গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি গেজেটভুক্ত জমির খাজনা কাটার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আইন অনুযায়ী খারিজ (নামজারি) ছাড়া সরকারি খাস জমির খাজনা কাটার কোনো সুযোগ না থাকলেও, জমির খাজনা কেটে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাপাসিয়া উপজেলার আড়াল মৌজার জোত নং ৬৯৬, আরএস দাগ নং ৯৬৪-এর ১.৪৫ একর জমি সরকারি “ক” গেজেটভুক্ত। গেজেট নং ১৬৭৯৩ এবং ক্রমিক নং ১৮৮ অনুযায়ী এই জমি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন। কিন্তু শ্রীপুরের রাজাবাড়ী ভূমি অফিসে কর্মরত আনোয়ার নামের এক অফিস সহায়ক এই জমির খাজনা কাটার অনুমোদন দিয়েছেন পরপর সাতটি দাখিলায়। যা ১০ লাখ টাকার বেশি চুক্তিভুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী আরও জানান, আনোয়ার মাত্র অষ্টম শ্রেণী পাস করে চাকরিতে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে এসএসসি ও এইচএসসি ডিগ্রি অর্জনের অনুমতি ও সার্ভিস বুক এন্ট্রি না থাকার বিষয়টি রহস্যজনক। সরকারি বিধি অনুযায়ী, শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সার্ভিস বুক এন্ট্রি বাধ্যতামূলক।
ঘটনাটি ২০২৪ সাল থেকে গাজীপুরের অডিট টিমের সুপার সাইফুল এর নজরে থাকলেও তিনি নাকি নিরবতা পালন করে আসছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভের সীমা নেই। স্থানীয়দের ভাষ্য, “যাদের দায়িত্ব সরকারি জমি রক্ষা করা, তারাই যদি এভাবে জমি বেহাত করে দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে ন্যায় বিচার পাবে?”
এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা । তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি গেজেটভুক্ত জমির খাজনা কাটা গুরুতর অনিয়ম। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের নিরবতার কারণ উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অডিট টিমের সুপার সাইফুল কেন এতদিন নীরব ছিলেন, তা খতিয়ে দেখারও দাবি উঠেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























