ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় ১৬ দিনেও ব্যবস্থা নেই আর কত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাবে, কোথায় আছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির বন্ধন: মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমে নতুন কমিটি, নতুন প্রত্যাশা। ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের সাবেক বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট প্রতিমন্ত্রী গণপূর্তের শরিফ আহমেদের আস্থাভাজন রাশেদ আহমেদ এখন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর আজিমপুর ডিভিশনে নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু ডিএমডি ও তাঁর মাকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ, হুমকির ঘটনায় জিডি কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান দম্পতির হাজার কোটি টাকার সম্পদ!  দুদকের দুই মামলা।

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মিসেস শামীমা আক্তারের হাজার কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ। অভিযোগ রয়েছে অর্থ পাচারেরও।

আর এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পিরোজপুর সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আসামি ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম (৪৮) তাঁর মালিকানাধীন ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড, ইফতি এন্টারপ্রাইজ ও সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে জমি, বাড়ি, ফ্লাট এবং দোকান ক্রয় বাবদ ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৭ টাকা স্থাবর এবং বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, মূলধন ও কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ এবং ৯টি গাড়ি ক্রয় বাবদ ৫০ কোটি ৬১ লাখ ৬৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৮৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৩ টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় বাবদ ২৯ কোটি ৪৯ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৬ টাকাসহ মোট ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৯ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব পায় দুদক। পক্ষান্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস্য ১৭ কোটি ৭১ লাখ ৫ হাজার ৪৪৯ টাকা। তাঁর অর্জিত ও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার ১০ টাকা মূল্যের সম্পদ আড়াল করে রাখায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন তিনি।

এ ছাড়া মিরাজুল ইসলাম ২ হাজার ৬৭৯ কোটি ৩৭ লাখ ১১ হাজার ৪০৪ টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক ৯টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় জমাপূর্বক অবৈধভাবে অর্জন করেছেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অপর দিকে মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী আসামি শামীমা আক্তার তাঁর মালিকানাধীন মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে অর্জিত ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৫১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ভোগদখলে রেখে এবং এলজিইডির নিযুক্ত ঠিকাদার হিসেবে প্রকল্পের কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে অসদুদ্দেশ্যে স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেছেন; যা মানি লন্ডারিং আইনের ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের কারণে মামলা করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্ত্রী শামীমা আক্তার তাঁর শিমু এন্টারপ্রাইজের নামে ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাব হতে ১২২ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭০৮ টাকা স্থানান্তার ও হস্তান্তর করে মানি লন্ডারিং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তাঁদের বিরুদ্ধে দুদক এই মামলা করেছে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান দম্পতির হাজার কোটি টাকার সম্পদ!  দুদকের দুই মামলা।

আপডেট সময় : ০৯:৩২:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মিসেস শামীমা আক্তারের হাজার কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ। অভিযোগ রয়েছে অর্থ পাচারেরও।

আর এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পিরোজপুর সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আসামি ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম (৪৮) তাঁর মালিকানাধীন ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড, ইফতি এন্টারপ্রাইজ ও সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে জমি, বাড়ি, ফ্লাট এবং দোকান ক্রয় বাবদ ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৭ টাকা স্থাবর এবং বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, মূলধন ও কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ এবং ৯টি গাড়ি ক্রয় বাবদ ৫০ কোটি ৬১ লাখ ৬৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৮৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৩ টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় বাবদ ২৯ কোটি ৪৯ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৬ টাকাসহ মোট ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৯ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব পায় দুদক। পক্ষান্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস্য ১৭ কোটি ৭১ লাখ ৫ হাজার ৪৪৯ টাকা। তাঁর অর্জিত ও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার ১০ টাকা মূল্যের সম্পদ আড়াল করে রাখায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন তিনি।

এ ছাড়া মিরাজুল ইসলাম ২ হাজার ৬৭৯ কোটি ৩৭ লাখ ১১ হাজার ৪০৪ টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক ৯টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় জমাপূর্বক অবৈধভাবে অর্জন করেছেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অপর দিকে মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী আসামি শামীমা আক্তার তাঁর মালিকানাধীন মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে অর্জিত ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৫১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ভোগদখলে রেখে এবং এলজিইডির নিযুক্ত ঠিকাদার হিসেবে প্রকল্পের কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে অসদুদ্দেশ্যে স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেছেন; যা মানি লন্ডারিং আইনের ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের কারণে মামলা করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্ত্রী শামীমা আক্তার তাঁর শিমু এন্টারপ্রাইজের নামে ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাব হতে ১২২ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭০৮ টাকা স্থানান্তার ও হস্তান্তর করে মানি লন্ডারিং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তাঁদের বিরুদ্ধে দুদক এই মামলা করেছে।