ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
১৫০০ কোটিতে “নগদ” বিক্রি, ক্রেতা আবুল খায়ের। কক্সবাজার আয়কর অফিসের সাবেক প্রধান সহকারী মোঃ ছাবের আহমদের দাফন সম্পন্ন। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও আমু’র মুক্তির দাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নে পোস্টারিং। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অসহায় পরিবারকে ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান।। পঞ্চগড়ের কৃতী সন্তান খুকৃবি শিক্ষার্থী মারুফের বিস্ময়কর উদ্ভাবন : CGPA Tracker App  বিআইডব্লিউটিএর আরিফ উদ্দিনের অবৈধ সিন্ডিকেট, হাজার কোটি টাকার লুটপাটের মহোৎসব। অবৈধ দখল-বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ভয়াবহ চিত্র। আদিতমারীতে নারীকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। আমতলীতে এতিম মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, পাষণ্ড খালু গ্রেপ্তার। বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত। নিহতের চারজন একই পরিবারের। চট্টগ্রামের বায়েজীদে দেয়াল ধসে শিশুমৃত্যু: অবৈধ পলিথিন কারখানা ঘিরে ক্ষোভ ও আতঙ্ক।

জ্বালানি সংকটে মোংলা বন্দরে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস ব্যাহত।  ‎

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • ১১০ জন সংবাদটি পড়েছেন

মোংলা বন্দরে বানিজ্যিক জাহাজে জ্বালানি সংকটের কারণে পণ্য খালাস করে আনলোড করতে পারছে না অধিকাংশ লাইটার জাহাজে।

‎পর্যাপ্ত জ্বালানী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের ভোগান্তি চরমে।

‎যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তেল-গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে বলে দাবি করছে কেউ কেউ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে জ্বালানি সংকটের কারণে বড় জাহাজ অর্থাৎ মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করতে পারছে না অধিকাংশ লাইটার জাহাজ। তেলের সংকট স্বাভাবিক না হলে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। এর প্রভাব পড়তে পারে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ও অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য সরবরাহের কাজে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বন্দরের কাজে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। আবার রফতানি পণ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত বেসরকারি ডিপোতেও এই প্রভাব পড়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ডিপো পরিচালনাকারীরা।

‎‎মোংলা বন্দরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোংলা বন্দরের বহির্নোঙরে বিদেশ থেকে আসা বড় জাহাজগুলো ড্রাফটের কারণে জেটিতে কিংবা পশুর চ্যানেলে ভিড়তে পারে না। লাইটার জাহাজের মাধ্যমে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে তা জেটি ও দেশের বিভিন্ন নদী বন্দরে পাঠানো হয়। বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন করা প্রায় এক হাজার লাইটার জাহাজের ওপর নির্ভরশীল দেশের পণ্য পরিবহন নেটওয়ার্ক।

‎‎সম্প্রতি জ্বালানি সংকটে বিপাকে পড়েছে এসব লাইটার জাহাজ। তেল বিপণন কোম্পানিগুলো রেশনিং করার ফলে অনেক জাহাজ প্রয়োজনীয় তেল না পেয়ে অচল হয়ে পড়েছে। লাইটার জাহাজ মালিকের অভিযোগ, ডিপেগুলো আগের মতো ডিজেল না দেওয়ায় তেলের সংকটে অলস বসে আছে জাহাজগুলো।

‎মোংলা বন্দরের লাইটার জাহাজের মালিকরা বলেন, ‘বন্দরের ফেয়ারওয়ে এলাকায় অবস্থানরত বিদেশি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের জন্য আমার লাইটার জাহাজ ভাড়া চাওয়া হয়। ফেয়ারওয়ে এলাকা মোংলা থেকে ১৩১ কিলোমিটার দূরে। সেই নৌপথে যাওয়া এবং আসার জন্য ১৮০০ থেকে দুই হাজার লিটার জ্বালানি (ডিজেল) তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডিপো থেকে সেই তেল না পাওয়ায় আমা জাহাজ ফেয়ারওয়েতে যেতে পারেনি। এ রকম শতাধিক লাইটার জাহাজ তেল সংকটে পড়ে আছে।’

‎‎বন্দরের লাইটার মালিকরা আরো বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সংকটে কোনও লাইটার জাহাজ পণ্য নিয়ে কলকাতায় যেতে পারছে না। আমার আরেকটি জাহাজ ফেয়ারওয়েতে অবস্থান করা জাহাজ থেকে সারবোঝাই করে সেখানে অবস্থান করছে। জ্বালানি তেলের সংকটে সেখান থেকে ছেড়ে আসতে পারছে না। এভাবে চললে বন্দরের কাজে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে।’

‎‎একই অবস্থা বন্দরের প্রায় সব লাইটার জাহাজের। তেলের সংকটে বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে পারছেন না বন্দরের ব্যবসায়ীরা। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

‎মোংলা বন্দর ব্যবহারকারীরা বলেন, ‘তেল সংকটে কোনও লাইটার জাহাজ চলাচল করছে না। ফেয়ারওয়েতে থাকা একটি বড় জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করতে পারছি না। এতে আমরা ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। কবে এর সমাধান হবে তাও জানি না।’

‎তেলের সংকট স্বাভাবিক না হলে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা

‎মোংলা বন্দরের লাইটার জাহাজের মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব হলে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া গুনতে হবে। আবার পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে গেলে প্রভাব পড়বে বাজার মূল্যের ওপর। তাই জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে গেলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও বাজার সরবরাহ ব্যবস্থায়। দ্রুত জ্বালানি তেলের সংকট সামাল দিতে না পারলে মোংলা বন্দর অচল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

‎লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) আহ্বায়ক সফিক আহমেদ ৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক লাইটার জাহাজ কর্ণফুলীতে পণ্য নিয়ে ভাসছে, গন্তব্যে যেতে পারছে না। চিঠিতে বন্দর থেকে নদীপথে পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫০০ কোটিতে “নগদ” বিক্রি, ক্রেতা আবুল খায়ের।

জ্বালানি সংকটে মোংলা বন্দরে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস ব্যাহত।  ‎

আপডেট সময় : ০৭:৫০:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

মোংলা বন্দরে বানিজ্যিক জাহাজে জ্বালানি সংকটের কারণে পণ্য খালাস করে আনলোড করতে পারছে না অধিকাংশ লাইটার জাহাজে।

‎পর্যাপ্ত জ্বালানী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের ভোগান্তি চরমে।

‎যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তেল-গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে বলে দাবি করছে কেউ কেউ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে জ্বালানি সংকটের কারণে বড় জাহাজ অর্থাৎ মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করতে পারছে না অধিকাংশ লাইটার জাহাজ। তেলের সংকট স্বাভাবিক না হলে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। এর প্রভাব পড়তে পারে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ও অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য সরবরাহের কাজে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বন্দরের কাজে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। আবার রফতানি পণ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত বেসরকারি ডিপোতেও এই প্রভাব পড়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ডিপো পরিচালনাকারীরা।

‎‎মোংলা বন্দরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোংলা বন্দরের বহির্নোঙরে বিদেশ থেকে আসা বড় জাহাজগুলো ড্রাফটের কারণে জেটিতে কিংবা পশুর চ্যানেলে ভিড়তে পারে না। লাইটার জাহাজের মাধ্যমে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে তা জেটি ও দেশের বিভিন্ন নদী বন্দরে পাঠানো হয়। বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন করা প্রায় এক হাজার লাইটার জাহাজের ওপর নির্ভরশীল দেশের পণ্য পরিবহন নেটওয়ার্ক।

‎‎সম্প্রতি জ্বালানি সংকটে বিপাকে পড়েছে এসব লাইটার জাহাজ। তেল বিপণন কোম্পানিগুলো রেশনিং করার ফলে অনেক জাহাজ প্রয়োজনীয় তেল না পেয়ে অচল হয়ে পড়েছে। লাইটার জাহাজ মালিকের অভিযোগ, ডিপেগুলো আগের মতো ডিজেল না দেওয়ায় তেলের সংকটে অলস বসে আছে জাহাজগুলো।

‎মোংলা বন্দরের লাইটার জাহাজের মালিকরা বলেন, ‘বন্দরের ফেয়ারওয়ে এলাকায় অবস্থানরত বিদেশি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের জন্য আমার লাইটার জাহাজ ভাড়া চাওয়া হয়। ফেয়ারওয়ে এলাকা মোংলা থেকে ১৩১ কিলোমিটার দূরে। সেই নৌপথে যাওয়া এবং আসার জন্য ১৮০০ থেকে দুই হাজার লিটার জ্বালানি (ডিজেল) তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডিপো থেকে সেই তেল না পাওয়ায় আমা জাহাজ ফেয়ারওয়েতে যেতে পারেনি। এ রকম শতাধিক লাইটার জাহাজ তেল সংকটে পড়ে আছে।’

‎‎বন্দরের লাইটার মালিকরা আরো বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সংকটে কোনও লাইটার জাহাজ পণ্য নিয়ে কলকাতায় যেতে পারছে না। আমার আরেকটি জাহাজ ফেয়ারওয়েতে অবস্থান করা জাহাজ থেকে সারবোঝাই করে সেখানে অবস্থান করছে। জ্বালানি তেলের সংকটে সেখান থেকে ছেড়ে আসতে পারছে না। এভাবে চললে বন্দরের কাজে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে।’

‎‎একই অবস্থা বন্দরের প্রায় সব লাইটার জাহাজের। তেলের সংকটে বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে পারছেন না বন্দরের ব্যবসায়ীরা। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

‎মোংলা বন্দর ব্যবহারকারীরা বলেন, ‘তেল সংকটে কোনও লাইটার জাহাজ চলাচল করছে না। ফেয়ারওয়েতে থাকা একটি বড় জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করতে পারছি না। এতে আমরা ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। কবে এর সমাধান হবে তাও জানি না।’

‎তেলের সংকট স্বাভাবিক না হলে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা

‎মোংলা বন্দরের লাইটার জাহাজের মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব হলে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া গুনতে হবে। আবার পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে গেলে প্রভাব পড়বে বাজার মূল্যের ওপর। তাই জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে গেলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও বাজার সরবরাহ ব্যবস্থায়। দ্রুত জ্বালানি তেলের সংকট সামাল দিতে না পারলে মোংলা বন্দর অচল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

‎লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) আহ্বায়ক সফিক আহমেদ ৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক লাইটার জাহাজ কর্ণফুলীতে পণ্য নিয়ে ভাসছে, গন্তব্যে যেতে পারছে না। চিঠিতে বন্দর থেকে নদীপথে পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়।