ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীপুর সাংবাদিক সমিতির ফ্যামিলি ডে ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন। “যোগ্যদের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্বিত”—মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্বাধীনতা পদক–২০২৬ ও সাহিত্য সম্মাননা প্রদান। চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া রসুলবাগ ‘চাক্তাই ডাইভারশন খালটি’ সংস্কার জরুরী। আমতলীতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকারে, বিপাকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা। বাংলাদেশ সনাতন ধর্ম সুরক্ষা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক বর্ধিত সভা অনুষ্টিত। অবসর নিতে চান মির্জা ফখরুল, মহাসচিব পদে ‘পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত। ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ। বিএসএফের গুলিতে রক্তাক্ত হলো সীমান্ত। রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যেতে হয় নৌকায়। গাজীপুরে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

প্রভাবশালী স্টাইলে” ভিআইপি লাউঞ্জে ‘পলাতক’ দুদক আসামি ! ওএসডি এনবিআর কর্মকর্তাকে ঘিরে বিমানবন্দরে রহস্যজনক প্রোটোকল সুবিধা !  

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৩৮ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার আসামি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা বেলাল হোসেন চৌধুরী বর্তমানে সরকারি আদেশে ওএসডি (OSD) অবস্থায় রয়েছেন। অথচ বিস্ময়করভাবে আজ ১৭ জানুয়ারি দুবাই ফেরত তার আমেরিকান নাগরিক ছেলেকে অভ্যর্থনা জানাতে স্ত্রীসহ তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছেন।

অবাক করার বিষয় হলো—এই প্রোটোকল সুবিধা গ্রহণের সময় তার পদবির পাশে ‘OSD’ উল্লেখ করা হয়নি। যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান প্রোটোকল নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

প্রশ্ন উঠেছে—এনবিআর চেয়ারম্যান কিংবা কাস্টম হাউস কমিশনারের লিখিত অনুমোদন ছাড়া কীভাবে একজন দুদক মামলার আসামি কর্মকর্তা ভিআইপি প্রোটোকল সুবিধা পেলেন ? আরও গুরুতর আশঙ্কা হচ্ছে—প্রোটোকল সুবিধার আওতায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা সাধারণ ব্যাগেজ স্ক্যানিং ও তল্লাশি এড়িয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

বেলাল হোসেন চৌধুরীর অতীত কার্যক্রম বিবেচনায় দুবাই থেকে কোনো অবৈধ পণ্য পাচারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এনবিআরের সাবেক সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই মামলাটি নথিভুক্ত করে দুদক। উল্লেখ্য, তার স্ত্রীও একই মামলার আসামি।

মামলার পর তাকে ওএসডি করা হলেও গত তিন মাস ধরে তিনি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত। এমনকি শোনা যাচ্ছে—দুদক তাকে খুঁজছে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার উপস্থিতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও তার বিরুদ্ধে এখনো ‘ডেজারশন’ জারি হয়নি। এমনকি সরকারি আদেশ (GO) ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (IRD) সচিব তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। সব মিলিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগে দুদক মামলার আসামি, ওএসডি কর্মকর্তা, দীর্ঘদিন পলাতক অবস্থান—তারপরও রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল সুবিধা!

প্রশ্ন উঠছে— কেন তার বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ? কার অনুমোদনে তিনি ভিআইপি প্রোটোকল পেলেন ? দুদক তাকে খুঁজলেও বিমানবন্দরে কীভাবে তিনি নির্বিঘ্নে চলাফেরা করলেন ? এই ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে অদৃশ্য শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় কাজ করছে কি না—তা নিয়েই এখন তীব্র আলোচনা চলছে সচেতন মহলে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীপুর সাংবাদিক সমিতির ফ্যামিলি ডে ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন।

প্রভাবশালী স্টাইলে” ভিআইপি লাউঞ্জে ‘পলাতক’ দুদক আসামি ! ওএসডি এনবিআর কর্মকর্তাকে ঘিরে বিমানবন্দরে রহস্যজনক প্রোটোকল সুবিধা !  

আপডেট সময় : ১০:০৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

 

অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার আসামি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা বেলাল হোসেন চৌধুরী বর্তমানে সরকারি আদেশে ওএসডি (OSD) অবস্থায় রয়েছেন। অথচ বিস্ময়করভাবে আজ ১৭ জানুয়ারি দুবাই ফেরত তার আমেরিকান নাগরিক ছেলেকে অভ্যর্থনা জানাতে স্ত্রীসহ তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছেন।

অবাক করার বিষয় হলো—এই প্রোটোকল সুবিধা গ্রহণের সময় তার পদবির পাশে ‘OSD’ উল্লেখ করা হয়নি। যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান প্রোটোকল নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

প্রশ্ন উঠেছে—এনবিআর চেয়ারম্যান কিংবা কাস্টম হাউস কমিশনারের লিখিত অনুমোদন ছাড়া কীভাবে একজন দুদক মামলার আসামি কর্মকর্তা ভিআইপি প্রোটোকল সুবিধা পেলেন ? আরও গুরুতর আশঙ্কা হচ্ছে—প্রোটোকল সুবিধার আওতায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা সাধারণ ব্যাগেজ স্ক্যানিং ও তল্লাশি এড়িয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

বেলাল হোসেন চৌধুরীর অতীত কার্যক্রম বিবেচনায় দুবাই থেকে কোনো অবৈধ পণ্য পাচারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এনবিআরের সাবেক সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই মামলাটি নথিভুক্ত করে দুদক। উল্লেখ্য, তার স্ত্রীও একই মামলার আসামি।

মামলার পর তাকে ওএসডি করা হলেও গত তিন মাস ধরে তিনি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত। এমনকি শোনা যাচ্ছে—দুদক তাকে খুঁজছে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার উপস্থিতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও তার বিরুদ্ধে এখনো ‘ডেজারশন’ জারি হয়নি। এমনকি সরকারি আদেশ (GO) ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (IRD) সচিব তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। সব মিলিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগে দুদক মামলার আসামি, ওএসডি কর্মকর্তা, দীর্ঘদিন পলাতক অবস্থান—তারপরও রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল সুবিধা!

প্রশ্ন উঠছে— কেন তার বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ? কার অনুমোদনে তিনি ভিআইপি প্রোটোকল পেলেন ? দুদক তাকে খুঁজলেও বিমানবন্দরে কীভাবে তিনি নির্বিঘ্নে চলাফেরা করলেন ? এই ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে অদৃশ্য শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় কাজ করছে কি না—তা নিয়েই এখন তীব্র আলোচনা চলছে সচেতন মহলে।