ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
সাতক্ষীরা পরানদহায় পূর্ব শত্রুতার জেরে বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়েও মেধাবী ছাত্র জয়কে জীবিত পেল না তার পরিবার  নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তি গ্রেপ্তার শার্শা থানা পুলিশের অভিযানে ২০০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ ও ইজিবাইকসহ এক মাদক কারবারি আটক শার্শা থানা পুলিশের অভিযানে ২০০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ ও ইজিবাইকসহ এক মাদক কারবারি আটক নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা রাবি ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার, ৬ জনকে শোকজ ২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে নতুন ৪টি বই’-কুমিল্লায় ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নড়াগাতীতে দশ মামলার আসামিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন শেওলা-কচুরিপানায় বন্দী যশোরের ভৈরব নদ 

শেওলা-কচুরিপানায় বন্দী যশোরের ভৈরব নদ 

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

শেওলা-কচুরিপানায় বন্দী যশোরের ভৈরব নদ

মালিকুজ্জামান

যশোরের ঐতিহ্যবাহী নদ ভৈরব। এই নদজুড়ে আজ শেওলা ও কচুরিপানায় ঠাসা। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নেই। নদের বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা জমে দূষিত পানি। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি থাকায় নদের পানি গোসল, গৃহস্থালি ও কৃষিকাজে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী।

সরেজমিনে দেখা যায়, যশোর শহরের দড়াটানা থেকে পুরাতন খয়েরতলা, নূরপুর, পুলতাডাঙ্গা, আব্দুলপুর, বড় হৈবতপুর হয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা পৌরসভা পর্যন্ত ভৈরব নদের বিভিন্ন অংশে শেওলা ও কচুরিপানা ঘন জমে আছে। দড়াটানা থেকে পূর্বে নীলগঞ্জ সেতু, রাজারহাট, রূপদিয়া ও বসুন্দিয়া পর্যন্ত নদের বিভিন্ন অংশে একই দশা। এসব এলাকায় কচুরিপানা ও শেওলার সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা আটকে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

একসময় ভৈরব ছিল এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। নদে জাহাজ চলাচল করত। ছিল জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ। জবর দখল ও পলি জমে দীর্ঘদিন নদটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে ছিল। সরকারের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কয়েক বছর আগে ভৈরব পুনঃখনন করা হয়।

পুনঃখননের পরও নদটি আগের রূপ ফিরে পায়নি। জোয়ার-ভাটার প্রবাহ স্বাভাবিক নয়। নদের বিভিন্ন অংশে শেওলা ও কচুরিপানায় পানি আছে কি নেই বোঝা দায়।

যশোর বাসির ভাষ্য, কচুরিপানা ও শেওলায় নদের পানিতে ছোট ছোট স্রোত বাঁধাগ্রস্থ। এর ফলে ময়লা-আবর্জনা এক জায়গায় জমে আছে। এতে পানির মান ক্রমে আরো খারাপ হচ্ছে। নদের দুই পাড়ের পরিবার গুলো গোসল, কাপড় পরিষ্কার কিংবা গৃহস্থালির কাজে পানি ব্যবহার থেকে বিরত। কৃষক সেচ কাজেও পানি ব্যবহার করতে পারছেনা। বড় হৈবতপুর গ্রামবাসি জানান, নদের পাড়ে অনেকের জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন এরা ভৈরবের পানি ফসল সেচ ব্যবহার করলেও এখন বন্ধ রেখেছেন। শেওলা ও কচুরিপানায় পানি আটকে ময়লা ও দূষিত ফলে নদের পানি সেচে ব্যবহার বন্ধ। এদের ভাষ্য, দূষিত পানি ফসলের জন্য ক্ষতিকর। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টি গুরুত্ব দিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।

আব্দুলপুর গ্রামবাসি বলেন, ‘শেওলা ও কচুরিপানায় নদে ময়লা জমে আছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নেই। পানি নষ্ট। দ্রুত শেওলা, কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। চর্মরোগের ভয়ে এখন কেউ নদের পানিতে নামতে চান না। আগে মাঝে মাঝে নদে মাছ ধরতো গ্রামের মানুষ। বিগত কিছু দিন চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে এখন কেউ পানিতে নামেনা। একসময় ভৈরবের পানি স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ছিল। নদে গোসল, কাপড় পরিষ্কার, এমনকি রান্নাবান্নার কাজেও পানি ব্যবহার হোত। প্রায় এক বছর ধরে শেওলা ও কচুরিপানা পরিষ্কার না করায় ময়লা জমে পানি এখন নষ্ট। এই পানি কোনো কাজে আসে না। বসুন্দিয়ার্দিয়ার বাসিন্দারা জানান, নদের পানিতে আগে পশু গোসল, মানুষের গোসল এবং কৃষিকাজে সেচ দেওয়া হতো। এখন কচুরিপানা, শেওলা ও ময়লা-আবর্জনায় পানি কালো ও নোংরা। এ পানি কোনো কাজে ব্যবহার করা যায় না। দ্রুত বিষয়টি দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল সাদিক রাসেল বলেন, ‘চর্মরোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ভৈরব নদের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে এ রোগের হার বেশি। দূষিত পানিতে গোসল করায় তারা বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হন। তবে নদে শেওলা ও কচুরিপানা জন্মানোর ভিন্ন ব্যাখ্যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, ‘ভৈরবের পানি মিষ্টি। সে কারণে অতিরিক্ত শেওলা ও কচুরিপানা জন্মায়। লবণ পানিতে এগুলো জন্মায় না। ভৈরব নদে লবণ ছিটিয়ে দিলে এর জন্ম বন্ধ হবে। তবে পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নদে লবণ মেশানো সম্ভব নয়। শেওলা ও কচুরিপানা পরিষ্কারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট নেই। বিষয়টি উর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পরিষ্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার বলেন, ‘ভৈরব নদ, শেওলা ও কচুরিপানায় ভরে গেছে। এটি পরিষ্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

Ahad Staff

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা পরানদহায় পূর্ব শত্রুতার জেরে বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

শেওলা-কচুরিপানায় বন্দী যশোরের ভৈরব নদ 

আপডেট সময় : ১২:৩৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

শেওলা-কচুরিপানায় বন্দী যশোরের ভৈরব নদ

মালিকুজ্জামান

যশোরের ঐতিহ্যবাহী নদ ভৈরব। এই নদজুড়ে আজ শেওলা ও কচুরিপানায় ঠাসা। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নেই। নদের বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা জমে দূষিত পানি। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি থাকায় নদের পানি গোসল, গৃহস্থালি ও কৃষিকাজে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী।

সরেজমিনে দেখা যায়, যশোর শহরের দড়াটানা থেকে পুরাতন খয়েরতলা, নূরপুর, পুলতাডাঙ্গা, আব্দুলপুর, বড় হৈবতপুর হয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা পৌরসভা পর্যন্ত ভৈরব নদের বিভিন্ন অংশে শেওলা ও কচুরিপানা ঘন জমে আছে। দড়াটানা থেকে পূর্বে নীলগঞ্জ সেতু, রাজারহাট, রূপদিয়া ও বসুন্দিয়া পর্যন্ত নদের বিভিন্ন অংশে একই দশা। এসব এলাকায় কচুরিপানা ও শেওলার সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা আটকে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

একসময় ভৈরব ছিল এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। নদে জাহাজ চলাচল করত। ছিল জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ। জবর দখল ও পলি জমে দীর্ঘদিন নদটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে ছিল। সরকারের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কয়েক বছর আগে ভৈরব পুনঃখনন করা হয়।

পুনঃখননের পরও নদটি আগের রূপ ফিরে পায়নি। জোয়ার-ভাটার প্রবাহ স্বাভাবিক নয়। নদের বিভিন্ন অংশে শেওলা ও কচুরিপানায় পানি আছে কি নেই বোঝা দায়।

যশোর বাসির ভাষ্য, কচুরিপানা ও শেওলায় নদের পানিতে ছোট ছোট স্রোত বাঁধাগ্রস্থ। এর ফলে ময়লা-আবর্জনা এক জায়গায় জমে আছে। এতে পানির মান ক্রমে আরো খারাপ হচ্ছে। নদের দুই পাড়ের পরিবার গুলো গোসল, কাপড় পরিষ্কার কিংবা গৃহস্থালির কাজে পানি ব্যবহার থেকে বিরত। কৃষক সেচ কাজেও পানি ব্যবহার করতে পারছেনা। বড় হৈবতপুর গ্রামবাসি জানান, নদের পাড়ে অনেকের জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন এরা ভৈরবের পানি ফসল সেচ ব্যবহার করলেও এখন বন্ধ রেখেছেন। শেওলা ও কচুরিপানায় পানি আটকে ময়লা ও দূষিত ফলে নদের পানি সেচে ব্যবহার বন্ধ। এদের ভাষ্য, দূষিত পানি ফসলের জন্য ক্ষতিকর। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টি গুরুত্ব দিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।

আব্দুলপুর গ্রামবাসি বলেন, ‘শেওলা ও কচুরিপানায় নদে ময়লা জমে আছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নেই। পানি নষ্ট। দ্রুত শেওলা, কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। চর্মরোগের ভয়ে এখন কেউ নদের পানিতে নামতে চান না। আগে মাঝে মাঝে নদে মাছ ধরতো গ্রামের মানুষ। বিগত কিছু দিন চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে এখন কেউ পানিতে নামেনা। একসময় ভৈরবের পানি স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ছিল। নদে গোসল, কাপড় পরিষ্কার, এমনকি রান্নাবান্নার কাজেও পানি ব্যবহার হোত। প্রায় এক বছর ধরে শেওলা ও কচুরিপানা পরিষ্কার না করায় ময়লা জমে পানি এখন নষ্ট। এই পানি কোনো কাজে আসে না। বসুন্দিয়ার্দিয়ার বাসিন্দারা জানান, নদের পানিতে আগে পশু গোসল, মানুষের গোসল এবং কৃষিকাজে সেচ দেওয়া হতো। এখন কচুরিপানা, শেওলা ও ময়লা-আবর্জনায় পানি কালো ও নোংরা। এ পানি কোনো কাজে ব্যবহার করা যায় না। দ্রুত বিষয়টি দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল সাদিক রাসেল বলেন, ‘চর্মরোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ভৈরব নদের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে এ রোগের হার বেশি। দূষিত পানিতে গোসল করায় তারা বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হন। তবে নদে শেওলা ও কচুরিপানা জন্মানোর ভিন্ন ব্যাখ্যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, ‘ভৈরবের পানি মিষ্টি। সে কারণে অতিরিক্ত শেওলা ও কচুরিপানা জন্মায়। লবণ পানিতে এগুলো জন্মায় না। ভৈরব নদে লবণ ছিটিয়ে দিলে এর জন্ম বন্ধ হবে। তবে পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নদে লবণ মেশানো সম্ভব নয়। শেওলা ও কচুরিপানা পরিষ্কারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট নেই। বিষয়টি উর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পরিষ্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার বলেন, ‘ভৈরব নদ, শেওলা ও কচুরিপানায় ভরে গেছে। এটি পরিষ্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।