ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
অবসর নিতে চান মির্জা ফখরুল, মহাসচিব পদে ‘পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত। ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ। বিএসএফের গুলিতে রক্তাক্ত হলো সীমান্ত। রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যেতে হয় নৌকায়। গাজীপুরে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ঠাকুরগাঁওয়ে কলাবাগান থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার। সাতকানিয়ায় জোরপূর্বক কৃষিজমি কর্তন, থানায় অভিযোগ। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর। ভুয়া “প্রাচীন পিলার-কয়েন” বাণিজ্যে শত কোটি টাকার প্রতারণা : কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ–সোহেল সিন্ডিকেটের ভয়ঙ্কর জাল-জালিয়াতি!  গীতার আলোয় আলোকিত মাদারীপুর গড়তে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাদারীপুর -২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব জাহান্দার আলী মিয়া।

সমবায় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোটি টাকার লেনদেন : আগস্টিন পিউরিফিকেশনকে ঘিরে দুদক তদন্তের দাবি জোরালো। 

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ১৩০ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

ঢাকা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের কষ্টার্জিত অর্থে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী আর্থিক প্রতিষ্ঠান দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডকে ঘিরে উঠেছে বিস্ফোরক অভিযোগ। সাবেক চেয়ারম্যান আগস্টিন পিউরিফিকেশনের বিরুদ্ধে সমবায় আইন লঙ্ঘন, অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম, শতকোটি টাকার সম্পদ গঠন এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এনে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ।

অভিযোগকারী সাবেক সদস্য অমূল্য লরেন্স পেরেরা দাবি করেছেন “এক দশকের বেশি সময় ধরে সমিতিকে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে রেখে আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।”

আইন ভেঙে চতুর্থ মেয়াদ ?

সমবায় সমিতি আইন ২০০১ (সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩) অনুযায়ী একটানা তিন মেয়াদের বেশি কোনো সদস্য ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নির্বাচিত হতে পারেন না। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আগস্টিন পিউরিফিকেশন ২০২২-২০২৫ মেয়াদে চতুর্থবার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে এটি সরাসরি আইনের ১৮(৮) ধারার লঙ্ঘন। প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে এই মেয়াদ অনুমোদন পেল? সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও দেখা দিয়েছে সন্দেহ।

‘হাউজিং’ না ‘অঘোষিত ব্যাংক’?

অভিযোগে বলা হয়েছে, সমিতি সদস্য বহির্ভূত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত গ্রহণ এবং উচ্চ সুদে লেনদেন পরিচালনা করছে—যা সমবায় আইনের ২৩(খ) ও ২৬ ধারার পরিপন্থী। দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১১টি প্রাথমিক সমিতি এবং বহু ব্যক্তি উচ্চ মুনাফার আশায় এখানে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। যদি তা সত্য হয়, তবে এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কার্যত ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনার শামিল—যার শাস্তি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

ফ্ল্যাট-প্লট বিক্রিতে উপ-আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ : ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে।

অভিযোগে বলা হয়েছে—

ফ্ল্যাট সংখ্যা: ২,১৩৮টি, বিক্রি: ১২৬টি, প্লট সংখ্যা: ৪,৭০৮টি এবং বরাদ্দ: ১,৪১২টি,

অভিযোগকারীর দাবি, সদস্যদের বাইরে বিপুল সংখ্যক ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রি করে সমিতির মূল উদ্দেশ্যকে পাশ কাটানো হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং উপ-আইন লঙ্ঘিত হয়েছে।

আত্মসাৎ ও সম্পদ বিস্তারের প্রশ্ন ;

দাখিলকৃত আবেদনে কয়েকটি নির্দিষ্ট আর্থিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে— ২০০৬-২০১৩ সময়কালে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার অনিয়ম। ২০১০-২০১২ সময়ে জমি বিক্রির মধ্যস্থতায় ব্যক্তিগতভাবে ১৩ কোটির বেশি লাভ। পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেনে বিপুল সম্পদ সঞ্চয়ের অভিযোগ। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজধানীর শহরতলীতে উচ্চমূল্যের আবাসন নির্মাণসহ দেশ-বিদেশে সম্পদ গড়ার তথ্য তদন্তে উঠে আসতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রভাব খাটানোর অভিযোগ :

অভিযোগপত্রে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল-এর নাম উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া এবং সমিতির তহবিল থেকে বিলাসবহুল উপহার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই দাবির স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি।

সমবায় অধিদপ্তরের যাচাই কমিটি—স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন : অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমবায় অধিদপ্তর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি যাচাই কমিটি গঠন করে। ২৪ ফেব্রুয়ারি সমিতির কার্যালয়ে যাচাই কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগকারী প্রশ্ন তুলেছেন—দুদকে দাখিল করা অভিযোগে দুদকের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছাড়া কেবল বিভাগীয় যাচাই কতটা নিরপেক্ষ হবে ? বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অভিযোগগুলো ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, তাহলে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান দুদকের অধীনেই হওয়া উচিত।

নথি বলছে কী ? অভিযোগে একাধিক স্মারক নম্বর, অডিট রিপোর্ট, যুগ্ম নিবন্ধকের তদন্ত প্রতিবেদন এবং আদালতে বিচারাধীন বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি—কিছু প্রতিবেদনে আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট সব নাম প্রকাশ হয়নি এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এখন প্রশ্ন : সমবায় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ কি সত্য?সদস্য বহির্ভূত আমানত গ্রহণের বিষয়টি কি প্রমাণিত হবে? আত্মসাৎ ও সম্পদ সঞ্চয়ের অভিযোগের আর্থিক ট্রেইল কি মিলবে? দুদক কি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শুরু করবে?

অভিযুক্তের বক্তব্য অপেক্ষমাণ :

এই প্রতিবেদনের জন্য আগস্টিন পিউরিফিকেশন ও সমিতির বর্তমান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে। দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলো কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশ্ন নয়; এটি সদস্যদের আস্থা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সমবায় খাতের সুশাসনের প্রশ্ন।  অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয়—তাহলে নিরপেক্ষ তদন্তেই তা প্রমাণিত হবে। আর যদি সত্য হয়—তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই হবে ন্যায়বিচারের একমাত্র পথ।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

অবসর নিতে চান মির্জা ফখরুল, মহাসচিব পদে ‘পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত।

সমবায় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোটি টাকার লেনদেন : আগস্টিন পিউরিফিকেশনকে ঘিরে দুদক তদন্তের দাবি জোরালো। 

আপডেট সময় : ১১:২৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

 

ঢাকা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের কষ্টার্জিত অর্থে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী আর্থিক প্রতিষ্ঠান দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডকে ঘিরে উঠেছে বিস্ফোরক অভিযোগ। সাবেক চেয়ারম্যান আগস্টিন পিউরিফিকেশনের বিরুদ্ধে সমবায় আইন লঙ্ঘন, অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম, শতকোটি টাকার সম্পদ গঠন এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এনে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ।

অভিযোগকারী সাবেক সদস্য অমূল্য লরেন্স পেরেরা দাবি করেছেন “এক দশকের বেশি সময় ধরে সমিতিকে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে রেখে আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।”

আইন ভেঙে চতুর্থ মেয়াদ ?

সমবায় সমিতি আইন ২০০১ (সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩) অনুযায়ী একটানা তিন মেয়াদের বেশি কোনো সদস্য ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নির্বাচিত হতে পারেন না। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আগস্টিন পিউরিফিকেশন ২০২২-২০২৫ মেয়াদে চতুর্থবার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে এটি সরাসরি আইনের ১৮(৮) ধারার লঙ্ঘন। প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে এই মেয়াদ অনুমোদন পেল? সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও দেখা দিয়েছে সন্দেহ।

‘হাউজিং’ না ‘অঘোষিত ব্যাংক’?

অভিযোগে বলা হয়েছে, সমিতি সদস্য বহির্ভূত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত গ্রহণ এবং উচ্চ সুদে লেনদেন পরিচালনা করছে—যা সমবায় আইনের ২৩(খ) ও ২৬ ধারার পরিপন্থী। দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১১টি প্রাথমিক সমিতি এবং বহু ব্যক্তি উচ্চ মুনাফার আশায় এখানে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। যদি তা সত্য হয়, তবে এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কার্যত ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনার শামিল—যার শাস্তি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

ফ্ল্যাট-প্লট বিক্রিতে উপ-আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ : ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে।

অভিযোগে বলা হয়েছে—

ফ্ল্যাট সংখ্যা: ২,১৩৮টি, বিক্রি: ১২৬টি, প্লট সংখ্যা: ৪,৭০৮টি এবং বরাদ্দ: ১,৪১২টি,

অভিযোগকারীর দাবি, সদস্যদের বাইরে বিপুল সংখ্যক ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রি করে সমিতির মূল উদ্দেশ্যকে পাশ কাটানো হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং উপ-আইন লঙ্ঘিত হয়েছে।

আত্মসাৎ ও সম্পদ বিস্তারের প্রশ্ন ;

দাখিলকৃত আবেদনে কয়েকটি নির্দিষ্ট আর্থিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে— ২০০৬-২০১৩ সময়কালে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার অনিয়ম। ২০১০-২০১২ সময়ে জমি বিক্রির মধ্যস্থতায় ব্যক্তিগতভাবে ১৩ কোটির বেশি লাভ। পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেনে বিপুল সম্পদ সঞ্চয়ের অভিযোগ। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজধানীর শহরতলীতে উচ্চমূল্যের আবাসন নির্মাণসহ দেশ-বিদেশে সম্পদ গড়ার তথ্য তদন্তে উঠে আসতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রভাব খাটানোর অভিযোগ :

অভিযোগপত্রে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল-এর নাম উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া এবং সমিতির তহবিল থেকে বিলাসবহুল উপহার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই দাবির স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি।

সমবায় অধিদপ্তরের যাচাই কমিটি—স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন : অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমবায় অধিদপ্তর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি যাচাই কমিটি গঠন করে। ২৪ ফেব্রুয়ারি সমিতির কার্যালয়ে যাচাই কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগকারী প্রশ্ন তুলেছেন—দুদকে দাখিল করা অভিযোগে দুদকের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছাড়া কেবল বিভাগীয় যাচাই কতটা নিরপেক্ষ হবে ? বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অভিযোগগুলো ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, তাহলে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান দুদকের অধীনেই হওয়া উচিত।

নথি বলছে কী ? অভিযোগে একাধিক স্মারক নম্বর, অডিট রিপোর্ট, যুগ্ম নিবন্ধকের তদন্ত প্রতিবেদন এবং আদালতে বিচারাধীন বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি—কিছু প্রতিবেদনে আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট সব নাম প্রকাশ হয়নি এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এখন প্রশ্ন : সমবায় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ কি সত্য?সদস্য বহির্ভূত আমানত গ্রহণের বিষয়টি কি প্রমাণিত হবে? আত্মসাৎ ও সম্পদ সঞ্চয়ের অভিযোগের আর্থিক ট্রেইল কি মিলবে? দুদক কি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শুরু করবে?

অভিযুক্তের বক্তব্য অপেক্ষমাণ :

এই প্রতিবেদনের জন্য আগস্টিন পিউরিফিকেশন ও সমিতির বর্তমান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে। দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলো কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশ্ন নয়; এটি সদস্যদের আস্থা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সমবায় খাতের সুশাসনের প্রশ্ন।  অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয়—তাহলে নিরপেক্ষ তদন্তেই তা প্রমাণিত হবে। আর যদি সত্য হয়—তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই হবে ন্যায়বিচারের একমাত্র পথ।