ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ। বিএসএফের গুলিতে রক্তাক্ত হলো সীমান্ত। রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যেতে হয় নৌকায়। গাজীপুরে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ঠাকুরগাঁওয়ে কলাবাগান থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার। সাতকানিয়ায় জোরপূর্বক কৃষিজমি কর্তন, থানায় অভিযোগ। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর। ভুয়া “প্রাচীন পিলার-কয়েন” বাণিজ্যে শত কোটি টাকার প্রতারণা : কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ–সোহেল সিন্ডিকেটের ভয়ঙ্কর জাল-জালিয়াতি!  গীতার আলোয় আলোকিত মাদারীপুর গড়তে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাদারীপুর -২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব জাহান্দার আলী মিয়া। টেকেরহাটে নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ইউসিবি ব্যাংকের

গার্লস গাইডের টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগ কাজী জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

বাংলাদেশ গার্ল গাইডস এসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমর বিরুদ্ধে গরীব অসহায় ছাত্রীদের চাঁদাসহ গার্লস গাইডের টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগ উঠছে। তিনি সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবও ছিলেন। তার অনিয়মে জর্জরিত বাংলাদেশ গার্লস গাইডস এসোসিয়েশন।

বাংলাদেশ গার্লস গাইড এসোসিয়েশন একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হলেও জাতীয় কমিশনার হিসাবে কাজী জেবুন্নেছার দায়িত্ব নেয়ার পরে প্রতিষ্ঠানটিতে আওয়ামীলীগের রাজনীতি প্রবেশ করে । স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন হলেও কাজী জেবুন্নেছা রয়ে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। প্রতিষ্ঠানটিতে নিজের ও দলীয় প্রভাব খাঁটিঁয়ে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে গেছেন। তার অনুসারি কিছু লেজুরভিত্তিক দল তৈরি করে তাদের দ্বারা অনিয়ম আর দুর্নীতি করে জর্জরিত করছেন জনকল্যাণ মূলক এই প্রতিষ্ঠানটিকে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ও গত পনেরো বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে রাজনীতি প্রবেশ করে। ১৫টি বছর বাংলাদেশ গার্লসগাইডস্ আওয়ামী স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ বৈষম্যপূর্ণ, সুবিধাবাদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বিশেষ করে ২০১৮ সাল থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার তার অনৈতিক স্বৈরাচারী, স্বেচ্ছাচারীতা ও বৈষম্যমূলক নিপীড়ন এবং হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের থেকে প্রাপ্ত আর্থিক দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ গার্লসগাইডস্ এসোসিয়েশন আওয়ামী নির্মিত আয়না ঘরসহ ‘নিপীড়নকারী আমলা ঘরে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উর্ধ্বতন সরকারি আমলাদের ক্ষমতার অপব্যহার ছিলো মাত্রাতিরিক্ত ও অসহনীয়। সর্বক্ষণ হুমকি ও আতংকে রাখতো সকলকে। তাঁর লেজুড়ভিত্তিক দল ব্যতিত প্রতিষ্ঠানে অন্যান্যদের অবস্থান ছিলো প্রচণ্ড নিপীড়িত ও দুর্ব্যবহারের বেড়াজালে মানসিকভাবে দুর্দশাগ্রস্থ। কাজী জেবুন্নেছা লেজুরবৃত্তিক দলগঠন করে তাদের দ্বারা তিনি দুর্নীতি করে তার পার্সেন্টেস নিতেন।

কেনাকাটা করার জন্য যে কমিটি করা হয়েছে সেখানে আহবায়ক রাখা হয়েছে ডেপুটি জাতীয় কমিশনার সাবিনা ফেরদৌসকে । তিনি বর্তমানে উপসচিব হিসাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আছেন। এ রকম বিভিন্ন পদে তার মতদার্শে লোক বসিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া তিনি ১০ জনের একটি বহর নিয়ে মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আসা প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করে সাইপ্রাস ও মিশর ঘুরে আসেন। যেখানে ২ থেকে ৩ জনই যথেষ্ট ছিল। তিনি যে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাত করছেন তা উঠে এসেছে ২০২৩-২৪ সালের অডিট রির্পোটেও।

২০২১-২২-২৪ সালের শিক্ষা অডিট রির্পোট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে বেতন-ভাতা বাবদ যে টাকা বরাদ্দ হয় তা ব্যয় করার পর যে অব্যয়িত টাকা থাকে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি তা নিজস্ব একাউন্টে জমা রাখায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৩৯ টাকা।

কাজী জেবুন্নেছা তার নিজস্ব লোকজনের দ্বারা গার্ল গাইডস্্ের কেনা কাটা করাতেন । এ কারণে সরবরাহকারী বিল পরিশোধ করার সময় ভ্যাট-ট্যাক্স কর্তন না করে তাদেরকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এজন্য সরকারে ক্ষতি হয়েছে ৪ লাখ ৬১ হাজার ১৯৪ টাকা। যা শিক্ষা অডিট রিপোর্টেও উঠে এসেছে।

জাতীয় কমিশনের কর্মী সহকারী মালেকা পারভীনকে ৯ মাস পর অর্গানোগ্রাম বর্হিভূত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে এবং ট্রেনার সুফিয়া বেগমকে নিয়োগপত্রের ৬ মাস পর নিয়োগ দেখিয়ে ঘটনাত্তোর নিয়োগ প্রদান করা হয়। অবসর গ্রহণের র্দীসময় পর কোনরূপ পত্রিকায় বিজ্ঞাপ্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিয়োগ দেয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৮৮টাকা।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাজেট প্রাক্কলন বা এপিপি প্রণয়ন না করে বিভিন্ন ক্রয়, মেরামত, সংস্কার বাবদ ২ কোটি ৪৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। যার জন্য বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অডিডে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসএমএস পাঠাতে কীভাবে বিল করা হয়েছে এটা দেখেই সহজে অনুমান করা যায় যে, মিথ্যা বিল ভাউচার দিয়ে কীভাবে গরীব অসহায় ছাত্রীদের টাকা লুটপাট করা হয়েছে। ২০২১-২২.২৩-২৪ অর্থবছরে জাতীয় বিজয় দিবস, নববর্ষ ও ঈদ শুভেচ্ছ উপলক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গাইডিং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট এসএমএস পাঠাতে প্রতি এসএমএস এ খরচ হয় ৪৫ পয়সা থেকে ৬৫ পয়সা অথচ প্রতিটি এসএমএস এ বিল দেখানো হয়েছে ১৫ টাকা করে। এতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

কাজী জেবুন্নেছার দলের লোক হওয়া ফেরদৌসী আক্তার ডলিকে গার্ল গাইডস্ এর প্রধান কার্যালয়ে বিউটি পার্লার করার জন্য ২৩ দশমিক ৭৩৪ টাকা হারে প্রতিবর্গফুট ভাড়া দেন। একই হাউজ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে ভাড়া দেন ৫৬ ও ৬৫টাকা হারে। এতে বছরে সরকারের লোকসান হয় প্রায় ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১১২ টাকা বলে অডিট আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কাজী জেবুন্নেছা বেগম এর কাছে ফোন করলে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। অনিয়মের বিষয় তার কাছে ক্ষুদে বার্তায় জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে গার্ল গাইডস্রে জাতীয় ডিপুটি কমিশনার এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সাবিনা ফেরদৌসীর কাছে জানতে চাইলে তিনি অডিটের অনেক প্রশ্নই এড়িয়ে যান এবং বলেন, আমরা অডিট অফিসে জবাব দিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের একটি বিপক্ষ দল আছে যারা আমাদের নামে বদনাম ছড়াচ্ছে।

এ বিষয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সাথে কথা বলতে চাইলে, তার পিএস মো. রকিবুল হাসান বলেন, ম্যাডাম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন না। কিছু জানতে চাইলে লিখিতভাবে ম্যাডামকে দিতে হবে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ।

গার্লস গাইডের টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগ কাজী জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে।

আপডেট সময় : ১০:৫৮:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ গার্ল গাইডস এসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমর বিরুদ্ধে গরীব অসহায় ছাত্রীদের চাঁদাসহ গার্লস গাইডের টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগ উঠছে। তিনি সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবও ছিলেন। তার অনিয়মে জর্জরিত বাংলাদেশ গার্লস গাইডস এসোসিয়েশন।

বাংলাদেশ গার্লস গাইড এসোসিয়েশন একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হলেও জাতীয় কমিশনার হিসাবে কাজী জেবুন্নেছার দায়িত্ব নেয়ার পরে প্রতিষ্ঠানটিতে আওয়ামীলীগের রাজনীতি প্রবেশ করে । স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন হলেও কাজী জেবুন্নেছা রয়ে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। প্রতিষ্ঠানটিতে নিজের ও দলীয় প্রভাব খাঁটিঁয়ে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে গেছেন। তার অনুসারি কিছু লেজুরভিত্তিক দল তৈরি করে তাদের দ্বারা অনিয়ম আর দুর্নীতি করে জর্জরিত করছেন জনকল্যাণ মূলক এই প্রতিষ্ঠানটিকে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ও গত পনেরো বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে রাজনীতি প্রবেশ করে। ১৫টি বছর বাংলাদেশ গার্লসগাইডস্ আওয়ামী স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ বৈষম্যপূর্ণ, সুবিধাবাদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বিশেষ করে ২০১৮ সাল থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার তার অনৈতিক স্বৈরাচারী, স্বেচ্ছাচারীতা ও বৈষম্যমূলক নিপীড়ন এবং হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের থেকে প্রাপ্ত আর্থিক দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ গার্লসগাইডস্ এসোসিয়েশন আওয়ামী নির্মিত আয়না ঘরসহ ‘নিপীড়নকারী আমলা ঘরে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উর্ধ্বতন সরকারি আমলাদের ক্ষমতার অপব্যহার ছিলো মাত্রাতিরিক্ত ও অসহনীয়। সর্বক্ষণ হুমকি ও আতংকে রাখতো সকলকে। তাঁর লেজুড়ভিত্তিক দল ব্যতিত প্রতিষ্ঠানে অন্যান্যদের অবস্থান ছিলো প্রচণ্ড নিপীড়িত ও দুর্ব্যবহারের বেড়াজালে মানসিকভাবে দুর্দশাগ্রস্থ। কাজী জেবুন্নেছা লেজুরবৃত্তিক দলগঠন করে তাদের দ্বারা তিনি দুর্নীতি করে তার পার্সেন্টেস নিতেন।

কেনাকাটা করার জন্য যে কমিটি করা হয়েছে সেখানে আহবায়ক রাখা হয়েছে ডেপুটি জাতীয় কমিশনার সাবিনা ফেরদৌসকে । তিনি বর্তমানে উপসচিব হিসাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আছেন। এ রকম বিভিন্ন পদে তার মতদার্শে লোক বসিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া তিনি ১০ জনের একটি বহর নিয়ে মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আসা প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করে সাইপ্রাস ও মিশর ঘুরে আসেন। যেখানে ২ থেকে ৩ জনই যথেষ্ট ছিল। তিনি যে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাত করছেন তা উঠে এসেছে ২০২৩-২৪ সালের অডিট রির্পোটেও।

২০২১-২২-২৪ সালের শিক্ষা অডিট রির্পোট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে বেতন-ভাতা বাবদ যে টাকা বরাদ্দ হয় তা ব্যয় করার পর যে অব্যয়িত টাকা থাকে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি তা নিজস্ব একাউন্টে জমা রাখায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৩৯ টাকা।

কাজী জেবুন্নেছা তার নিজস্ব লোকজনের দ্বারা গার্ল গাইডস্্ের কেনা কাটা করাতেন । এ কারণে সরবরাহকারী বিল পরিশোধ করার সময় ভ্যাট-ট্যাক্স কর্তন না করে তাদেরকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এজন্য সরকারে ক্ষতি হয়েছে ৪ লাখ ৬১ হাজার ১৯৪ টাকা। যা শিক্ষা অডিট রিপোর্টেও উঠে এসেছে।

জাতীয় কমিশনের কর্মী সহকারী মালেকা পারভীনকে ৯ মাস পর অর্গানোগ্রাম বর্হিভূত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে এবং ট্রেনার সুফিয়া বেগমকে নিয়োগপত্রের ৬ মাস পর নিয়োগ দেখিয়ে ঘটনাত্তোর নিয়োগ প্রদান করা হয়। অবসর গ্রহণের র্দীসময় পর কোনরূপ পত্রিকায় বিজ্ঞাপ্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিয়োগ দেয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৮৮টাকা।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাজেট প্রাক্কলন বা এপিপি প্রণয়ন না করে বিভিন্ন ক্রয়, মেরামত, সংস্কার বাবদ ২ কোটি ৪৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। যার জন্য বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অডিডে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসএমএস পাঠাতে কীভাবে বিল করা হয়েছে এটা দেখেই সহজে অনুমান করা যায় যে, মিথ্যা বিল ভাউচার দিয়ে কীভাবে গরীব অসহায় ছাত্রীদের টাকা লুটপাট করা হয়েছে। ২০২১-২২.২৩-২৪ অর্থবছরে জাতীয় বিজয় দিবস, নববর্ষ ও ঈদ শুভেচ্ছ উপলক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গাইডিং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট এসএমএস পাঠাতে প্রতি এসএমএস এ খরচ হয় ৪৫ পয়সা থেকে ৬৫ পয়সা অথচ প্রতিটি এসএমএস এ বিল দেখানো হয়েছে ১৫ টাকা করে। এতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

কাজী জেবুন্নেছার দলের লোক হওয়া ফেরদৌসী আক্তার ডলিকে গার্ল গাইডস্ এর প্রধান কার্যালয়ে বিউটি পার্লার করার জন্য ২৩ দশমিক ৭৩৪ টাকা হারে প্রতিবর্গফুট ভাড়া দেন। একই হাউজ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে ভাড়া দেন ৫৬ ও ৬৫টাকা হারে। এতে বছরে সরকারের লোকসান হয় প্রায় ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১১২ টাকা বলে অডিট আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কাজী জেবুন্নেছা বেগম এর কাছে ফোন করলে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। অনিয়মের বিষয় তার কাছে ক্ষুদে বার্তায় জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে গার্ল গাইডস্রে জাতীয় ডিপুটি কমিশনার এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সাবিনা ফেরদৌসীর কাছে জানতে চাইলে তিনি অডিটের অনেক প্রশ্নই এড়িয়ে যান এবং বলেন, আমরা অডিট অফিসে জবাব দিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের একটি বিপক্ষ দল আছে যারা আমাদের নামে বদনাম ছড়াচ্ছে।

এ বিষয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সাথে কথা বলতে চাইলে, তার পিএস মো. রকিবুল হাসান বলেন, ম্যাডাম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন না। কিছু জানতে চাইলে লিখিতভাবে ম্যাডামকে দিতে হবে।