ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বিআরটিসিতে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ সিন্ডিকেটের অভিযোগ। সাবেক প্রভাবশালী বলয়ের সদস্য জামিল হোসেনের উত্থান, বদলি-বাণিজ্য ও ঠিকাদার নির্যাতনের অভিযোগে নতুন প্রশ্ন ?  ওসমানীনগরে ডিবির বিশেষ অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক। ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চিংড়ি ঘের শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু। শারজাহ আমিরাত জুড়ে ড্রোন খাত নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নতুন আইন চালু করেছে। কালীগঞ্জে নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের চেষ্টা: সাবেক মেয়র বিজুকে আটকের পর পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল পরিবারের মহিলা ও নেতাকর্মীরা। সংবাদ প্রকাশ করেছি, অপরাধ করিনি, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের প্রতিবাদ। ভারতে মসজিদ ভাঙচুর ও মুসলিম নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান: ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার দাবি ইয়ারুল ইসলামের। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষিকা লাঞ্ছিত। নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার। খাদ্যশৃঙ্খলে বিষাক্ত ছোবল : প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পুরোনো সিন্ডিকেটের নতুন মুখ, নিম্নমানের পশুখাদ্যে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা।

বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণে ব্যপক অনিয়ম: বিসিআইসিতে ‘কোকো পরিষদ’ ব্যানারে চেয়ারম্যান ও পিডি’র ক্যাশিয়ার খ্যাত  কে এই নজরুল ইসলাম?

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ৪০৩ জন সংবাদটি পড়েছেন

তিনি বিসিআইসি’র কোন কর্মকর্তা নন। তার কোন আত্মীয় স্বজনও চাকরি করেন না বিসিআইসিতে। তবুও তিনি প্রায় সময়ই বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান মো: ফজলুর রহমান ও ৩৪ জেলায় বাফার সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের পিডি মো: মঞ্জুরুল হকের আশে পাশে থাকেন। ফাইল ওয়ার্কে হস্তক্ষেপ করেন। সার ডিলার নিয়োগ থেকে শুরু করে সার পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগ সহ বিসিআইসির যাবতীয় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন। এমন কি কর্মকর্তা,কর্মচারিদের নিয়োগ, বদলী, প্রমোশনেও তদবীর বাণিজ্য করেন। চেয়ারম্যান ও পিডি তার কথার বাইরে কিছুই করেন না। এমন অভিযোগ তুলেছেন বিসিআইসির কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। তাদের ভাষ্য: এই নজরুল ইসলামই বিসিআইসির ছায়া চেয়ারম্যানের ভুমিকা পালন করছেন গত দেড় বছর যাবত। কি তার ক্ষমতার উতস? সেটা জানার জন্য এ প্রতিবেদক অনুসন্ধান করে জানতে পারেন যে, এই নজরুল ইসলামের বাড়ী বৃহত্তর নোয়াখালি জেলায়। তিনি নিজেকে নোয়াখালি বেগমগঞ্জ কোকো পরিষদের নেতা বলে দাবী করেন। নোয়াখালীর সব বিএনপি নেতা তার সুপরিচিত ও আত্মীয় স¦জন বলেও প্রচার করেন। মুলত বিসিআইসিতে তার আবির্ভাব ঘটে ৫ আগষ্টের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর। এরপর তিনি বিএনপির কিছু কেন্দ্রীয় নেতার নাম ভাঙিয়ে বিসিআইসিতে প্রভাব বিস্তার করেন। বনে যান ফ্যাসিবাদের দোসর কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের রক্ষাকর্তা।

তিনি সুকৌশলে কোকো পরিষদের নাম ভাঙিয়ে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো: ফজলুর রহমান ও বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের পিডি মো: মঞ্জুরুল হকের অঘোষিত ক্যাশিয়ার বা কমিশন কালেক্টর বনে যান। এরপর এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার ম্যানজম্যান হয়ে তদবীর বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন। ঠিকাদারদের কাছে তিনি নিজেকে চেয়ারম্যানে পিএ বলেও পরিচয় দেন। পিডি মো: মঞ্জুরুল হক তার নিকট আত্মীয় বলেও দাবী করেন।

তিনি বাফার ৩৪ জেলায় সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারী কাজ পাইয়ে দেবার মুল মাধ্যমের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আওয়ামী আমলের ব্ল্যাকলিষ্টেড ঠিকাদারী ফার্মগুলোর সাথে যোগাযোগ করে কাজ দেওয়ার শর্তে চেয়ারম্যান ও পিডির সাথে কমিশনের টাকা লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই নজরুল ইসলামের বদৌলতে বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ী ভাঙার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন ৫ টি গুদাম নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী পেয়েছেন। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা মূল্যের এই কাজে তিনি কমিশন বাবদ মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন।

শুধু মজিদ সন্স কন্সট্রাকশনই নয়-মেসার্স এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনাল ও মেসার্স সালাম কন্সট্রাকশনকেও ১১ টি সার গুদাম নির্মার্ণের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। এসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কমিশনের ভিত্তিতে কাজ নিয়ে অতি নিন্মমানের পাথর,বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

শহীদ রাষ্ট্রপাত মেজর জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান এর ছোট ভাই কোকোর নামে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘‘ কোকো পরিষদ” এর নাম ব্যবহার করে বিসিআইসিতে কালোথাবা বিস্তারকারী এই নজরুল ইসলামের কমিশন বাণিজ্য এবং দাদাগিরি বন্ধ করতে না পারলে বিসিআইসির অনিয়ম,দুর্নীতি বন্ধ হবে না মর্মে মত প্রকাশ করেছেন সিংহভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। এতেকরে জিয়া পরিবারের সুনাম যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে। তেমন সদ্য ক্ষমতা গ্রহনকারী বিএনপি সরকারের ভাবমুর্তিও প্রশনবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সরকারের এখনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বিআরটিসিতে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ সিন্ডিকেটের অভিযোগ। সাবেক প্রভাবশালী বলয়ের সদস্য জামিল হোসেনের উত্থান, বদলি-বাণিজ্য ও ঠিকাদার নির্যাতনের অভিযোগে নতুন প্রশ্ন ? 

বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণে ব্যপক অনিয়ম: বিসিআইসিতে ‘কোকো পরিষদ’ ব্যানারে চেয়ারম্যান ও পিডি’র ক্যাশিয়ার খ্যাত  কে এই নজরুল ইসলাম?

আপডেট সময় : ১২:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

তিনি বিসিআইসি’র কোন কর্মকর্তা নন। তার কোন আত্মীয় স্বজনও চাকরি করেন না বিসিআইসিতে। তবুও তিনি প্রায় সময়ই বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান মো: ফজলুর রহমান ও ৩৪ জেলায় বাফার সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের পিডি মো: মঞ্জুরুল হকের আশে পাশে থাকেন। ফাইল ওয়ার্কে হস্তক্ষেপ করেন। সার ডিলার নিয়োগ থেকে শুরু করে সার পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগ সহ বিসিআইসির যাবতীয় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন। এমন কি কর্মকর্তা,কর্মচারিদের নিয়োগ, বদলী, প্রমোশনেও তদবীর বাণিজ্য করেন। চেয়ারম্যান ও পিডি তার কথার বাইরে কিছুই করেন না। এমন অভিযোগ তুলেছেন বিসিআইসির কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। তাদের ভাষ্য: এই নজরুল ইসলামই বিসিআইসির ছায়া চেয়ারম্যানের ভুমিকা পালন করছেন গত দেড় বছর যাবত। কি তার ক্ষমতার উতস? সেটা জানার জন্য এ প্রতিবেদক অনুসন্ধান করে জানতে পারেন যে, এই নজরুল ইসলামের বাড়ী বৃহত্তর নোয়াখালি জেলায়। তিনি নিজেকে নোয়াখালি বেগমগঞ্জ কোকো পরিষদের নেতা বলে দাবী করেন। নোয়াখালীর সব বিএনপি নেতা তার সুপরিচিত ও আত্মীয় স¦জন বলেও প্রচার করেন। মুলত বিসিআইসিতে তার আবির্ভাব ঘটে ৫ আগষ্টের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর। এরপর তিনি বিএনপির কিছু কেন্দ্রীয় নেতার নাম ভাঙিয়ে বিসিআইসিতে প্রভাব বিস্তার করেন। বনে যান ফ্যাসিবাদের দোসর কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের রক্ষাকর্তা।

তিনি সুকৌশলে কোকো পরিষদের নাম ভাঙিয়ে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো: ফজলুর রহমান ও বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের পিডি মো: মঞ্জুরুল হকের অঘোষিত ক্যাশিয়ার বা কমিশন কালেক্টর বনে যান। এরপর এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার ম্যানজম্যান হয়ে তদবীর বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন। ঠিকাদারদের কাছে তিনি নিজেকে চেয়ারম্যানে পিএ বলেও পরিচয় দেন। পিডি মো: মঞ্জুরুল হক তার নিকট আত্মীয় বলেও দাবী করেন।

তিনি বাফার ৩৪ জেলায় সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারী কাজ পাইয়ে দেবার মুল মাধ্যমের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আওয়ামী আমলের ব্ল্যাকলিষ্টেড ঠিকাদারী ফার্মগুলোর সাথে যোগাযোগ করে কাজ দেওয়ার শর্তে চেয়ারম্যান ও পিডির সাথে কমিশনের টাকা লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই নজরুল ইসলামের বদৌলতে বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ী ভাঙার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন ৫ টি গুদাম নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী পেয়েছেন। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা মূল্যের এই কাজে তিনি কমিশন বাবদ মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন।

শুধু মজিদ সন্স কন্সট্রাকশনই নয়-মেসার্স এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনাল ও মেসার্স সালাম কন্সট্রাকশনকেও ১১ টি সার গুদাম নির্মার্ণের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। এসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কমিশনের ভিত্তিতে কাজ নিয়ে অতি নিন্মমানের পাথর,বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

শহীদ রাষ্ট্রপাত মেজর জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান এর ছোট ভাই কোকোর নামে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘‘ কোকো পরিষদ” এর নাম ব্যবহার করে বিসিআইসিতে কালোথাবা বিস্তারকারী এই নজরুল ইসলামের কমিশন বাণিজ্য এবং দাদাগিরি বন্ধ করতে না পারলে বিসিআইসির অনিয়ম,দুর্নীতি বন্ধ হবে না মর্মে মত প্রকাশ করেছেন সিংহভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। এতেকরে জিয়া পরিবারের সুনাম যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে। তেমন সদ্য ক্ষমতা গ্রহনকারী বিএনপি সরকারের ভাবমুর্তিও প্রশনবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সরকারের এখনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।