ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
রথযাত্রা: ইতিহাস, সনাতন সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা, আধ্যাত্মিক দর্শন ও মানবমুক্তির চিরন্তন বার্তা। হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসকে ঘিরে বিতর্ক: আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কঠিন পরীক্ষা। কিশোরগঞ্জ মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা। সিলেটে জামায়াত সমর্থিত ১৭ সরকারি আইনজীবীর একযোগে পদত্যাগ। রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তায় ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। উত্তরায় বাসের চাপায় দুই সাংবাদিক নিহত, নিরাপদ সড়কের দাবি সহকর্মীদের। আর্জেন্টিনার বিজয়ে ভোররাত থেকেই ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তায় সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাস। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : ১জনের ফাঁসি ৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা, ৪জন খালাস সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাবেন সেই গৃহবধূ। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষক এর বিরুদ্ধে।

মাগুরায় সুন্দরী পিংকীর ১৫ লাখের মিশন ফেল!

পুলিশ বাহিনীর একজন নিরাপরাধ সদস্যের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে ১৫ লাখ টাকা আদায়ের অপচেষ্টা রুঁখে দিয়েছে আদালত। অবশেষে দুরভীসন্ধিমূলক এই মামলা থেকে পুলিশ সদস্যকে অব্যাহতি দিয়ে বাদীর নামে ৫১১ ধারায় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার কালিনগর গ্রামে। ঘটনাটি আদালতপাড়া ও মাগুরা জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

জানাগেছে, মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার হোগলডাংগা গ্রামের পুলিশের মো: মোকাদ্দেস হোসেন এর পুত্র এএসআই মো: শামীম ইসলামের সাথে প্রতারণামূলক বিয়ের কাবিননামা সৃষ্টি করে তাকে স্বামী দাবী করে একই উপজেলার কালিনগর গ্রামের নায়েব শেখের বখে যাওয়া কন্যা পিংকী খাতুন ওরফে নিশি ইসলাম পিংকী। বিষয়টি জানতে পেরে এএসআই শামীম নিকাহ রেজি: আইন মোতাবেক গত ২৮/০১/২০২৫ ইং তারিখে পিংকীকে তালাক প্রদান করেন এবং তালাকনামার অনুলিপির কপি সরকারী রেজি: ডাক যোগে পিংকীর পিতার বাড়ির ঠিকানায় ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দপ্তরে পাঠিয়ে দেন।

এ খবর জানতে পেরে পিংকী কোন প্রকার ঘর সংসার না করেই এএসআই শামীম ইসলামকে স্বামী দাবী করে মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নং ২৫ তারিখ ২৭/৪/২০২৫ ইং। মামলাটি মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে জেনারেল রেজিষ্ট্রারভুক্ত হয় যার নং শ্রীপুর জিআর ৮৬/২৫। এই মামলাটি তদন্ত থাকাকালে বাদী পিংকী মামলা তুলে নেওয়া বা মিমাংশার শর্তে এএসআই শামীমের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবী করে। অন্যথায় এই মামলায় মিথ্যা সাক্ষী প্রমাণ উপস্থাপন করে তার পুলিশের চাকুরী খেয়ে ফেলার হুমকি দেয়। মিথ্যে এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়াটারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে । ফলে এএসআই শামীমকে পুলিশের চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মিথ্যে মামলার শিকার হয়ে এএসআই শামীম বিদ্ধস্থ হয়ে পড়েন এবং গণমাধ্যমের (সাংবাদিকদের) আশ্রয় নেন। তার বর্ণনামতে সরেজমিনে তদন্ত করে সাংবাদিকরা রিপোর্ট প্রচার করলেই বাদী পিংকীর মুখোশ খুলে যায়। সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে জানতে পারেন যে, মামলার বাদী পিংকী একটি বখাটে মেয়ে। তার একাধিক বয়ফ্রেন্ড রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন সে ঢাকার একটি বাসায় একা একা থাকতো। রূপ যৌবনের ফাঁদে ফেলে যুবকদের শিকার করাই তার পেশা ও নেশা। এএসআই শামীম তখন বিষয়টি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি সেটি বিশ্বাস করেন এবং সরেজমিনে তদন্ত করে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পান। পরবর্তীতে তিনি বাদী পিংকীর দায়েরকৃত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট পেশ করেন। যার ফাইনাল রিপোর্ট নং ২১ তাং ৩১/৮/২০২৫। একই সাথে মিথ্যা মামলা দায়ের করার অপরাধে বাদী পিংকীর বিরুদ্ধে ১৭ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০এর (সংশোধনী/২০২৫সালের ১১ নং অধ্যাদেশ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানান।

পরবর্তীতে এই ফাইনাল রিপোর্টটি মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে উত্থাপিত হলে বিজ্ঞ বিচারক কেস ডকেট পরীক্ষা নিরীক্ষা করাকালে পিংকী তার আইনজীবির মাধ্যমে নারাজী পিটিশন দিয়ে মামলাটি পুন: তদন্তের আবেদন জানান। কিন্তু শুনানীতে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ ও যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করতে না পারায় বিজ্ঞ বিচারক ফাইনাল রিপোর্টটি গ্রহণ করেন এবং মামলার দায় থেকে আসামী এএসআই শামীমকে অব্যাহতি দেন। একই সাথে আসামী এএসআই শামীমের আবেদনের ভিত্তিতে বাদী পিংকীর বিরুদ্ধে (মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে) যথায়থ ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে বাদী পিংকীর ১৫ লাখের মিশন ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে নিরাপরাধ এএসআই শামীম তার চাকুরী ফিরে পেয়েছে। বহুরূপী ও লোভী এই সুন্দরী পিংকীর রূপ যৌবনের ফাঁদ থেকে দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য তিনি সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

রথযাত্রা: ইতিহাস, সনাতন সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা, আধ্যাত্মিক দর্শন ও মানবমুক্তির চিরন্তন বার্তা।

মাগুরায় সুন্দরী পিংকীর ১৫ লাখের মিশন ফেল!

আপডেট সময় : ০২:০০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

পুলিশ বাহিনীর একজন নিরাপরাধ সদস্যের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে ১৫ লাখ টাকা আদায়ের অপচেষ্টা রুঁখে দিয়েছে আদালত। অবশেষে দুরভীসন্ধিমূলক এই মামলা থেকে পুলিশ সদস্যকে অব্যাহতি দিয়ে বাদীর নামে ৫১১ ধারায় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার কালিনগর গ্রামে। ঘটনাটি আদালতপাড়া ও মাগুরা জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

জানাগেছে, মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার হোগলডাংগা গ্রামের পুলিশের মো: মোকাদ্দেস হোসেন এর পুত্র এএসআই মো: শামীম ইসলামের সাথে প্রতারণামূলক বিয়ের কাবিননামা সৃষ্টি করে তাকে স্বামী দাবী করে একই উপজেলার কালিনগর গ্রামের নায়েব শেখের বখে যাওয়া কন্যা পিংকী খাতুন ওরফে নিশি ইসলাম পিংকী। বিষয়টি জানতে পেরে এএসআই শামীম নিকাহ রেজি: আইন মোতাবেক গত ২৮/০১/২০২৫ ইং তারিখে পিংকীকে তালাক প্রদান করেন এবং তালাকনামার অনুলিপির কপি সরকারী রেজি: ডাক যোগে পিংকীর পিতার বাড়ির ঠিকানায় ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দপ্তরে পাঠিয়ে দেন।

এ খবর জানতে পেরে পিংকী কোন প্রকার ঘর সংসার না করেই এএসআই শামীম ইসলামকে স্বামী দাবী করে মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নং ২৫ তারিখ ২৭/৪/২০২৫ ইং। মামলাটি মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে জেনারেল রেজিষ্ট্রারভুক্ত হয় যার নং শ্রীপুর জিআর ৮৬/২৫। এই মামলাটি তদন্ত থাকাকালে বাদী পিংকী মামলা তুলে নেওয়া বা মিমাংশার শর্তে এএসআই শামীমের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবী করে। অন্যথায় এই মামলায় মিথ্যা সাক্ষী প্রমাণ উপস্থাপন করে তার পুলিশের চাকুরী খেয়ে ফেলার হুমকি দেয়। মিথ্যে এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়াটারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে । ফলে এএসআই শামীমকে পুলিশের চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মিথ্যে মামলার শিকার হয়ে এএসআই শামীম বিদ্ধস্থ হয়ে পড়েন এবং গণমাধ্যমের (সাংবাদিকদের) আশ্রয় নেন। তার বর্ণনামতে সরেজমিনে তদন্ত করে সাংবাদিকরা রিপোর্ট প্রচার করলেই বাদী পিংকীর মুখোশ খুলে যায়। সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে জানতে পারেন যে, মামলার বাদী পিংকী একটি বখাটে মেয়ে। তার একাধিক বয়ফ্রেন্ড রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন সে ঢাকার একটি বাসায় একা একা থাকতো। রূপ যৌবনের ফাঁদে ফেলে যুবকদের শিকার করাই তার পেশা ও নেশা। এএসআই শামীম তখন বিষয়টি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি সেটি বিশ্বাস করেন এবং সরেজমিনে তদন্ত করে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পান। পরবর্তীতে তিনি বাদী পিংকীর দায়েরকৃত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট পেশ করেন। যার ফাইনাল রিপোর্ট নং ২১ তাং ৩১/৮/২০২৫। একই সাথে মিথ্যা মামলা দায়ের করার অপরাধে বাদী পিংকীর বিরুদ্ধে ১৭ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০এর (সংশোধনী/২০২৫সালের ১১ নং অধ্যাদেশ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানান।

পরবর্তীতে এই ফাইনাল রিপোর্টটি মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে উত্থাপিত হলে বিজ্ঞ বিচারক কেস ডকেট পরীক্ষা নিরীক্ষা করাকালে পিংকী তার আইনজীবির মাধ্যমে নারাজী পিটিশন দিয়ে মামলাটি পুন: তদন্তের আবেদন জানান। কিন্তু শুনানীতে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ ও যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করতে না পারায় বিজ্ঞ বিচারক ফাইনাল রিপোর্টটি গ্রহণ করেন এবং মামলার দায় থেকে আসামী এএসআই শামীমকে অব্যাহতি দেন। একই সাথে আসামী এএসআই শামীমের আবেদনের ভিত্তিতে বাদী পিংকীর বিরুদ্ধে (মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে) যথায়থ ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে বাদী পিংকীর ১৫ লাখের মিশন ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে নিরাপরাধ এএসআই শামীম তার চাকুরী ফিরে পেয়েছে। বহুরূপী ও লোভী এই সুন্দরী পিংকীর রূপ যৌবনের ফাঁদ থেকে দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য তিনি সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন।