এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের নামে এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা, ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ফরম পূরণ না করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে লালপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর শনিবার (৪ জুলাই) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে লালপুর উপজেলার বড়বড়িয়া গ্রামের মো. ইমামুল হকের মেয়ে ও আব্দুলপুর সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোছা. ইসরাত জাহান সুচি এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা, ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে কলেজে যান। এ সময় কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার নিজেই এসব কাগজপত্র ও টাকা গ্রহণ করে আশ্বাস দেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তার ফরম ফিলাপ সম্পন্ন করা হবে।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ইসরাত জাহান সুচি ফরম ফিলাপের অগ্রগতি জানতে চাইলে অমিত সরকার তাকে বারবার আশ্বস্ত করেন যে কোনো সমস্যা নেই এবং সময়মতো সব সম্পন্ন হবে।
গত ২৯ জুন কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণের খবর পেয়ে কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে অমিত সরকার ফোন করে জানান, কলেজের অধ্যক্ষ প্রবেশপত্র নিয়ে রাজশাহীতে অবস্থান করছেন, তাই পরদিন কলেজে যেতে হবে।
এরপর ৩০ জুন ইসরাত ও তার বাবা কলেজে গেলে অমিত সরকার আবারও জানান, প্রবেশপত্রে সমস্যা হওয়ায় সেটি রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে এবং সংশোধন শেষে দেওয়া হবে। পরে ১ জুলাই আবারও তিনি ফোন করে জানান, প্রবেশপত্রের সমস্যা সমাধানে তিনি নিজেই রাজশাহী যাচ্ছেন।
এতে সন্দেহের সৃষ্টি হলে একই দিন ইসরাত জাহান সুচির বাবা কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। অধ্যক্ষ কম্পিউটারে যাচাই করে জানান, ইসরাত জাহান সুচির কোনো ফরমই ফিলাপ করা হয়নি। এরপর বিষয়টি স্পষ্ট হলে লালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে লালপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত অমিত সরকারকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়। শনিবার তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নাটোর প্রতিনিধি 

















