ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
গফরগাঁও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ঢাবি অধ্যাপক জামাল উদ্দীন। শেখ সেলিমের একান্ত লোক এখন সারজিস আলমের ডোনার:  নৌপরিবহন অধিদপ্তরে শীপ সার্ভেয়ার মাহবুবুর রশীদ মুন্নার দুর্নীতির রাজত্ব চলছে। মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত। প্রকৌশলীকে বদলী করার ক্ষমতা নাকি মন্ত্রী ও সচিবের নেই: মাগুরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে এক প্রকৌশলীর ৬ বছরের দুর্নীতির রাজত্ব! শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র পৃথক দুই অভিযানে ভারতীয় মাদকসহ আটক ১। ধামরাই গ্যাসের বিস্ফোরণে দম্পতি দগ্ধ, স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর। চট্টগ্রামের সাবেক এমপি মুজিবের বাসায় গুলি: লুট হওয়া অস্ত্রসহ ৩ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার। মালিক বিহীন ২২ বোতল ভারতীয় মদ আটক। লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ঠেকাতে আগামীর বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের আশু সংস্কার প্রয়োজন।

ধামরাই গ্যাসের বিস্ফোরণে দম্পতি দগ্ধ, স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর।

সম্রাট আলাউদ্দিন,ধামরাই (ঢাকা)ঢাকার ধামরাই পৌরসভার কিষাণ নগর এলাকায় চুলার গ্যাস থেকে বিস্ফোরণে এক দম্পতি দগ্ধ হয়েছেন। এরমধ্যে স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর। দগ্ধরা হলেন- সুমনা বাদশা (৪৫) ও তার স্বামী বাদশা মিয়া (৫৫)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ধামরাই পৌরসভার কিষাণ নগর এলাকায় একটি দোতলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ঘটনার সূত্রপাতস্থলের ভবনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, রাতে চা তৈরি করতে গিয়ে চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলা চালু থাকায় জমে থাকা গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে আসতেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কক্ষের জানালার কাঁচসহ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর কক্ষে থাকা গৃহবধূ গুরুতর অন্তত ৮৫ ভাগ দগ্ধ হন। এছাড়া তার স্বামীর দুই হাতসহ অন্তত ২০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার পরপরই সেখানে ছুটে যান নুরুল ইসলাম নামে এক প্রতিবেশী। তিনি বলেন, আজ বাদশার বাড়িতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা সবাই রোজার মধ্যে ছিলাম, কেউ নামাজে ব্যস্ত, কেউ অন্য কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ করে একটি বিকট শব্দ হয়। আশপাশের মানুষ প্রথমে বুঝতে পারেনি শব্দটি কিসের। পরে সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করে, এদিক-ওদিক ছুটতে থাকে। এরপর গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। জানালাগুলো ভেঙে গেছে। জানালার কাচ ভেঙে পড়ার বিকট শব্দ হচ্ছিল। এ ঘটনায় এই বাড়ির মালিক বাদশার হাতে আঘাত লেগেছে। আর তার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ। পরে যখন তাদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ি এলো আমরা তাকে গাড়িতে উঠাই। প্রায় ১০-১২ জন মিলে তাকে ধরাধরি করে তুলতে হয়। ধরার সময় বোঝা যাচ্ছিল, তিনি প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। এত ব্যথা যে তিনি তা সহ্য করতে পারছিলেন না।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা অসীম ঘোষ বলেন, আমার বাসা পাশেই। আমি যখন শব্দটা শুনি, তখনই দৌড়ে সেখানে যাই। গিয়ে প্রথমে ঠিক বুঝতে পারিনি কী ঘটেছে। শুরুতে শুনলাম গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে আবার শুনলাম বিষয়টা নাকি তা নয়। তারপর গিয়ে দেখি, পুরো রান্নাঘরের অবস্থা খারাপ এবং জানালাগুলো ভেঙে গেছে। তখন আশপাশের লোকজন বলছিল, লাইনের গ্যাসের চুলা হয়তো অন ছিল। চুলা অন থাকার কারণে রুমের ভেতরে গ্যাস জমে গিয়েছিল। পরে যখন আগুন ধরা হয়, তখনই বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে। বাদশা কাকার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা সবাই মিলে তাকে ধরাধরি করে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠাই। তখন দেখি তার মুখ একদম ঝলসে গেছে এবং শরীরের অবস্থাও খুব একটা ভালো না। এইমাত্র টেলিফোনে খবর পেলাম, সেখানেও তার অবস্থা খুবই খারাপ। এ ঘটনায় বাদশা কাকার হাতও পুড়ে গেছে। তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি এখন এনাম মেডিকেলে আছেন।

ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আল আমিন খান বলেন, আমরা রাত প্রায় ১০টার দিকে খবর পাই যে একটি বাসাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে রেসপন্স করি। পরে জানতে পারি, সেখানে আসলে কোনো আগুন ছিল না; তবে গ্যাসের লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল বা কোথাও লিকেজ ছিল। খবর পাওয়ার সাত মিনিটের মধ্যে আমাদের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। সেখানে গিয়ে আমরা গ্যাসের রাইজারটি বন্ধ করে দিই। তার আগে স্থানীয় লোকজন ও উপস্থিত সাংবাদিকরা আমাদের জানান, এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নারী প্রায় শতভাগ দগ্ধ হয়েছেন এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় একটি গাড়িতে করে আহত দুজনকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পারি। আমাদের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেতর ও বাইরের যে গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল, সেই দুইটি লাইনই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

গফরগাঁও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা।

ধামরাই গ্যাসের বিস্ফোরণে দম্পতি দগ্ধ, স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর।

আপডেট সময় : ০১:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

সম্রাট আলাউদ্দিন,ধামরাই (ঢাকা)ঢাকার ধামরাই পৌরসভার কিষাণ নগর এলাকায় চুলার গ্যাস থেকে বিস্ফোরণে এক দম্পতি দগ্ধ হয়েছেন। এরমধ্যে স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর। দগ্ধরা হলেন- সুমনা বাদশা (৪৫) ও তার স্বামী বাদশা মিয়া (৫৫)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ধামরাই পৌরসভার কিষাণ নগর এলাকায় একটি দোতলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ঘটনার সূত্রপাতস্থলের ভবনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, রাতে চা তৈরি করতে গিয়ে চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলা চালু থাকায় জমে থাকা গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে আসতেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কক্ষের জানালার কাঁচসহ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর কক্ষে থাকা গৃহবধূ গুরুতর অন্তত ৮৫ ভাগ দগ্ধ হন। এছাড়া তার স্বামীর দুই হাতসহ অন্তত ২০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার পরপরই সেখানে ছুটে যান নুরুল ইসলাম নামে এক প্রতিবেশী। তিনি বলেন, আজ বাদশার বাড়িতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা সবাই রোজার মধ্যে ছিলাম, কেউ নামাজে ব্যস্ত, কেউ অন্য কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ করে একটি বিকট শব্দ হয়। আশপাশের মানুষ প্রথমে বুঝতে পারেনি শব্দটি কিসের। পরে সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করে, এদিক-ওদিক ছুটতে থাকে। এরপর গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। জানালাগুলো ভেঙে গেছে। জানালার কাচ ভেঙে পড়ার বিকট শব্দ হচ্ছিল। এ ঘটনায় এই বাড়ির মালিক বাদশার হাতে আঘাত লেগেছে। আর তার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ। পরে যখন তাদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ি এলো আমরা তাকে গাড়িতে উঠাই। প্রায় ১০-১২ জন মিলে তাকে ধরাধরি করে তুলতে হয়। ধরার সময় বোঝা যাচ্ছিল, তিনি প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। এত ব্যথা যে তিনি তা সহ্য করতে পারছিলেন না।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা অসীম ঘোষ বলেন, আমার বাসা পাশেই। আমি যখন শব্দটা শুনি, তখনই দৌড়ে সেখানে যাই। গিয়ে প্রথমে ঠিক বুঝতে পারিনি কী ঘটেছে। শুরুতে শুনলাম গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে আবার শুনলাম বিষয়টা নাকি তা নয়। তারপর গিয়ে দেখি, পুরো রান্নাঘরের অবস্থা খারাপ এবং জানালাগুলো ভেঙে গেছে। তখন আশপাশের লোকজন বলছিল, লাইনের গ্যাসের চুলা হয়তো অন ছিল। চুলা অন থাকার কারণে রুমের ভেতরে গ্যাস জমে গিয়েছিল। পরে যখন আগুন ধরা হয়, তখনই বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে। বাদশা কাকার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা সবাই মিলে তাকে ধরাধরি করে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠাই। তখন দেখি তার মুখ একদম ঝলসে গেছে এবং শরীরের অবস্থাও খুব একটা ভালো না। এইমাত্র টেলিফোনে খবর পেলাম, সেখানেও তার অবস্থা খুবই খারাপ। এ ঘটনায় বাদশা কাকার হাতও পুড়ে গেছে। তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি এখন এনাম মেডিকেলে আছেন।

ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আল আমিন খান বলেন, আমরা রাত প্রায় ১০টার দিকে খবর পাই যে একটি বাসাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে রেসপন্স করি। পরে জানতে পারি, সেখানে আসলে কোনো আগুন ছিল না; তবে গ্যাসের লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল বা কোথাও লিকেজ ছিল। খবর পাওয়ার সাত মিনিটের মধ্যে আমাদের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। সেখানে গিয়ে আমরা গ্যাসের রাইজারটি বন্ধ করে দিই। তার আগে স্থানীয় লোকজন ও উপস্থিত সাংবাদিকরা আমাদের জানান, এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নারী প্রায় শতভাগ দগ্ধ হয়েছেন এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় একটি গাড়িতে করে আহত দুজনকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পারি। আমাদের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেতর ও বাইরের যে গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল, সেই দুইটি লাইনই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।