প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যবদল ও তরুণদের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স ব্যারিস্টার মীর হেলাল
এম এস শ্রাবণ মাহমুদ স্টাফ রিপোর্টার
দেশের প্রান্তিক এলাকার মানুষের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি-শিল্প-সংস্কৃতি এবং সরকারের উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দিতে জেলা পর্যায়ের আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সগুলো যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।
বৃহস্পতিবার ( ২৪ সেপ্টেম্বর)২৬ খ্রিঃ
রাঙ্গামাটি সদরের মুজাদ্দেদ-ই-আলফেসানী একাডেমি প্রাঙ্গণে দেশব্যাপী ২৬টি জেলায় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের আওতা’য় রাঙ্গামাটি আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, এটিকে কেবল চার দেয়ালের একটি ভবন হিসেবে দেখলে চলবে না। এর উদ্দেশ্য বহুমাত্রিক। তথ্য ও সংস্কৃতি চর্চা, চলচ্চিত্র প্রদর্শন, প্রদেয় ডিজিটাল সেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডকে আধুনিক ও জনমুখী করার লক্ষ্যেই এই অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এই কমপ্লেক্সে নির্মাণাধীন ১৬০ আসনের মিনি সিনেপ্লেক্সটি স্থানীয় বিনোদন ও পাহাড়ের সাংস্কৃতিক বিকাশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সাইবার অপরাধ ও গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক বার্তা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, অপতথ্য, অপপ্রচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপপ্রয়োগ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্য কমপ্লেক্স থেকে পরিচালিত সঠিক তথ্য ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এসব অপরাধ প্রতিরোধে এবং তরুণ সমাজকে সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের অসীম সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্রি-ল্যান্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে দেশের তরুণরা বিশ্বজুড়ে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
পাহাড়ের তরুণেরাও যেন এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে, সে জন্য আধুনিক ডিজিটাল পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সুষম উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, শহরাঞ্চলের পাশাপাশি পাহাড়ের দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন বুঝে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় আমরা সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে কাজ করছি। তিনি জানান, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় ঝিরি থেকে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও শিক্ষাবান্ধব আবাসিক ব্যবস্থা চালুর মতো বাস্তবমুখী প্রকল্পসমূহ ইতোমধ্যেই কার্যকর করা হচ্ছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সম্ভাবনা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে তথ্য খাতকে সামনের সারিতে থাকতে হবে। জেলা পর্যায়ে নির্মিত এসব কমপ্লেক্স সেই লক্ষ্য অর্জনেরই একটি অংশ।
নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জনগণের আমানত ও সরকারি অর্থের ব্যবহারে কোনো প্রকার অনিয়ম বা মানের বিষয়ে আপস সহ্য করা হবে না।
নির্ধারিত সময়ের আগেই সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি (২৯৯ আসন) আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম আব্দুর রহমান, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমরানুল ভূঞাসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ ডেস্ক 




















