মাদারীপুরে শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সী হত্যার জের ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটানো হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি,২৬) দুপুর ১ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টাব্যাপী মাদারীপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড নতুন মাদারীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারসহ নূর ইসলাম হাওলাদার নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জানা গেছে, বর্তমানে একপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাদারীপুর পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান আকতার হাওলাদার। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন মাদারীপুর উপজেলা শ্রমিক দল নেতা হাছান মুন্সী। তিনি সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি নিহত শাকিল মুন্সীর আপন ভাই ও শাকিল মুন্সি হত্যা মামলার বাদী।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর মাদারীপুর পৌর শ্রমিক দলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে আক্তার হাওলাদারের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা লিটন হাওলাদারকে মাদারীপুর পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি করা হয়। লিটন হাওলাদার যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং চাঁদাবাজি, লুটপাট, হত্যা, সংঘর্ষসহ একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় এই কমিটির বিরোধিতা করেন সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি নিহত শাকিল মুন্সী। এ নিয়ে গত ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ রাতে শাকিলকে কুপিয়ে হত্যা করে লিটনের লোকজন। এ ঘটনায় সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলে আক্তার হাওলাদারসহ কয়েকজন কারাবাস ভোগ করে শেষে জামিনে আসেন। এরই জের ধরে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভোরে আক্তার পক্ষের লোকজন শ্রমিক দলের নেতা হান্নান ঢালীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আক্তার হাওলাদার ও নিহত শাকিলের ভাই হাছান মুন্সীর নেতৃত্বে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। প্রায় তিন ঘন্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। এসময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় সংঘর্ষকারীরা। একই সাথে বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে এবং একজনকে আটক করা হয়।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্থানীয় দুপক্ষের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ছোটখাটো ঘটনা ঘটে আসছিলো। আজকে তা চরম আকার ধারন করে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় একজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। খুব শীঘ্রই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি: 


















