ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ক্রমেই বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আতঙ্কে, বাড়ছে অনিশ্চয়তা তালেবান প্রশাসনের নারী শিক্ষা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জাকির নায়েকঃ বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে জাকির নায়েক। খুলনার শিপইয়ার্ডে অস্ত্রসহ আশিক বাহিনীর শুটার জনি গ্রেফতার কুমিল্লায় অস্ত্র হাতে ভিডিও ভাইরাল, এসবিএস’ গ্রুপের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার নড়াইলে স্বর্ণালংকার নগদ টাকাসহ কোটি টাকার মালামাল ডাকাতি অভিযোগ গোপালগঞ্জে (গোবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা  দলিতের বঞ্চনা: রাষ্ট্রের সমতার অঙ্গীকার কত দূর? বেদে সম্প্রদায়ের ভাসমান জীবন, সময়ের সাথে লড়াই সংগ্রাম করে কাটছে তাদের জীবন ডুমুরিয়ায় ৪.৫ লিটার বিদেশি মদসহ একজন গ্রেপ্তার নেত্রকোনায় অতিরিক্ত শামুক আহরণে সংকটে ডিঙ্গাপোতা হাওরের মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ

তালেবান প্রশাসনের নারী শিক্ষা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জাকির নায়েকঃ বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে জাকির নায়েক।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

তালেবান প্রশাসনের নারী শিক্ষা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জাকির নায়েকঃ বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে জাকির নায়েক।

 

– মঈনউদ্দিন মনি, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

 

দুনিয়াব্যাপী মোট ২ বিলিয়ন মানুষ নিজেদেরকে মুসলমান ‘দাবী’ করে। এই দুই বিলিয়নের মধ্যে সেক্স রেশিও হলো ৫০ঃ৫০। অর্থাৎ ২ বিলিয়ন মুসলিম দাবীদারদের মধ্যে ১ বিলিয়ন ‘মহিলা’। মানে মোট মুসলিম পপুলেশন-এর অর্ধেকই ‘মহিলা’। অর্থাৎ উ*গ্রবাদী তালেবানিস্তানের সমর্থক জাকির নায়েক মুসলিম জাতীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীকেই মূর্খ রাখার পক্ষে।

নাও টেল মি, একটা জাতীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীই যদি মূর্খ থাকে, তাহলে সেই জাতী কিভাবে তার অস্তিত্ব বাঁচাবে? সে কিভাবে সার্ভাইব করবে? কেন ও কিভাবে দুনিয়ায় ম্যাটার করবে? আমাকে বলেন, একটা জাতীর অর্ধেক জনগোষ্ঠী, তাও আবার সেই মা বোনরা যারা বাকী অর্ধেক জনগোষ্ঠী কি শিক্ষিত হবে কি হবেনা তার প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষককেই অশিক্ষিত রাখা একটা মিল্লাত দুনিয়ায় ফুটবলের মতো লাত্থি খাবে না তো কি খাবে আমাকে বলেন!

আর তাঁদেরকে অশিক্ষিত রাখার জন্য অপেনলি কোনো ‘ইহুদি’ ‘নাসারা’ কাজ করছে তা না, কাজ করছে খুদ ঐ দুই বিলিয়ন মুসলিম ‘দাবীদারদের’ মধ্যে বাকি ১ বিলিয়ন পুং লিং! আবার এই পুং লিং রাই আল্লাহর কাছে নির্লজ্জের মতো কান্দে আর দোয়া চায় আল্লাহ তুমি ফিলিস্তিনের মুসলমানদের বাছাও, মুসলমানদের রক্ষা করো ইত্যাদি ইত্যাদি। আরে ভাই মুসলিম জাতীর মেরুদণ্ড ভাঙছিস তুই, ক্ষতবিক্ষত করছিস তুই, বিষপানে আত্ম*ত্যা করছিস তুই, মুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আসিছ তুই আবার তুই-ই দোয়া চাস উদ্ধারের! দ্যাটস হাও পুং লিং ওয়ালা মুসলিম ‘দাবীদার’ ১ বিলিয়ন ফাংশনিং।

এই ১ বিলিয়নকে স্ববিরোধী এই অবস্থানে রাখতে, নিজেকেই নিজের পথে বাধা হয়ে দাঁড় করিয়ে রাখতে এবং মূর্খতার এই জালে আটকে থেকেও মুসলিম ‘দাবীদার’ হয়ে প্রাউড ফিল করানোর জন্য যারা কাজ করে তাদের মধ্যে এই জাকের নায়েক একজন। আর যেই মতবাদ ঐ ১ বিলিয়ন পুং লিং ফলো করে, জাকের নায়েকদের মতো ফিগার তৈয়ার করে সেই মতবাদের নাম ওহাবীবাদ সালাফীবাদ ও এসবের অঙ্গফেরকা মওদুদীবাদ/আহলে হাদিস….ইত্যাদি। বাকী সকল ফেরকা যেমন শিয়াবাদ, খারেজীবাদ এমনকি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতও এই পয়েন্ট এ ওহাবীবাদের এই লিঙ্গবাদী ব্যাধিতে আক্রান্ত। মা বোনদের বিষয়ে বিশেষ ব্যাতিক্রম ছাড়া সুন্নীরাও ওহাবী। আমি বারবার মুসলিম ‘দাবীদার’ শব্দটা এজন্যই ব্যবহার করছিলাম। দাবী করে সবাই, কিন্তু মুসলিম দাবীর সাথে যেই ঈমানী আকীদা জড়িত তার সাথে সম্পর্ক নাই বেশিরভাগেরই। আকীদাগতভাবে ওহাবীবাদী, লিঙ্গবাদী—বস্তুবাদী। আপনার আশেপাশে যেই ব্যক্তিটা জাকির নায়ককে অনুসরণ করে ধরে নিবেন সে একজন ‘মহিলা’ বিদ্বেষী, হয়তো বলেনা ওপেনলি।

এই ১ বিলিয়ন পুং লিং মা বোনদেরকে কেবল ‘নারী’ হিসেবে ‘মহিলা’ ‘বেডি’ হিসেবে দেখে, মানুষ হিসেবে নয়। বস্তুর উর্ধ্বে মানবসত্তার প্রবক্তা, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও মানবতার রাজনীতির প্রবর্তক আল্লামা ইমাম হায়াত আলাইহির রাহমা বলেন যে মা বোনদেরকে লিঙ্গবাদী দৃষ্টিতে নয় মানুষ হিসেবে দেখতে হবে, নারী পুরুষ এগুলো অস্থায়ী দুনিয়ায় শারীরিক গঠনের ভিন্নতা যা জীবন জগতে নেছেসিটি অনুযায়ী কাজ করে, কিন্তু স্থায়ী ও আত্মিকভাবে সবাই মানুষ, আত্মা নারী আত্মা বা পুরুষ আত্মা হয়না অর্থাৎ আত্মার কোন লিঙ্গ নেই, সত্তাও তাই অধিকার-স্বাধীনতা-মর্যাদা পাবে তার মানবসত্তার ভিত্তিতে, লিঙ্গের ভিত্তিতে নয়, একজন পুরুষও একই ভিত্তিতে পায়, নট বিকয হি হ্যায এ ডিফারেন্ট লিঙ্গ। মূল ভিত্তি মূলত কলেমা।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, ভাই বোন সবাই মানুষ এবং সবাইকে মুমিন হতে হবে। মানবসত্তা সব বস্তুর উর্ধ্বে সব গন্ডীর উর্ধ্বে সব বস্তুগত পরিচয়ের উর্ধ্বে একমাত্র জীবনের দয়াময় স্রষ্টার নামে স্রষ্টার আলোকে। ভাই বোন সবার জীবন আল্লাহতাআলার উদ্দেশ্যে প্রাণাধিক প্রিয়নবী রাহমাতাল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য উৎসর্গীকৃত হতে হবে। ঈমানী ভাই বোন সবাইকে নিয়েই ইসলাম, ইসলামের সাথে ঈমানী ভাই বোন সবার জীবন একাকার হতে হয়। হকের পবিত্র কলেমার অংগীকার তথা ইসলামের দায়িত্ব ভাই বোন সবার উপর ফরজ। ভাই বোন সবার অস্তিত্ব ও সত্তার ভিত্তি একমাত্র তাওহীদ রেসালাতের ভিত্তিতে হবে। ভাই বোন কারো অস্তিত্ব ও সত্তা বস্তুর ভিত্তিতে হবে না ।ছেলে বা মেয়ে এসব বাহ্যিক পরিচয় জীবনের আসল সত্য নয়। কোনো আত্মা নারী আত্মা বা পুরুষ আত্মা নয় সবই মানবাত্মা। মানবাত্মা কলেমার আলোক চেতনার ভিত্তিতে তথা রেসালাত কেন্দ্রিক তাওহীদ ভিত্তিক হওয়ার মাধ্যমে মুমিন আত্মায় পরিণত হয়ে অনন্ত সত্যের ধারক হয়। বস্তুবাদি লিংগবাদি মানসিকতা ও দৃষ্টি সত্যের বিপরীত, জীবনের বিপরীত, সত্যের কলেমার বিপরীত মিথ্যা ও মূর্খতার আঁধার। বস্তুবাদের উৎস নাস্তিকতাবাদ। জীবনের সত্য বস্তুবাদ নয়, জীবনের সত্য তাওহীদ রেসালাতের ভিত্তিতে প্রথমত ইনসানিয়াত ও চূড়ান্তভাবে ঈমানিয়াত।

 

তালেবান শাসনে ৫ বছরে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ২৪ লাখ আফগান মেয়ে। মা বোনদেরকে যখন পড়াশুনা থেকে বঞ্চিত করে চাকরি ব্যবসা থেকে বঞ্চিত করে, এমনকি চিকিৎসা পাওয়া থেকে পর্যন্ত বঞ্চিত করে মারার সার্বিক প্রয়াস চলমান, মা বোনদেরকে বিকশিত হওয়ার সকল দরজা বন্ধ করে যখন অযোগ্য প্রমাণের নানান প্রয়াস এভাবে চলমান, তখন আল্লামা ইমাম হায়াত বলছেন “মায়ের মাতৃত্ব সর্বোচ্চ নেতৃত্ব”। যেই সত্তাটা মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে পারে সেই সত্তা কোন কিছুর জন্য অযোগ্য কিভাবে হয়! সেই সত্তা জ্ঞান অর্জনের জন্য অযোগ্য কিভাবে হয়! যেই সত্তা শিশুর মানসিক গঠনের শিক্ষক সেই সত্তাকে কিভাবে কেউ অশিক্ষিত করে রাখার চিন্তা করতে পারে! যেই সত্তা গড়ে তোলার প্রাথমিক বিদ্যালয় সেই সত্তাকে কিভাবে পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত করে রাখার স্বপ্ন দেখতে পারে কেউ! কিভাবে আইন করে রাষ্ট্রীয়ভাবে এহেন কাজ করে কেউ! তাও আবার ইসলামের নামে! এসব উ*গ্রবাদী জ*ঙ্গীবাদী তালেবানী ওহাবী সালাফী মতবাদের ধারক প্রচারক এই জাকির নায়ক নায়ক নয়, খলনায়ক। এমন খলনায়ক সিনামায় প্রদর্শিত যেকোনো খলনায়ক চরিত্রের চেয়েও বেশী ক্ষতিকর চরিত্রের নাম। এমন অসংখ্য খলনায়ক আজহারি/জিহাদি/মাদানি/আমির/মুফতি ইত্যাদি নামে বিচরণ করছে সমাজে, এদের কাছ থেকে সাবধান থাকুন, ইসলামের সাথে এদের কোন সম্পর্ক নাই, তারা মুসলিম ‘দাবীদার’ কেবল।।

Tag :
About Author Information

Ahad Staff

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রমেই বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আতঙ্কে, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

তালেবান প্রশাসনের নারী শিক্ষা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জাকির নায়েকঃ বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে জাকির নায়েক।

আপডেট সময় : ০৪:২০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

তালেবান প্রশাসনের নারী শিক্ষা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জাকির নায়েকঃ বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে জাকির নায়েক।

 

– মঈনউদ্দিন মনি, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

 

দুনিয়াব্যাপী মোট ২ বিলিয়ন মানুষ নিজেদেরকে মুসলমান ‘দাবী’ করে। এই দুই বিলিয়নের মধ্যে সেক্স রেশিও হলো ৫০ঃ৫০। অর্থাৎ ২ বিলিয়ন মুসলিম দাবীদারদের মধ্যে ১ বিলিয়ন ‘মহিলা’। মানে মোট মুসলিম পপুলেশন-এর অর্ধেকই ‘মহিলা’। অর্থাৎ উ*গ্রবাদী তালেবানিস্তানের সমর্থক জাকির নায়েক মুসলিম জাতীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীকেই মূর্খ রাখার পক্ষে।

নাও টেল মি, একটা জাতীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীই যদি মূর্খ থাকে, তাহলে সেই জাতী কিভাবে তার অস্তিত্ব বাঁচাবে? সে কিভাবে সার্ভাইব করবে? কেন ও কিভাবে দুনিয়ায় ম্যাটার করবে? আমাকে বলেন, একটা জাতীর অর্ধেক জনগোষ্ঠী, তাও আবার সেই মা বোনরা যারা বাকী অর্ধেক জনগোষ্ঠী কি শিক্ষিত হবে কি হবেনা তার প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষককেই অশিক্ষিত রাখা একটা মিল্লাত দুনিয়ায় ফুটবলের মতো লাত্থি খাবে না তো কি খাবে আমাকে বলেন!

আর তাঁদেরকে অশিক্ষিত রাখার জন্য অপেনলি কোনো ‘ইহুদি’ ‘নাসারা’ কাজ করছে তা না, কাজ করছে খুদ ঐ দুই বিলিয়ন মুসলিম ‘দাবীদারদের’ মধ্যে বাকি ১ বিলিয়ন পুং লিং! আবার এই পুং লিং রাই আল্লাহর কাছে নির্লজ্জের মতো কান্দে আর দোয়া চায় আল্লাহ তুমি ফিলিস্তিনের মুসলমানদের বাছাও, মুসলমানদের রক্ষা করো ইত্যাদি ইত্যাদি। আরে ভাই মুসলিম জাতীর মেরুদণ্ড ভাঙছিস তুই, ক্ষতবিক্ষত করছিস তুই, বিষপানে আত্ম*ত্যা করছিস তুই, মুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আসিছ তুই আবার তুই-ই দোয়া চাস উদ্ধারের! দ্যাটস হাও পুং লিং ওয়ালা মুসলিম ‘দাবীদার’ ১ বিলিয়ন ফাংশনিং।

এই ১ বিলিয়নকে স্ববিরোধী এই অবস্থানে রাখতে, নিজেকেই নিজের পথে বাধা হয়ে দাঁড় করিয়ে রাখতে এবং মূর্খতার এই জালে আটকে থেকেও মুসলিম ‘দাবীদার’ হয়ে প্রাউড ফিল করানোর জন্য যারা কাজ করে তাদের মধ্যে এই জাকের নায়েক একজন। আর যেই মতবাদ ঐ ১ বিলিয়ন পুং লিং ফলো করে, জাকের নায়েকদের মতো ফিগার তৈয়ার করে সেই মতবাদের নাম ওহাবীবাদ সালাফীবাদ ও এসবের অঙ্গফেরকা মওদুদীবাদ/আহলে হাদিস….ইত্যাদি। বাকী সকল ফেরকা যেমন শিয়াবাদ, খারেজীবাদ এমনকি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতও এই পয়েন্ট এ ওহাবীবাদের এই লিঙ্গবাদী ব্যাধিতে আক্রান্ত। মা বোনদের বিষয়ে বিশেষ ব্যাতিক্রম ছাড়া সুন্নীরাও ওহাবী। আমি বারবার মুসলিম ‘দাবীদার’ শব্দটা এজন্যই ব্যবহার করছিলাম। দাবী করে সবাই, কিন্তু মুসলিম দাবীর সাথে যেই ঈমানী আকীদা জড়িত তার সাথে সম্পর্ক নাই বেশিরভাগেরই। আকীদাগতভাবে ওহাবীবাদী, লিঙ্গবাদী—বস্তুবাদী। আপনার আশেপাশে যেই ব্যক্তিটা জাকির নায়ককে অনুসরণ করে ধরে নিবেন সে একজন ‘মহিলা’ বিদ্বেষী, হয়তো বলেনা ওপেনলি।

এই ১ বিলিয়ন পুং লিং মা বোনদেরকে কেবল ‘নারী’ হিসেবে ‘মহিলা’ ‘বেডি’ হিসেবে দেখে, মানুষ হিসেবে নয়। বস্তুর উর্ধ্বে মানবসত্তার প্রবক্তা, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও মানবতার রাজনীতির প্রবর্তক আল্লামা ইমাম হায়াত আলাইহির রাহমা বলেন যে মা বোনদেরকে লিঙ্গবাদী দৃষ্টিতে নয় মানুষ হিসেবে দেখতে হবে, নারী পুরুষ এগুলো অস্থায়ী দুনিয়ায় শারীরিক গঠনের ভিন্নতা যা জীবন জগতে নেছেসিটি অনুযায়ী কাজ করে, কিন্তু স্থায়ী ও আত্মিকভাবে সবাই মানুষ, আত্মা নারী আত্মা বা পুরুষ আত্মা হয়না অর্থাৎ আত্মার কোন লিঙ্গ নেই, সত্তাও তাই অধিকার-স্বাধীনতা-মর্যাদা পাবে তার মানবসত্তার ভিত্তিতে, লিঙ্গের ভিত্তিতে নয়, একজন পুরুষও একই ভিত্তিতে পায়, নট বিকয হি হ্যায এ ডিফারেন্ট লিঙ্গ। মূল ভিত্তি মূলত কলেমা।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, ভাই বোন সবাই মানুষ এবং সবাইকে মুমিন হতে হবে। মানবসত্তা সব বস্তুর উর্ধ্বে সব গন্ডীর উর্ধ্বে সব বস্তুগত পরিচয়ের উর্ধ্বে একমাত্র জীবনের দয়াময় স্রষ্টার নামে স্রষ্টার আলোকে। ভাই বোন সবার জীবন আল্লাহতাআলার উদ্দেশ্যে প্রাণাধিক প্রিয়নবী রাহমাতাল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য উৎসর্গীকৃত হতে হবে। ঈমানী ভাই বোন সবাইকে নিয়েই ইসলাম, ইসলামের সাথে ঈমানী ভাই বোন সবার জীবন একাকার হতে হয়। হকের পবিত্র কলেমার অংগীকার তথা ইসলামের দায়িত্ব ভাই বোন সবার উপর ফরজ। ভাই বোন সবার অস্তিত্ব ও সত্তার ভিত্তি একমাত্র তাওহীদ রেসালাতের ভিত্তিতে হবে। ভাই বোন কারো অস্তিত্ব ও সত্তা বস্তুর ভিত্তিতে হবে না ।ছেলে বা মেয়ে এসব বাহ্যিক পরিচয় জীবনের আসল সত্য নয়। কোনো আত্মা নারী আত্মা বা পুরুষ আত্মা নয় সবই মানবাত্মা। মানবাত্মা কলেমার আলোক চেতনার ভিত্তিতে তথা রেসালাত কেন্দ্রিক তাওহীদ ভিত্তিক হওয়ার মাধ্যমে মুমিন আত্মায় পরিণত হয়ে অনন্ত সত্যের ধারক হয়। বস্তুবাদি লিংগবাদি মানসিকতা ও দৃষ্টি সত্যের বিপরীত, জীবনের বিপরীত, সত্যের কলেমার বিপরীত মিথ্যা ও মূর্খতার আঁধার। বস্তুবাদের উৎস নাস্তিকতাবাদ। জীবনের সত্য বস্তুবাদ নয়, জীবনের সত্য তাওহীদ রেসালাতের ভিত্তিতে প্রথমত ইনসানিয়াত ও চূড়ান্তভাবে ঈমানিয়াত।

 

তালেবান শাসনে ৫ বছরে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ২৪ লাখ আফগান মেয়ে। মা বোনদেরকে যখন পড়াশুনা থেকে বঞ্চিত করে চাকরি ব্যবসা থেকে বঞ্চিত করে, এমনকি চিকিৎসা পাওয়া থেকে পর্যন্ত বঞ্চিত করে মারার সার্বিক প্রয়াস চলমান, মা বোনদেরকে বিকশিত হওয়ার সকল দরজা বন্ধ করে যখন অযোগ্য প্রমাণের নানান প্রয়াস এভাবে চলমান, তখন আল্লামা ইমাম হায়াত বলছেন “মায়ের মাতৃত্ব সর্বোচ্চ নেতৃত্ব”। যেই সত্তাটা মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে পারে সেই সত্তা কোন কিছুর জন্য অযোগ্য কিভাবে হয়! সেই সত্তা জ্ঞান অর্জনের জন্য অযোগ্য কিভাবে হয়! যেই সত্তা শিশুর মানসিক গঠনের শিক্ষক সেই সত্তাকে কিভাবে কেউ অশিক্ষিত করে রাখার চিন্তা করতে পারে! যেই সত্তা গড়ে তোলার প্রাথমিক বিদ্যালয় সেই সত্তাকে কিভাবে পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত করে রাখার স্বপ্ন দেখতে পারে কেউ! কিভাবে আইন করে রাষ্ট্রীয়ভাবে এহেন কাজ করে কেউ! তাও আবার ইসলামের নামে! এসব উ*গ্রবাদী জ*ঙ্গীবাদী তালেবানী ওহাবী সালাফী মতবাদের ধারক প্রচারক এই জাকির নায়ক নায়ক নয়, খলনায়ক। এমন খলনায়ক সিনামায় প্রদর্শিত যেকোনো খলনায়ক চরিত্রের চেয়েও বেশী ক্ষতিকর চরিত্রের নাম। এমন অসংখ্য খলনায়ক আজহারি/জিহাদি/মাদানি/আমির/মুফতি ইত্যাদি নামে বিচরণ করছে সমাজে, এদের কাছ থেকে সাবধান থাকুন, ইসলামের সাথে এদের কোন সম্পর্ক নাই, তারা মুসলিম ‘দাবীদার’ কেবল।।