ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : ১জনের ফাঁসি ৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা, ৪জন খালাস সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাবেন সেই গৃহবধূ। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষক এর বিরুদ্ধে। ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা: বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। কচুয়ায় গাছ কাটতে গিয়ে ১২ বছরের শিশুর মৃত্যু, বিচার দাবি পরিবারের। নেত্রকোণায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ৭তম ‎মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা,দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত।  ঘাঘটের ভাঙনে ঝুঁকিতে শহররক্ষা বাঁধ: পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ। শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি নয়, জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হোক। হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আজ থেকে ভেঙে গেল। ইরানি বিমানকে আটকাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলা। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি।

ল্যান্ডক্রুজারে অফিসে যান দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী, গাড়িটি ঢাকা সওজ নির্বাহী প্রকৌশলীর নামে নিবন্ধিত।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৮১ জন সংবাদটি পড়েছেন

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংস্থাপন কর্মকর্তার কার্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী লুৎফা বেগম। অফিস করেন টয়োটা ব্র্যান্ডের ল্যান্ডক্রুজার ডাবল কেবিনের একটি পিকআপে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাড়িটির মালিক ঢাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর। সেখান থেকে বরাদ্দ পান তাঁর স্বামী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের টেকনিক্যাল সার্ভিসেস উইংয়ের সহকারী বৃক্ষপালনবিদ (দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদার) রফিকুল ইসলাম। যদিও তিনি গাড়িটি পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন না।

গাড়ির বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সড়ক ও জনপথ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহে আরেফীন বলেন, ‘সহকারী প্রকৌশলী কিংবা সমমান পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সাধারণত পুলের গাড়ি (অফিশিয়াল কাজে ভাগাভাগি করে ব্যবহৃত) ব্যবহার করেন; ব্যক্তিগত গাড়ি বরাদ্দ থাকে না। দপ্তরের প্রধানদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি বরাদ্দ থাকে। তবে যাঁর কথা বলছেন, উনি গাড়িটি কীভাবে ব্যবহার করছেন তা আমি জানি না।’

অভিযোগ রয়েছে, লুৎফা বেগম বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগের পূর্বাঞ্চলে কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের পদে ছিলেন। রেলওয়ের প্রধান সংস্থাপন কর্মকর্তার দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন তিনি।

রেলওয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের সময় সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে লুৎফাকে দুইবার শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রভাব খাটিয়ে সেই নোটিশ বাতিল করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ। গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন রেলওয়ে শ্রমিক লীগের অনেকেই গা-ঢাকা দিলেও উল্টো তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। এই কর্মচারী চার বছর ধরে অফিসে আসা-যাওয়া করেন দামি গাড়িতে করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লুৎফা বেগম যে গাড়িতে চড়ে রেলওয়ে যাওয়া-আসা করেন সেটা টয়োটা ব্র্যান্ডের ৩ হাজার ১৫৩ সিসির ল্যান্ডক্রুজার ডাবল কেবিনের একটি পিকআপ। বিআরটিএর ডেটাবেইস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৩৫৪৪ এই নম্বরে ঢাকা বিআরটিএ কর্তৃক ২০০১ সালে ২৯ মার্চ গাড়িটি নিবন্ধিত হয়। গাড়িটির মালিক ঢাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। ঢাকা রমনায় সড়ক ভবনের ঠিকানার কার্যালয়ে এটা নিবন্ধিত রয়েছে।

কিন্তু বিআরটিএর একই ডেটাবেইস মালিকানাসংক্রান্ত উল্লেখকৃত একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে মো. রফিকুল ইসলাম নামে একজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। তিনি হলেন চট্টগ্রাম রেলওয়েতে কর্মচারী লুৎফার স্বামী।

এই বিষয়ে মুঠোফোনে লুৎফা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করে কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল দেওয়ার পরও ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উল্লিখিত বিষয় নিয়ে বার্তা পাঠানোর পরও তিনি ফিরতি কোনো উত্তর দেননি।

তবে তাঁর স্বামী রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি গাড়িটি তাঁর নামে বরাদ্দ বলে জানিয়েছেন। রফিকুল বলেন, ‘গাড়িটি আমার নামে বরাদ্দ আছে। এটা আমি অফিশিয়াল কাজে ব্যবহার করে থাকি। এখনো করছি। মাঝেমধ্যে যখন ফ্রি থাকি তখন রেলওয়েতে কর্মরত আমার মিসেসের (লুৎফা বেগম) যাওয়া-আসার জন্য গাড়িটি ব্যবহার করা হয়। এটা তো কোনো সমস্যা দেখছি না আমি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গাড়িটি ঢাকা সওজ নির্বাহী প্রকৌশলীর নামে নিবন্ধিত হয়ে থাকতে পারে। পরে ওখান থেকে আমাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ।

ল্যান্ডক্রুজারে অফিসে যান দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী, গাড়িটি ঢাকা সওজ নির্বাহী প্রকৌশলীর নামে নিবন্ধিত।

আপডেট সময় : ০৮:১৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংস্থাপন কর্মকর্তার কার্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী লুৎফা বেগম। অফিস করেন টয়োটা ব্র্যান্ডের ল্যান্ডক্রুজার ডাবল কেবিনের একটি পিকআপে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাড়িটির মালিক ঢাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর। সেখান থেকে বরাদ্দ পান তাঁর স্বামী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের টেকনিক্যাল সার্ভিসেস উইংয়ের সহকারী বৃক্ষপালনবিদ (দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদার) রফিকুল ইসলাম। যদিও তিনি গাড়িটি পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন না।

গাড়ির বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সড়ক ও জনপথ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহে আরেফীন বলেন, ‘সহকারী প্রকৌশলী কিংবা সমমান পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সাধারণত পুলের গাড়ি (অফিশিয়াল কাজে ভাগাভাগি করে ব্যবহৃত) ব্যবহার করেন; ব্যক্তিগত গাড়ি বরাদ্দ থাকে না। দপ্তরের প্রধানদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি বরাদ্দ থাকে। তবে যাঁর কথা বলছেন, উনি গাড়িটি কীভাবে ব্যবহার করছেন তা আমি জানি না।’

অভিযোগ রয়েছে, লুৎফা বেগম বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগের পূর্বাঞ্চলে কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের পদে ছিলেন। রেলওয়ের প্রধান সংস্থাপন কর্মকর্তার দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন তিনি।

রেলওয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের সময় সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে লুৎফাকে দুইবার শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রভাব খাটিয়ে সেই নোটিশ বাতিল করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ। গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন রেলওয়ে শ্রমিক লীগের অনেকেই গা-ঢাকা দিলেও উল্টো তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। এই কর্মচারী চার বছর ধরে অফিসে আসা-যাওয়া করেন দামি গাড়িতে করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লুৎফা বেগম যে গাড়িতে চড়ে রেলওয়ে যাওয়া-আসা করেন সেটা টয়োটা ব্র্যান্ডের ৩ হাজার ১৫৩ সিসির ল্যান্ডক্রুজার ডাবল কেবিনের একটি পিকআপ। বিআরটিএর ডেটাবেইস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৩৫৪৪ এই নম্বরে ঢাকা বিআরটিএ কর্তৃক ২০০১ সালে ২৯ মার্চ গাড়িটি নিবন্ধিত হয়। গাড়িটির মালিক ঢাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। ঢাকা রমনায় সড়ক ভবনের ঠিকানার কার্যালয়ে এটা নিবন্ধিত রয়েছে।

কিন্তু বিআরটিএর একই ডেটাবেইস মালিকানাসংক্রান্ত উল্লেখকৃত একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে মো. রফিকুল ইসলাম নামে একজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। তিনি হলেন চট্টগ্রাম রেলওয়েতে কর্মচারী লুৎফার স্বামী।

এই বিষয়ে মুঠোফোনে লুৎফা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করে কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল দেওয়ার পরও ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উল্লিখিত বিষয় নিয়ে বার্তা পাঠানোর পরও তিনি ফিরতি কোনো উত্তর দেননি।

তবে তাঁর স্বামী রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি গাড়িটি তাঁর নামে বরাদ্দ বলে জানিয়েছেন। রফিকুল বলেন, ‘গাড়িটি আমার নামে বরাদ্দ আছে। এটা আমি অফিশিয়াল কাজে ব্যবহার করে থাকি। এখনো করছি। মাঝেমধ্যে যখন ফ্রি থাকি তখন রেলওয়েতে কর্মরত আমার মিসেসের (লুৎফা বেগম) যাওয়া-আসার জন্য গাড়িটি ব্যবহার করা হয়। এটা তো কোনো সমস্যা দেখছি না আমি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গাড়িটি ঢাকা সওজ নির্বাহী প্রকৌশলীর নামে নিবন্ধিত হয়ে থাকতে পারে। পরে ওখান থেকে আমাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’