন বলে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

 

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।